হারিয়ে ফেলেছি আমার ভালোবাসা! (ইরোটি২৪)
বিয়ের পর দিনগুলা অনেক জোস ছিলো।
আমি বৌ না একটা বান্ধবী পেয়েছিলাম।
তনুর বয়স খুব বেশি ছিলো না। পড়াশুনা তার
করতে ভালো লাগতো না বলে পড়া আর শেষ
করে নাই।
প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় ফিরার এক
অদ্ভূত আগ্রহ কাজ করতো। ও ফোন দিয়ে
বলতো "এই কখন আসবে?"
কথায় কেমন যেন একটা মাতাল মাতাল ভাব
ছিলো। টাল হয়ে অফিস করতাম।
বাসায় ফিরে তাকে শাড়ি পরা খুব টিপটপ
ভাবেই পেতাম। মাঝে মাঝে তো তনু ডান্স
করতো। আমি হাসতাম। মজায় দিন
কাটছিলো।
আমি বিয়ের পর যে ক 'বেলা বাসায়
থাকতাম শুধু তনুর হাতেই খেতাম। কি যে
আদর করতো মেয়েটা।
ওর শরীরে অন্ধ্রে অন্ধ্রে রোমান্স ছিলো।
প্রতিটা ছেলেই এমন একটা বৌ চায় যে
কিনা এভাবে আগলে রাখে।
কি যে দুষ্টু তনু আমি বাসায় ফিরে শার্টের
পকেট হাতিয়ে সিগারেট পেতাম না।
সে বায়না ধরতো "একটা টান দিতে দিবা?
তাইলে সিগারেট দিবোনাহলে দিবো না"
ঘরের বৌ এই টাইপ বায়না করলে কেমন রাগ
ধরে বলেন তো !!
যদিও ঐ টাও ওর দুষ্টামিই ছিলো।
ওর হাসিটা দারুণ ছিলো।
আমার সাথে সে অভিমান করতো চকলেটের
জন্য। চকলেট দিলেই সব ঠিক।
ওকে কখনো কান্না করতে দেখি নি। এমনকি
বিয়ের দিন ও তনুকে ঐ ভাবে কাদতেঁ দেখি
নাই যেভাবে বাকী মেয়েদের দেখি।
তনুর হাশি নেশা ছিলো আমার্।
কিন্তু সব ভালর ই তো দোষ থাকে?
সবাই কখন ও না কখন ও খারাপ হয়। সবাই
কোন একদিন দুর্বল হয়ে পরে.. আমার
ক্ষেত্রেও হয়ত এমন ই হয়েছিল, দুর্বল হয়ে
পরেছিলাম একদিন।
ভালই চলছিল আমাদের..
অফিস যেতাম, বাসায় ফিরতাম, অফিস এর
সময় টুকু কাটতো তনুর অপেক্ষায়, আর সন্ধ্যা
তনুর ছেলেমানুষির সাথে
কিন্তু ধীরে ধীরে কেমন যেন একঘেয়েমি
হয়ে গেল সব। বুঝলাম না আসলে..
প্রথম বছর টা ভালই ছিল, সব পারফেক্ট
পরের বছরের জুন পর্যন্ত সব ঠিক ছিল,
এলমেলো ঠিক তার পর থেকেই...
অফিস এ বসে আছি আমি, হঠাৎ একটা ফোন
।
- বল তো আমি কে?
- আমি কিভাবে বলব আপনি কে?
- আহা, চেষ্টা তো কর !
- মাফ করবেন, আমি অপরিচিত দের সাথে
কথা বলিনা
- আমি পরিচিত নই
-তবে পরিচয় দিন
- বুদ্ধু কোথাকার , নাতাশা বলছি আমি !!
চিনতে পেরেছিস ?
একটু কিছুক্ষন এর জন্য কেমন যেন নির্বাক
হয়ে গেলাম আমি !!
নাতাশা! এই নাতাশা কলেজ জীবনে আমার
বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল, একসাথে কত আড্ডা,
এক টা সময় ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পরেছিলাম
আমি, কিন্তু কখনও বলা হয়নি, যদি ও না
করে দেয়?
বলব , বলব করতেই ইন্টার এর পরেই শুনলাম হুট
করে বিয়ে হয়ে গেছে নাতাশার
তারপর আর কেউ ই ওর খোঁজ পায়নি।
এতদিন পর আবার ওর গলাটা শুনে কোথা
থেকে জানি নিজেকে একটু দুর্বল লাগল
আবার,
সেই কিন কিনে গলা, সেই চাঞ্চল্য , কণ্ঠে
সেই দুস্টুমি !
একটু ও বদলায়নি ও...
- হ্যালো ! হ্যালো ! কি রে আছিস না মরে
গেলি??
- হ্যা? না না, আছি ! কেমন আছিস তুই?
-আছি ভালই, ঢাকাতেই ছিলাম, তোর
নাম্বার পেলাম হাসান এর কাছে থেকে,
দেরি না করে ফোন দিয়ে ফেললাম! লোভ
সাম্লাতে পারিনি আর...
-আচ্ছা বল এখন কেমন আছিস। স্বামী
সংসার বাচ্চা সব মিলিয়ে কেমন যাচ্ছে?
- এত কথা কি ফোনেই বলবো? দেখা করবি
না আমার সাথে?
-আচ্ছা করবো ..আজ দেখা করবি?
-হুম আজ না এখনি দেখা করবো। তোর অফিস
কই?
