পিরিয়ড/মাসিক

পৃথিবীর সব ছেলেরা একবার, মাত্র একবার যদি পিরিয়ডের ৩ দিনের যন্ত্রনা ভোগ করতো তাহলে নিত্যদিনের বেঁচে থাকা আর একটু অপমানের হাত থেকে রেহাই পেতো! যদি বুঝতো তলপেট চেপে ধরে শরীর উল্টানো ব্যাথার কান্না কতটা ভয়ঙ্কর তাহলে খুড়িয়ে হাঁটতে দেখে মিচকি হাসি দিতো না। হাতটা ধরে রাস্তা পার করে দিতো! যদি টের পেতো কি সাংঘাতিক কস্ট নিয়ে একটা মেয়ে মাসচক্রের এই ৫-৬ দিনের সময়টা পার করে! চিটচিটে, গা ঘিনঘিনে একটা অস্বস্তি নিয়ে ক্লাস, অফিস, সংসার, মাটিকাটা, ইটভাঙা, সব! সবকিছু রুটিন মেনেই করে যায়। কালচে রক্তের ছাপ শাড়িতে, কামিজে, প্যান্টে দেখলেই খুব মজা লাগে! হেসে গড়াগড়ি খেয়ে এ ওর গায়ে পড়ে বলতে শুনেছি___ মামা তোর কি মাসিক চলতেছে? আজকে কয় দিন?এই সময়টা আসে বলেই, এই কস্টটা হয় বলেই তাদের জন্ম হয়! তারা এই কথাটা বলতে পারে!!! মাত্র দুই ঘন্টা একটা ন্যাপকিন আন্ডারওয়ারে লাগিয়ে বাহির দিয়ে হেঁটে আসলেই বোঝা যেতো সে কত বড় বাঘের বাচ্চা! আমার বড় মায়ের পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার নানীর জন্ম, আমার নানীর পিরিয়ড হইছে বলেই আমার মায়ের জন্ম, আমার মায়ের পিরিয়ড হইছে বলেই আমার জন্ম। আমার পিরিয়ড হইছে বলেই আমার পরবর্তী প্রজন্ম আসবে__ এটা চক্র!!! একটা স্বাভাবিক ব্যাপারকে আমরা কতখানি ট্যাবু করেছি যে জন্ম নেওয়ার প্রসেস নিয়ে লুকোচুরি করি! কেনো? কিসের লজ্জা?শরীর খারাপ শুনলেই সবাই অবধারিত ভাবে জানতে চাইবে কি হয়েছে! এটা নরমাল। এটাকে যেমন অতিরঞ্জিত করার কিছু নেই তেমন করে বলে দিলেই হয় আমার পিরিয়ড চলছে। আমরা মেয়েরা যতদিন প্যাড কিনতে গিয়ে এককোনায় চুপচাপ দাড়িয়ে থাকবো দোকানের ভিড় কমবে এই আশায় ততদিন একটা ছেলে পিরিয়ড নিয়ে ট্রল করবেই!ছোটবেলায় আমার মা/ মামি/ চাচীদের দেখেছি রোজার মাসের এই সময়টা তারা দিনেরবেলায় খায় না। অথচ তারা তো রোজা নাই! যখন থেকে বুঝতে শিখেছি এই ঘটনা, তাদের জোর করতাম খাবার জন্য।
আহারে কি কস্ট! একটা স্বাভাবিক ব্যাপার কে লুকানোর জন্য ক্ষুধার কস্ট সহ্য করতে হয়, টিটকারি সহ্য করতে হয়, লালায়িত চোখ, জিহবার ইশারা সহ্য করতে হয়! আমার একটা কিশোর ভাই আছে! টেলিভিশনে আমরা একসাথে বসে দেখি। একদিন দেখলাম সে অন্যদিকে তাকাচ্ছে, টেলিভিশনে তখন হুইসপার আল্ট্রার বিজ্ঞাপন চলছে! তাকে পরে কাছে ডেকে বললাম___
ভাইয়া তুমি পিরিয়ড মানে বোঝো?
সে মাথা নিচু করে চুপ করে বসে আছে।
তাকে বললাম_ তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো? তাকাও। লজ্জা পাবার কিছু নাই। আমাদের আম্মুর পিরিয়ড না হলে আমরা পৃথিবীতে আসতে পারতাম না। এটা সব মেয়ের হয়। খুব স্বাভাবিক!
সে তাকালো! আমি দেখেছিলাম তার চোখ থেকে দ্বিধা সরে গেছে। বুঝেছিলাম সেনোরা, ফ্রিডম এর বিজ্ঞাপন দেখে সে মেয়েদের মুখ মনে করে সুখী হবে না, মনে করতে গেলে আমার আর আম্মুর চেহারা ভাসবে!প্রসেসটা এমন! বিশ্বাস করেন বদলে যাবার একটু রাস্তা যদি দেখানো যায়, শুদ্ধ পথ সে খুঁজে নেবেই।
পিরিয়ড/ মাসিক নিয়ে মজা কইরেন না। তাহলে আবার জন্মের হিসেবে গন্ডোগোল দেখা দিবে! মেয়ে নিয়ে ট্রল কইরেন না, ছেলে নিয়ে ট্রল কইরেন না।
১ টা মেয়ে খারাপ, ১ টা ছেলে খারাপ, ১০০ মেয়ে খারাপ, ১০০ ছেলে খারাপ!
পৃথিবীর ৭০০ শ কোটি মানুষের ধরেন ১০০ কোটি খারাপ!
ভালো ৬০০ শ কোটির মধ্যে আপনার মা আছে, ভাই আছে, বোন আছে, আপনি আছেন!!!!
আছেন না???
আপনি বদলাতে শুরু করলে পৃথিবী বদলাতে বাধ্য! ♥

Comments

Popular posts from this blog

পথের বাঁধন

চুয়াডাঙ্গা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে জেনে নিন!