সরকার বাড়ি
ডাকাত দলের গোঁফওয়ালা ব্যাক্তিটির আমার জন্য একটু দয়া হলো। সে তার গায়ের চাদর আমাকে দিয়ে বলল, "একদম নাক বরাবর সোজা হেঁটে যাবি। পেছন ফিরে তাকালেই চাকু তোর পেটে ঢুকিয়ে দেব। আবার তাকিয়ে দেখিস কী? যা বলছি।" আমি আর একবারও পেছন ফিরে তাকানোর সাহস পাইনি। মাটির রাস্তা দিয়ে অচেনা পথ ধরে হেঁটে চললাম। শেষ সম্বল বলতে এই চাদরটা আর পরনের জাঙ্গিয়া। আর সবকিছুই কেড়ে নিল ডাকাতরা। শানুর কথামত মেথিকান্দা রেল স্টেশনে নেমে একজনের কাছে জানতে চেয়েছি পলাশতলীর রাস্তা কোনটা? রাত তখন নয়টা বেজে চল্লিশ মিনিট। লোকটির দেখানো পথ ধরে হাঁটছিলাম। দুইজন রিক্সাওয়ালা আগুন পোহাচ্ছিল। এত করে বললাম, আমাকে একটু পলাশতলী নিয়ে যান। উলটো মুখ বাঁকিয়ে বলল, "নবাবি না করে হেঁটে যান। হাঁটলে শরীর গরম থাকে, শীত কম লাগে।" আমি তাদের এমন কথায় কিছুটা আহত হলাম। অপরিচিত জায়গায় রাতের বেলা হেঁটে যেতে ভয় লাগারই কথা। শেষ পর্যন্ত ভয়টা সত্যি হলো। ছোটো ব্রীজের নিচ থেকে বেরিয়ে এল চারজন মানুষ। একজনের হাতে হারিকেন। আমি কখনো হারিকেন হাতে নিয়ে ডাকাতি করতে শুনিনি। চারজনের গায়েই কালো চাদর। চারজন থেকে দুইজন আমাকে পেছন থেকে হাত চেপে ধরেছে। একজন...