সুখ

করিম চাচার বউ একদিন কান্না করতে করতে আমাদের বাড়ি আসলো। কোলে তাঁহার ৫-৬ মাসের বাচ্চা হবে। কোলের মেয়ে'টা দেখতে একদমই পুতুলের মতো৷ অবশ্য চাচিও অনেক সুন্দর। তাই সব মেয়ে গুলো চাচির মতোই হয়েছে।তখন  আগের দিন রাতে বাড়ি আসছি ঢাকা থেকে৷ সকালে চাচির কান্নার স্বরে রুম থেকে বের হলাম। করিম চাচা আমাদের প্রতিবেশী, আমার বাবাকে ভাই ডাকে। তাই  ছোটোবেলা থেকে চাচা ডেকে আসছি। আমি চাচির কাছে গেলাম, মা সান্ত্বনা  দিচ্ছে। কি নিয়ে কান্না করছে সেটা জানি না। 

আমি চাচির কান্নার ভেতর বললাম, "চাচি কি হয়েছে? কোন সমস্যা নাকি? কান্না করছেন কেনো। পিচ্চিও কান্না করছে। "

আমার কথা শুনে চাচি আরো জোরে জোরে কান্না করছে। যেনো আমি তাঁর, মনে আরো আঘাত করলাম। এই অবস্থা আর কিছু বলার ইচ্ছে হলো না। আমি নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর চাচি চোখের পানি মুছে বলতে শুরু করলো। 

"জানো রানা,আমার জীবনে হয়তো কোন পাপ করছি৷ সেটার ফল ভোগ করছি এখন। আল্লাহ আমার কোন কথা শুনে না হয়তো৷ আমার পাপের কারণে৷ "

এতটুকু বলেই আবার চোখের পানি ছাড়তে শুরু করলো। চাচির চোখের পানি দেখে মনে খুব মায়া হচ্ছে। 
 আমি সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, চাচি সব খুলে বলেন। 

চাচি এবার কান্না থামিয়ে বলে, 
"রানা এই দেখো৷ আমার পুরো হাতে  আঘাতের দাগ।তোমার চাচা মরলো । আমার দোষ আমার কোলে ছেলে নাই। আমি নাকি ছেলে জন্ম দিতে পারি না। আমার ৪টা মেয়ে। সবাই নাকি তোমার চাচাকে নানান কথা বলে। বিয়ে হতে হলে দু-লাখ করে খরচ করলেও, আট লাখ টাকা। কোথায় পাবো আমরা। আমাদের দিন এনে খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। অল্প একটু ধানের জমি। ওটা বিক্রি করলে বড়জোর একটার বিয়ে দিতে পারবো। মেয়ে হয়েছে সব, তাই এত খরচ। এটার জন্য আমাকেই দোষ দিচ্ছে।"

আমি কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছি৷ সবাই চুপ করে আছি। 
করিম চাচার চার'টা মেয়ে। বড় মেয়ে বয়স এখন ১৭-১৮ হবে। ছোট গুলো ২-৩ বছর করে ছোট করে একজন থেকে। ৩ মেয়ে বড় হওয়ার পরও আশা করলো, হয়তো চতুর্থবার ছেলে হবে। সর্বশেষও মেয়ে। 

আমি চাচি'কে বললাম, "আসলে চাচি ডাক্তারি ভাষায় বুঝাতে পারবো না আপনাকে৷ ছেলে মেয়ে যেটাই হোক। সবই পুরুষের জন্য হয়। মেয়েদের এতে কোন হাত থাকে না। আর মেয়েদের পড়াশোনা করালে তারাও ছেলেদের চেয়ে বেশি করবে৷ সবাইকে পড়াশোনা করান। বিয়ের চিন্তা এখন আসলো কোথায় থেকে। আর আঘাত করা এটা খারাপ দিক। "

চাচি বলে," আসলে বাবা। আমরা মুর্খ মানুষ এত কিছু বুঝি না। পড়াশোনা করবো কি করে৷ একটা মেয়ে হলে খরচ টানা সম্ভব। মেয়েও বড় হয়েছে বিয়ে দিতে হবে৷ গত সপ্তাহে রিপার জন্য বিয়ে আসছে। আর পণ হিসাবে চাইলো একটা মটর সাইকেল আর ২লাখ টাকা। মানুষও খাওয়াতে হবে৷ এইসব নিয়ে টেনশন করেই তোমার চাচা গায়ে হাত তুলে ৩-৪ দিন ধরে৷ "

