নীরদবরণ
আমার স্ত্রী মারা গেল একটা শাপলা ফুলের জন্য। চার বৎসর আগে। আমরা গিয়েছিলাম আমার গ্রামের বাড়ি। যেহেতু গ্রামে আসা হয় না, বিয়ের আগে গুনে গুনে তিন-চারবার আসা হয়েছে সম্ভবত। সেখানে বিয়ের পর স্ত্রী আর কন্যা সহ গ্রামে প্রথম বেড়াতে যাওয়া বিশাল একটা ব্যাপার। আব্বা তাই আমার শত চোখ রাঙানি পাত্তা না দিয়ে বিশাল আয়োজন করে ফেললেন। দুপুরে ছয়-সাত পদের তরকারী। দই। জিলেপি। নানান রকম মিষ্টান্ন। ভোজনপর্ব শেষে বিকাল বেলায় আমি প্রস্তাব দিলাম স্ত্রীকে, ‘চলো, নৌকো করে ঘুরবো।’ আমাদের গ্রামে একটা দীঘি বেশ বিখ্যাত। অশ্রদীঘি। কথিত আছে যখন এই গ্রাম ধূ ধূ প্রান্তর ছিল, কোথাও কোনো সবুজ ছিল না, জল ছিল না। এক রাজকুমার এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন ঘোড়ায় চড়ে। প্রচণ্ড পানির তৃষ্ণা পেয়েছিল তার। জলের কলস ছিল খালি। কোথাও কোনো জল নেই। রাজকুমারের ঘোড়া আর সামনে এগুলো না। ক্লান্ত ক্ষুধার্ত রাজকুমার বসে রইলেন এই জায়গায়। একটা পরী বিহঙ্গমের ডানায় চড়ে এই পথ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় রাজকুমারকে দেখে প্রেমে পড়লেন তার। মানবীর রুপ ধরে কাছে আসলেন। রাজকুমার সায় দিলেন। তারপর পরীর নিষ্পাপ অনুভূতির সঙ্গে প্রতারণা করে গভীর রাত্তিরে পরীর বাহন বিহঙ্গমকে হত্যা ক...