ভালোবাসার ছোট গল্প
(১) বাঁশঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকছে। চারদিকে নিস্তব্ধতার আগমন ঘটেছে। সদ্য মাঠ থেকে ফেরা মানুষেরা রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। মাঝে মাঝে শিয়াল মামা জোরে জোরে ডাকছে। শিয়ালকে বড্ড ভয় পায় মেয়েটি। তবুও বাবার সদ্য কবরের পাশে বসে কেঁদেই চলছে অঝোর ধারায়। বাড়ির সামনে কাঁঠাল গাছটার নিচে যোগ হলো মরহুম গোলজার মিয়ার কবর। চিরনিদ্রায় শায়িত করে যে যার মতো বাড়ি ফিরে গেছে। সকলে ফিরে যাবার পর থেকে বাবার কবরের পাশে বসে আছে মহুয়া। বাবা ছাড়া তার ত্রিভুবনে কেউ ছিলো না, আজ বাবাও চলে গেল। এখন মহুয়া একা, বড্ড একা। 'মহুয়া, আর কত কাঁদবি বল? সবাই কি চিরদিন পৃথিবীতে বাইঁচা থাকে রে? না রে থাকে না। আমরা সবাই চইলা যামু,একদিন আগে আর পাছে।' রহিম মাঝির কথাগুলো শুনে মনোযোগ তার দিকে গেল। চোখের জল মুছে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রহিম মাঝির দিকে। বুকের এক পাশটা খাঁ খাঁ করছে, শূন্যতা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যে। ঠোঁট দু'টো বাকিয়ে স্মিত হাসার চেষ্টা করে রহিম মাঝি। 'সারাদিনই তো কিছু খাস নাই, এখন ওঠ। ঘরে যাবি না?' মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায় মহুয়া। ডুকরে কেঁদে উঠে, ' আমার যে আর ক...