আমার আপন মানুষ (পর্ব-৩)

-কি খবর দুলাভাই? (ছোট শালী)
-খবর জানতে টিভিতে চোখ রাখো।
(আমি)
-হা হা হা... সে খবর না আপনাদের খবর
বলেন (বড় শালী)
-আমাদের খবর তোমাদের আপুর মুখ থেকে
শুনতে পাবে বাড়িতে গিয়ে।
তবে খবর শুইনা আবার তোমরা দুই বোন
আমারে মারতে আইসো না।
আমার কথা শুনে হাসছে শালীরা, সাথে
বউও।
আমি চেয়ে দেখছি বউয়ের সেই অসাধারণ
হাসি।
হাসিতে নেই কোন অভিমান, নেই কোন
অভিযোগ।
যেন আমি ওকে হাসি খুশিতেই রেখেছি।
অথচ মেয়েটিকে স্বামীর অধিকারটাই
দেইনি আমি।
এইদিকে মেয়েপক্ষের লোক এক এক করে
সবাই ঘরে আসছে তাদের মেয়ে ও
জামাইকে দেখতে।
আমিও ভদ্র মানুষের মতো চুপ করে দুই
শালীর মাঝখানে বসে আছি।
আর নাঈমা সবাইকে চেয়ার টেনে বসতে
দিচ্ছে।
ছোট শালীটা আমার কানের কাছে মুখ
নিয়ে ছোট ছোট শব্দে আমাদের রাতের
ব্যপারে জানতে চাইতেছে।
আর বড় শালিটা ওর মুখ বুঝে হাসছে আর
ছোট বোনকে চিমটি কেটে বলতেছে চুপ
করবি?
আমিও এতো মানুষের সামনে ওদের এমন
কানাকানিতে লজ্জা পাচ্ছি।
হঠাৎ বাইরে থেকে শুনতে পেলাম খাবার
টেবিলে বসতে বলছে সবাইকে।
সবাই চলে গেল খাওয়ার জন্য। আমার শালী
দুইটা হাত ধরে আমায় নিয়ে যেতে চাইলেও
বল্লাম যাও তোমরা খাও। ওরা তখন ওদের
আপুকে নিয়ে গেল। আমিও উঠে গেলাম
মেয়ে পক্ষকে খাওয়ানোর দিকে খেয়াল
রাখতে। এভাবে দিনশেষে রাত হয়ে এলো।
রেডি হয়ে ওদের নিয়ে আসা গাড়িতে
উঠলাম।
আমি আর নাঈমা একসাথে বসেছি। দুই
পাশে দুই শালী সারা রাস্তা আমায়
হাসিয়ে মেরেছে।
এতো দুষ্টু আর মিষ্টি শালী পেয়েছি বলে
বুঝাতে পারবো না।
প্রায় ঘন্টাখানেক এর মধ্যে খুলনা রুপসা
সেতুর কাছে চলে এলাম।
একটুপরই জোড়াকল বাজারের পাশেই
আমার এক দূর সম্পর্কের খালার বাড়ি।
এই খালাই আমার এই বিয়েটা ঠিক
করেছে। খালার পছন্দ আছে বলতেই হয়।
কারন মেয়েটা সত্যিই ভালো সবদিক
থেকে।
যদিও আমি কখনোই নাঈমা কে বউ হিসেবে
মেনে নিতে পারবো না। গাড়িটা ব্রেক
করলো আমার শ্বশুরবাড়ির সামনেই।
রাস্তার পাশেই বাড়ি। আমার খালার
বাড়ির দুই বাড়ি পরই।
গাড়ি থেকে নামতেই দেখি ভিড়। সবাই
আমার দিকে চেয়ে আছে। রাত দশটা
পর্যন্ত খাওয়া দাওয়া এটা
সেটায় কেটে গেল। আমি আমার বউ নাঈমা
রুমে শুয়ে আছি।
নাঈমা ও বাড়ির মহিলারা খেতে বসেছে।
একটু পড়েই ও আসবে। আমি একটা সিগারেট
ধরিয়েছি ওমনি দরজা ঠেলে কেউ ঢুকে
পড়লো। তাকিয়ে দেখি দুই শালী। ওরা
আমার সাথেই খেয়ে নিয়েছে আমাকে
জ্বালানোর জন্য।
ওদের দেখে সিগারেট টা আড়াল করেছি।
-আরে লুকাতে হবে না খেয়ে নেন, সমস্যা
নাই। (বড় শালী)
-দুলাভাই আমরা কিন্তু আজ রাতে আপনার
কাছে থাকবো। গল্প করবো সারারাত।
(ছোট শালী)
-তাহলে তোমাদের আপু কোথায় থাকবে?
-আপু আমাদের রুমে থাকবে। এই বলে
হাসছে দুই বোন।
সিগারেটটা দুটো টান দিয়ে ফেলে দিয়ে
ওদের বসতে বললাম।
-আচ্ছা তোমাদের আপুটা কি ভালো নাকি
খারাপ? (আমি)
