রাগী বউ এর গল্প!

আমার বউ জেরিন রাগ খুব কম করে আর যদি রাগ করে একবার তাহলে আমি নিজের হাতে রান্না করে খেতে হয়।আমি তো মাশাআল্লাহ্ তরকারি রান্না করতে গেলে হয় মরিচ দিতে ভুলে যাই না হয় লবণ।আমি বাহিরের কাজ শেষ করে আসতে প্রায় রাত ৯ টা বেজে যায়। এদিকে আমার টুনটুনি পাখি আমার জন্য অপেক্ষা করতেছে আমি কখন আসমু কখন তাকে শুভেচ্ছা জানাবো।
.
রাত ৯ টা বাজে ঘরে এসে দেখি জেরিন সাজুগুজু করে বসে আছে,মনে করেন একদম নতুন বউয়ের মতো।আমি জেরিনকে দেখা মাত্র বলি-
.
-কি ব্যাপার ম্যাডাম আজকে হঠাৎ সাজুগুজু করার কারণ কি?
.
জেরিন আমার কথা শুনা মাত্র বলে-
.
-তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না হুমমম?
-আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি হঠাৎ এ কথা কেন?
-যদি ভালোবাসতা তাহলে আজকের দিনটুকু ভুলতে না।তোমার সাথে আর কথা নাই আজ!
.
মনে মনে চিন্তা করলাম আজকে কি এমন দিন? যার জন্য আমার জেরিন রাগ করছে।অনেক কষ্ট রাতটা শেষ হলো। মনে হলো একরাত এক মাসের মতো ।সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বউ আমার চা খাইতেছে তবে সে নিজের জন্য বানাইছে আমার জন্য না।কি আর করা নিজের হাতে চা বানাইলাম যেখানে চিনি দিবো সেখানে লবণ দিয়ে চা বানাইছি।আজকাল বাংলাদেশের লবণ,চিনি প্রায় সেইম!
.
দুপুরবেলা ও সে সেইম অবস্থা বউ নিজের রান্না নিজে করছে আমার জন্য রান্না করে নাই।
আমি রান্না করতে পারি না তাই হোটেলে খাইলাম খাওয়ার পরে ১০ বার গেছি টয়লেটে।
.
আর তো সহ্য হয় না আমার জেরিন কি কারণে রাগ করছে এটা আমাকে জানতে হবে।সন্ধ্যার টাইমে বাজারে না গিয়ে মোবাইল টা বন্ধ করে আমি খাটের নিচে লুকিয়ে থাকি।৯টা গেলো ১০টা গেলো ১১টা গেলো ১২টা বেজে গেলো দেখতেছে আমি আসতেছি না।জেরিন আমার মোবাইলে কল দিয়ে দেখে অফ। তাই জেরিন এ আমার বন্ধু হিমুর কাছে ফোন করে আমি সব খাটের নিচ থেকে শুনতেছি।জেরিন এ হিমুকে বলে-
.
-হ্যালো হিমু ভাই আপনার বন্ধু আপনার কাছে আসছে নাকি?
-না ভাবী আসে নাই কেনো কি হইছে?
-তেমন কিছু না গতকাল আমার জন্মদিন ছিলো সে ভুলে যাওয়াতে তার উপর আমি রাগ করছি!
-ও আচ্ছা চিন্তা করবেন না চলে আসবে!
.
জেরিন যখন বলে তার জন্মদিনের কথা তখন আমার কাছে খুব খারাপ লাগছে শুনে। যে মেয়ে তার বাবা,মা,কে ছেড়ে আমার কাছে সারাজিবনের জন্য থাকার শপথ করছে তার জন্মদিন এর কথা আমি ভুলে গেছি।কিছুক্ষণ পরে জেরিন কান্না করতেছে আর বলতেছে-
.
-প্লিজ ইমু আমি আর কখন ও রাগ করবো না তোমার উপর। তোমাকে রান্না ও করতে দিবো না শুধু তুমি ফিরে এসো।আমি জেরিন এর কান্না দেখে তাড়াতাড়ি খাটের নিচ থেকে বাহির হয়ে বলি-
.
__হ্যাপি বার্থডে টু ইউ জেরিন!
.
জেরিন এ কথা শুনার পরে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে-
.
-গুন্ডা একটা তুমি।তুমি কি জানো আমি কতো টেনশনে ছিলাম এতক্ষণ?
-স্যরি আর এমন হবে না আর!
-স্যরি তে কাজ হবে না কানে ধরো!
-এ কেমন বিচার আমি তোমার স্বামী!
-তাতে কি তোমার অপরাধ সো কানে ধরবা।
-না তা কেমন করে হয়?
-আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে আমার মাথায় হাত রেখে ২০ বার বলবা জেরিন আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না,এটা বলতে হবে!
.
পাগলী টা সত্যি আমাকে খুব ভালোবাসে কি আর করবো জেরিন এর মাথায় হাত রেখে বলি-
.
-জেরিন আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার পাশে থাকবো!
-হইছে আর ঢং করতে হবে না তাড়াতাড়ি গোসল করে আসো। আমি তোমার জন্য আমার জন্মদিনের উপলক্ষে মিস্টি কুমড়া রান্না করছি!
-কি আজব এ দিনে মিষ্টি কুমড়া?কোথায় মিষ্টি কেক খাওয়াবে আর তুমি মিষ্টি কুমড়া খাইতে বলছো!
-হুম তাই বলছি। আমি তোমাকে নিজের হাত দিয়ে খাইয়ে দিবো!
-আচ্ছা ঠিক আছে আমি ফ্রেশ হয়ে এখন আসতেছি।
.
আমার লেখাটুকু কাল্পনিক, তবে আমি ১০০% শিউর জেরিন এর মতো মেয়ে বাংলাদেশ এ অনেক আছে। যে কিনা মা,বাবার পরে তার স্বামীকে পাগলের মতো ভালোবাসে ৷ তাকে না দেখলে নিজেকে অসহায় মনে করে।সুখে থাকুক এমন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক গুলো।

Comments

Post a Comment