আমি চাচিকে বললাম, "আচ্ছা চাচি, আমি চাচার সাথে কথা বলবো।"

আমার রুমে আমি চলে আসলাম৷ দিন'টা আর দেখি নাই চাচিকে৷ বিকালে বাড়ির সামনেই করিম চাচাকে পেয়ে গেলাম। আমাকে দেখেই ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করলো। যা সব সময়ই করে। 

"চাচা,আপনি নাকি চাচির গায়ে হাত তুলেন?  পুরুষ মানুষ কখনো এমন করে?  "

চাচার আমার কথা শুনে একটু লজ্জা পেয়েই গেলো। করিম চাচা বলে, "আমার মেয়ে হচ্ছে। ছেলে নাই। সেটা নিয়ে একটু রাগারাগি "

"চাচা,এতে চাচির কোন দোষ নেই। ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে এটা পুরুষের উপর নির্ভর করে। আর এতদিন পর এসে কেনো হাত তুলেন। মেয়েদের পড়াশোনা করান। তাঁরা আপনাকে দেখাশোনা করবে৷ ছেলেদের চেয়ে কম নয়। "

করিম চাচা সেই দিন বলে, "আসলে মেয়েদের নিয়ে আমার সমস্যা নাই। সবাই আমাকে দেখলে বলে এত টাকা কই পাবো। মেয়ে বিয়ে দিতে খরচ। আর বেশি আয় নেই আমাদের। মেয়েদের খরচ বেশি। আমরা কোন রকম ছেঁড়া কাপড়ে দিন পার করলেও৷ এমন যুবতী মেয়ে ঘরে, কি করে এরা চলবে ছেড়া কাপড়ে৷ ভাবছি বিয়ে দিয়ে দিবো। বড় মেয়ে'টা একটু সুখী হবে। ছোট গুলো বড় হতে হতে কিছু করবো। যাতে সবাই ভালো থাকি। সেটাও হলো না। এত টাকা যৌতুক কি করে দিবো! "

জবাবে বললাম, "এখন কেউ যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিতে হয় না। যদি মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যায়৷ ভালো ছেলে দেখে পরে দিতে পারবেন। টাকা লাগবে না৷ আর মেয়ে মানেই বোঝা নয়৷"
আর কত কি বললাম......

করিম চাচা বলে,"আসলে যৌতুকের টাকা কি করে জোগাড় করবো? সেটার টেনশনে রাগে তোমার চাচির গা হাত তুলে ফেলছি৷ দোকানপাট ও প্রতিবেশী সবাই এটাই বলে মেয়ে দিতে এত টাকা কই পাবে৷ ছেলে ছাড়া কে দেখবে আমাদের৷ আর মেয়ে নাকি কারো সাথে পালাই যাবে। সময়মতো বিয়ে না দিলে, আরো কত কথা শুনতে হয়। কি করবো বুঝতে পারছি না । নিজের মনকে যতোই সান্ত্বনা দেই। প্রতিবেশী ও চারপাশের মানুষ ভালো থাকতে দেয় না। "

করিম চাচা এইসব বলে চোখের পানি ছেড়ে দিলো। একটা পুরুষ জানি কখনো কম কষ্টে কান্না করে না। একজন মেয়ের পিতা, মেয়ে বড় হলে কেমন চিন্তা করে। অন্য মানুষরা সেটা জানে না। 

আমি বললাম, "মেয়েদের পড়াশোনা করান। মেয়েরা আপনাকে দেখবে। আর ভালো ছেলেও পাবেন। বিয়ে দিতে। "

করিম চাচা যা বললো, সেটা  আমি আশাও করিনি সেইদিন। কোন মেয়ের বাবা এমন কথা কখনো বলে না। 
চাচা চোখের পানি ছেড়ে বলে," রানা, তুমিই একটা মেয়ে দায়িত্ব নিয়ে নেও৷ আমার কোন ছেলে নাই। ছেলের মতো না হয় তুমিই থাকবে। "