আমার কথায় দুই বোন চুপ হয়ে তাকিয়ে
আছে আমার দিকে!
-কেন, কিছু হইছে ভাইয়া?! আপু কোন কষ্ট
দিছে আপনাকে? (বড় শালী)
-আরে নাহ। জানতে চাইলাম ও কোন
টাইপের?(আমার প্রশ্নটা ঠিকভাবে করা
হয়নি।)
-আসলে আমাদের আপুটা অনেক ভালো।
আমাদের কোনদিন কখনো কষ্ট দেয়নি।
নিজে না খেয়ে আমাদের দুই বোনকে
খাইয়ে মানুষ করেছে ভাইয়া। আমাদের
কাছে আমাদের আপু অনেক ভালো। জানেন
ভাইয়া? ও না কখনোই কষ্ট পেতে দেয়না
আমাদের। একটু চাপা স্বভাবের। তবে ওর
বুকে অনেক মমতা, ভালোবাসা আছে। এই
বলে ছোট শালীটা চোখ মুছছে। বড়টাও
চোখ মুছছে আর বলছে ভাইয়া... ওকে
আমরা খুবই মিস করবো। আমাদের কোন
ভাইয়া নেই। ঐ আপুই আমাদের সব।
এরমধ্যেই নাঈমা ঘরে ঢুকলো। ওরা চুপ হয়ে
গেল।
বউ এসেই আমার সামনে এক গ্লাস দুধ
দিলো। খেয়ে নিলাম।
শালী দুইটা উঠে যাচ্ছে। বললাম কি
ব্যাপার যাও ক্যান? থাকবে না আমার
সাথে?
-না ভাইয়া, অন্য সময় গল্প করবো আপনার
সাথে।
এখন আমাদের এই মিষ্টি আপুটাকে নিয়ে
গল্প করেন।এই বলে হাসতে হাসতে বের
হয়ে গেল শালীরা।
নাঈমা দরজা লাগিয়ে খাটে এসে আমার
পাশে শুয়ে পড়লো। একটু নিরব থাকার পর
নাঈমা আমায় বলল কি সমস্যা তোমার বলো
এখন?
আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। চুপ করে
আছি।
হঠাৎ নাঈমা উঠে আমার পাশে একটা হাত
রেখে আধশোয়া হয়ে আমার মুখের কাছে
মুখ নিয়ে বলল কি সমস্যা তোমার মধ্যে?
বউ হিসেবে মেনে নিচ্ছো না ক্যান?
নাকি কাউকে ভালোবাসো? বাসলে বলো
সমস্যা নাই।
আমি তোমায় এ বিষয়ে বন্ধুর মতো সাহায্য
করবো।
শুধু আমায় আপন মানুষ ভেবে সব খুলে বলো।
আমি নাঈমা এর দিকে কিছুক্ষন চেয়ে
থেকে বললাম...
-আমি একজনকে ভালোবাসি। ওকে ছাড়া
আমি কাউকে জীবনসাথী করার কল্পনাও
করতে পারছি না।
আমার কথা শুনে নাঈমার  সুন্দর মুখটা
কালো হয়ে গেল।
-ঠিকাছে। সে কি তোমাকে এখন মেনে
নিবে তার কাছে ফিরে গেলে।
-হা নেবে। কিন্তু তুমি? তোমার কি হবে?
(আমি যে তোমার মায়ায়াও ভূলতে পারবো
না জীবনে)
-হা হা হা... আমার আবার কি হবে?
কপালে আছে তাই হবে। এখন তুমি ঘুমাও।
তোমায় আমি সাহায্য করবো এ বিষয়ে। এই
বলে গয়না শাড়ীটা খুলে ফেলছে নাঈমা
(আজ নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে
এমন একটা বউ কে জীবনে ভালোবাসতে
পারলামনা বলে)।
আমি অনেক কষ্ট নিয়ে অপরদিকে মুখ করে
শুইলাম।
একটুপর হাতটা আমার উপর তুলে দিলো
নাঈমা।
-কিছু মনে করো না।
আমি ছোট বোনদের এভাবে জড়িয়ে ধরে
ঘুমাতাম। অভ্যাস হয়ে গেছে,,,,

<a href="http://eroti24.blogspot.com/2018/01/blog-post_39.html?m=1"> আমার আপন মানুষ (পর্ব-৪)</a>

Comments

Popular posts from this blog

পথের বাঁধন

চুয়াডাঙ্গা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত?

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে জেনে নিন!