অলকানন্দা
আজ সম্ভবত শেষ দেখা। অথচ অসীম দেখে মুগ্ধ হলো প্রথমবারের মতোন। রিমি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। পরনে সবুজ জামা, কপালে রক্তিম সূর্য। ডিসেম্বরের ষোল তারিখ বোধহয় আজ। বাঙালি বিশেষ দিবস ছাড়া লাল সবুজ পরিধান করে না। জিজ্ঞেস করা দরকার। দিন তারিখ মনে থাকে না অসীমের আজকাল। মাথাটাও ভারী। ঠাণ্ডা লেগেছে কিঞ্চিত। খুকখুক করে কাশলো। রিমি জিজ্ঞেস করল, ‘ব্যাডমিন্টন খেলা হয়েছে আবার?’ ‘হ্যাঁ।’ ‘শীতের রাত্তিরে দুই মিনিট বাইরে হাঁটতে পারো না, ঠাণ্ডা লেগে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, খেলার কী দরকার তবে?’ অসীম চুপচাপ রইল। রিমি হাঁটলো। পাশাপাশি অসীম। আজ রিমি প্রচুর কথা বলবে। অসীম শুনবে। চার বৎসরের সম্পর্কে অসীম যা বলার বলে ফেলেছে। স্বল্পভাষী রিমি শুনে গিয়েছে রোজ। আজ অসীমের পালা। রিমি দারুণ গোছানো মেয়ে। অসীমের ধারণা, রিমি যা বলবে তা মনে মনে ইতোমধ্যে কয়েকশো বার সম্পাদনা, পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও সংক্ষেপন করা। ‘আমাদের সম্পর্ক কয় বৎসর হলো অসীম?’ ‘চার?’ ‘এই চার বৎসরে তোমার কখনও মনে হয়েছে যে, সম্পর্কটা ঠিক যাচ্ছে না আগের মতো? কেমন যেন যান্ত্রিক সব। রোজকার দেখা হওয়া, কথা বলা, চুমু খাওয়া। মনে হয়েছে?’ অসীম চট করে জবাবটা দিলো না। একটু ভাবলো। ত...