চাচার এই কথার জবাব সেইদিন না দিয়েই বাড়ি চলে আসি।

আমি কেবল পড়াশোনা শেষ করে, চাকুরী নিয়েছি কিছু দিন হবে। বিয়ের কথা চিন্তায় আসে নাই এখন। কথায় আছে, আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই। 

বাড়ি ফিরে দেখি মাও এটা নিয়ে আলোচনা করছে।মেয়েটার বিয়ে হলে ভালো হতো আরো কত কি। 
 

মেয়ে'টা একদম শান্ত প্রকৃতির। একজন মুসলিম নারীর যত ভালো দিক প্রয়োজন থাকে। সব গুলোই রিপার ভিতর ছিলো। ইন্টার পরীক্ষা দিয়েছে তখন। 

দেখতেও খারাপ নয়৷ সারারাত করিম চাচা ও চাচির চোখের পানির দৃশ্য আমার চোখে ভাসে। আমি অনেক ভাবনার পর মনে হলো, রিপা'কে বিয়ে করলে ভালোই হবে। 

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মা'কে ডাক দিয়ে বললাম, আমি রিপা'কে বিয়ে করবো। আর এক টাকাও খরচ করতে হবে না৷ 

মা আমার কথা শুনে বলে, " রিপাকে যদি সত্যিই পছন্দ হয়। বিয়ে করিয়ে দিবো। তুমি পড়াশোনা করছো। আমার চেয়ে ভালোই বুঝো৷ তোমার বাবাকে বলি, দেখি কি বলে"

আমি আগেই জানতাম বাবা-মা দুজনই আমার কথা ফেলবে না। করিম চাচার বউ'কে ডেকে আমার মা বলে, "অন্য জায়গায় ছেলে দেখার দরকার নাই। রানার সাথে রিপাকে ভালোই মানাবে৷ আমরা চাইতেছি রিপাকে ছেলের বউ করবো। "

চাচি সেই দিন যতটা খুশী হয়েছিল কথা'টা শুনে। এমন খুশী থাকা মানুষ আমি আগে কখনো দেখেনি। করিম চাচাকে, চাচি এই খবর'টা দিলে হয়তো ওনিও এরচেয়ে বেশি খুশী হয়েছে৷ 

দুপুর হতেই রিপাকে বউয়ের সাজে সাজানো হলো। আমার মা আমার বউয়ের জন্য একটা  আগেই একটা শাড়ী কিনে রাখছে। একবার ঢাকা নিয়ে গিয়েছিলাম মামার বাসায়। মামির সাথে মার্কেটে গিয়ে শাড়ি কিনে। 

করিম চাচার পরিবার আর আমার ছোট বোন জামাই ও বোন। আর বাড়ির মানুষ সবাইকে নিয়েই। মসজিদের ইমাম বিয়ের কাজ শেষ করেন৷ আমার পরিবারও অনেক খুশী হয় এই বিয়েতে 

পুরো পাড়ার সবাই কানা কষি শুরু করে৷  বিকালে অনেক'কে বলতে শুনলাম, রিপার আর আমার অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। তাই পরিবার এভাবে বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছে। সবাই এই কারন  বললো, রানার বাবার এত টাকা পয়সা থাকতে। এমন পরিবারে কেউ ছেলে বিয়ে করাতো না৷ 

বিয়ের পরের দিন, সমাজের নিয়ম মতো৷ আমি ও রিপা কারিম চাচার বাড়িতে গেলাম৷ চাচি তাঁর সাধ্য মতো ভালো খাবারের ব্যবস্থা করলো৷ আমিতো এমনেও খুশী, রিপার মতো কাউকে পেয়ে। আর আল্লাহর রহমত হয়তো৷ 
করিম চাচা বিকালে আমাকে আলাদা ডেকে বলে,  "বাবা, কখনো এটা রিপা'কে বলো না৷ আমি তোমাকে বিয়ে করতে বলছি যে৷"

আমি বললাম, "আপনার কথায় কিছু হয়নি। আল্লাহর রহমত ছিলো। আমার মন বললো, বিয়ে করলে সুখী হবো৷ তাই বিয়ে করতে চাইছি। "

করিম চাচা বলে,"যা হবার হয়ে গেছে। আমি চাই বাবা, আমার মেয়ে'টা যেনো কখনো কষ্ট না পায়৷ আমি আমার সাধ্য মতো চেয়েছি সুখী রাখতে৷ আমি পারিনি হয়তো অন্য আট-দশটা পরিবারের মতো রাখতে। তবে সর্ব্বোচ্চ রাখতে চাইছি। "

আমি বললাম,"ইনশাআল্লাহ। আমি আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সুখী রাখতে চেষ্টা করবো৷ কখনো চোখের জল আসতে দিবো না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন "

করিম চাচা বলে,"আজ থেকে আমার ছেলের অভাব পুরুন হয়ে গেছে। আমার ছেলে তুমি রানা। আর আমি বলি কি...... "

"জি, বলেন। কোন সমস্যা হলে "

করিম চাচা বলে,"অন্য কোথাও বিয়ে হলেও আমার অনেক কিছু দিতে হতো৷ তোমার পরিবার ও তুমি কিছুই চাও নি। আমি বলি কি, একটা মটর সাইকেল দিবো তোমায়। "

কথা'টা আমার মনে লাগলো। একটু রেগে বললাম, "কি বলেন যা তা। আমাকে মটর সাইকেল দিতে যাবেন কেনো? আমার এইসবের দরকার আছে বলে মনে হয়। থাকি শহরে। নিজের যা আয় করি৷ এতেই আপনার মেয়েকে সুখী করতে পারবো৷ এইসব দিলে  সুখী হবে।  এমন চিন্তা কখনো করতে আসবেন না "

রিপা ততক্ষণে আমাদের কাছে চলে আসছে। আর বলে, "বাবা, ওনি রেগে আছে  কেনো? চোখমুখে রাগের ছাপ "

আমি বললাম, "কিছু হয়নি"

করিম চাচাও যেনো কেমন বোকা হয়ে  গেলো, আমার কথা শুনে।  কয়েকদিন ভালোই গেলো। আমার ছুটি শেষ। তাই ঢাকায় ফিরে আসি৷ 

সব কিছু ঠিকঠাক করে৷ রিপা'কেও ঢাকায় নিয়ে আসি৷ বাড়িতে মা-বাবা দু'জন। আর কাজের লোক আছে৷ তাই টেনশন নাই বাড়ি নিয়ে৷ 
ঢাকায় একটা কলেজে অনার্সে ভার্তি করিয়ে দেই রিপা'কে। দুজনের জীবন ভালোই চলছে৷ 

আমার বেতনের টাকা মা-বাবা'কে দিতে হয় না। বাড়িতে বাবা নিজেদের জমিজমা,মাছের চাষ, ধানের ব্যবসার টাকা দিয়ে সংসার চালিয়ে আরো জমা করতে পারে৷ আমি বেতন পাওয়ার পর। নির্দিষ্ট কিছু টাকা রিপার হাতে দিয়ে বলতাম বাড়িতে দিতে৷ আর রিপা'কে এটাই বলছি, তার পরিবারকে বলতে,"যে আমি তাকে হাত খরচ দিয়েছি, ওটা থেকেই তাঁর মা-বাবাকে দেয় সে৷ "

আমি টাকা দেই শুনলে হয়তো, ওনারা নিজেদেরকে নিজেরদের কাছে ছোট ভাববে৷ 
আমাদের সংসার জীবন ভালোই চলছে৷ বিয়ের ২বছর পর রিপার কোল জুড়ে আসে আমার প্রথম কন্যা সন্তান। 

রিপা বাড়িতে থাকে কিছু দিন।আমার কাছেও থাকে। এভাবে চলতে থাকে জীবন৷ বিয়ের ৫বছরের সময়ই রিপার অনার্স শেষ হয়ে যায়৷ ততদিনে করিম চাচাও চাষাবাদ আর কিছু পশুপালন করে মোটামুটি ভালো অবস্থান হয়ে গেছে। 

রিপার ছোট বোন একটা মেডিকেল কলেজে পড়ে। আরেকটা কলেজে নতুন ভর্তি হয়েছে। সবার ছোট বোন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। 

সব কিছু মিলিয়ে আমাদের দিন ভালোই কাটে। করিম চাচার আমাকে ছেলের মতোই আদর করে৷ আমাদের দু-পরিবার অনেক ভালো সম্পর্ক। এক কথায় আমাদের সবার জীবনে কেবল সুখ। 

বাবার অসুস্থ হয়ে গেছে তখন। তাই আমি চাকুরী ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসি। নিজের সব কিছু দেখাশোনা করি আর গাছের ব্যবসা করি। আমাদের পাহাড়ি এলাকা খাগড়াছড়ি থেকে গাছ নিয়ে যাই শহরে।

বিয়ের ৬বছর পর তখন । রিপা পড়াশোনা করে বসে থাকবে নাকি। তাই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী নিয়ে দিলাম। তাও প্রধান শিক্ষিকা। 

যত টাকা রিপা বেতম পায়, তা থেকে অর্ধেক দিয়ে দেয় তাঁর মা-বাবাকে৷ বাকিটা নিজেই মা-মেয়ে  খরচ করে। আমাকে দিতে চাইতো।  

একদিন আমি বললাম,"আমার যা আয় আছে৷ তাতে আলহামদুলিল্লাহ। এটা তোমার কষ্টের টাকা। তুমি নিজের মতো খরচ করো৷ এটায় আমার কোন অভিযোগ নাই৷ আমি তোমাকে ভালোবাসি৷ তুমি ভালোবাসে দিয়ে সারাজীবন সাথেই থেকো।"

সেইদিন রিপা আমার বুকে মাথা রেখে চোখের জল ফেলেছে। আর বলে, "আমিও আপনাকে অনেক ভালোবাসি। আল্লাহ যেনো আমি বেঁচে থাকতে আপনাকে আমার থেকে না নেয়৷ আপনার আগে আমি মরতে চাই৷ যেনো জীবনের শেষ সময় আপনার সাথেই ছিলাম৷ এটাই চাওয়া। "

পাগলির ভালোবাসা দেখে অনেক শুকরিয়া আদায় করি। আল্লাহ যা করলো ভালোর জন্যই। এমন স্ত্রী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার৷ 

রিপার  টাকা দেওয়া দেখেও প্রতিবেশী বলতো, করিম মিয়ার লজ্জা নাই। মেয়ের জমাই বাড়ির টাকা খায়। 

আমি একদিন চাচাকে বললাম, "এতে মন খারাপ করার কিছু নেই৷ এই টাকা আপনার মেয়ের কষ্টের। আমার না। এটায় আপনি মন খারাপ করবেন না। আপনার মেয়ের টাকা আপনি খাবেন। মানুষের কথায় কি যায় আসে৷কিছুদিন পর, আপনার আরেক মেয়ে ডাক্তার হবে। তখন লাখ লাখ টাকা আপনিই খাবেন। আপনার মেয়ে আপনার কষ্টের টাকায় পড়াশোনা করছে৷ অন্যের কথায় কিছু নেই। পাছে লোকে কিছু বলবেই। এতে কোন ক্ষতি নেই। "

করিম চাচা আমার কথা শুনে বলে, "তুমিই আমার ছেলে। আমার খারাপ কখনো ভাববে না জানি। "

আমাদের বিয়ের  দশ বছর হয়ে গেছে। রিপার দুবোনও পড়াশোনা শেষ করে। পরিবারের দেখাশোনা করে। আজ করিম চাচাও সমাজে একজন ভালো অবস্থানে লোক৷ মেয়েরাও পারে। ছেলেই সব নয়। 

আমাদের সংসারে একজন ছেলেও হয়েছে। সবাইকে নিয়ে আমরা ভালোই আছি৷ মানুষের কথায় কিছু যায় আসে না। আমরা চাইলে সব হয়। রিপার মতো একজন স্ত্রী সত্যি আল্লাহ দয়ায় পেয়েছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। যেনো সারাজীবন রিপা আর আমি একে অপরকে ভালোবেসে এভাবেই সুখে থাকতে পারি। 

----সমাপ্ত -----

গল্প-সুখ। 
লেখা-সোলাইমান রানা (দাদা)

Comments