-মতিঝিল আমার অফিস।
-তুই তো আমার কাছেই থাকিস। আমি
বেইলি রোড থাকি। ঠিক আছে তাহলে এক
কাজ কর আমি তোকে বাসার ঠিকানা
মেসেজে পাঠাচ্ছি তুই আমার বাসায় চলে
আয় এক সাথে লাঞ্চ করবো। আমি তোর
পছন্দের ডিম কোরমা আর চিংড়ি
মালাইকারি রান্না করি।কেমন?
-আচ্ছা ঠিকাছে। ঠিকানা লিখে পাঠা।
নাতাশার সাথে এতদিন পর কথা বলার পরও
আমার মনে হচ্ছিলো এই যে সেদিন আমরা
একসাথে ঘুরে বেড়াতাম। ক্যান্টিনে আড্ডা।
কি সুন্দর দিন কাল ছিলো।
ওগুলা আসলে সোনালী দিন ছিল।
এই ভাবতে ভাবতে হঠাৎ পিয়ন এসে বলল
- স্যার ম্যাডাম খাওন পাঠাইছে।
-আজ খাবো না। এটা তোমার ম্যাডাম কে
বইল না। আমার খাবার টা তুমি খেয়ে
ফেলো।
(পিয়ন আমার দিকে খুব সন্দেহের চোখে
তাকালো..তাকানোটা স্বাভাবিক।
প্রতিদিন তনু খাবার পাঠিয়েছে কিনা এটা
জানতে আমি তাকে অনেক বার বিরক্ত করি
আজ তার উল্টোটা )
রওনা হলাম নাতাশার বাসার উদ্দেশ্যে।
যাওয়ার পথে ওর জন্য ফুল ,চকলেট
,প্রিঙ্গেলস কিনে নিলাম।
রাস্তা মনে হচ্ছে শেষ হচ্ছে না..আমি এত
অস্থিরতা কেন অনুভব করছি জানি না।
তনুর ফোন আসলো হঠাৎ ..
-এই খেয়েছো?
-হ্যাঁ খেয়েছি। তুমি খেয়ে নেও,আমি একটা
মিটিং এ ঢুকবো। পরে কথা বলবো।
-আচ্ছা ..বাসায় কখন আসবে?
-একটু দেরী হতে পারে। তুমি টেনশন করো
না..
-আচ্ছা ঠিকাছে। শুনো তোমাকে অনেক
ভালোবাসি।
-আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি।
আমি তনুকে মিথ্যা বললাম। নাতাশার জন্য।
কিন্তু কেনো?
তনুতো আমার এমন অনেক মেয়ে বান্ধবীকেই
চিনে।
কাজটা কি ঠিক করলাম?
ভাবতে ভাবতে নাতাশার গেটের সামন।
সাদা শাড়ি পরা নাতাশা গেইটেই আমার
জন্য অপেক্ষা করছিলো।
ইসসস ও তো একদম বদলায় নি।
এতো সুন্দর কিভাবে একটা মানুষ হয়।
ওর সামনে যেয়ে কথা বলার ভাষা হারিয়ে
ফেলেছি।
-এই ইফতি। আরে এই কি হইছে?
-না কিছু না।
-আয় ঘরে আয়। তুই তো বেশ মোটা হয়ে
গিয়েছিস রে।
-(ঘরে ঢুকতে ঢুকতে) তুই ছিলি না কেউ
খোঁজ নেওয়ার ছিলো না।তাই এই অবস্থা।
(কথা গুলা বলার সময় আমার লজ্জা থাকা
উচিৎ ছিলো। আমি বিবাহিত একজন পুরুষ
.আমার স্ত্রী কত যত্ন করে আমাকে তবুও
মুহুর্তে মিথ্যা বলে দিলাম)
-তুই ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দেই
টেবিলে।
-আচ্ছা
ফ্রেশ হয়ে টেবিলে বসলাম। নাতাশা খাবার
বেরে দিচ্ছে আমাকে। আর আমি মুগ্ধ নয়নে
শুধু ওকে দেখছি।
-ইফতি তারপর বল। বিয়ে শাদী করেছিস?
-না ..তুই ছিলি না বলে বিয়েটা ও করি
নাই।
(এত সুন্দর করে মিথ্যা বললাম। কলিজায়
একটু ভয় ও কাজ করলো না। কেন করলাম
এমন?)
-হাহাহাহাহাহাহা। ফাজলামো করিস না?
নাতাশার হাসি আমাকে আরো দুর্বল করছে
আর আমি নিজেকে আটকাতে পারছি
না।। ....
নাতাশার বিয়ে হয়েছিলো।
ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে ..
স্বামী নেশাখোর ছিলো ..মারধর করতো।
তাই চলে এসেছে।
বাবা মা বিদেশে থাকে তাই সে এখানে
থেকে প্রসেস করছে চলে যাওয়ার জন্য।
মাস ৩/৪ লাগবে ওর যেতে। ভাবলাম এই ৩/৪
মাসে ওকে আর জানানোর দরকার নাই যে
আমি বিবাহিত।
কেমন যেন একটা বাজে রকমের মনোভাব
তৈরী হতে থাকলো..
নাতাশা হাসতো আমি দেখতাম।
নাতাশা কথা বলত আমি শুনতাম।
ঘড়ির দিকে তাকাতাম না।
অফিস থেকে প্রায় ই তাড়াতাড়ি বের হয়ে
যেতাম। এক সাথে লাঞ্চ ডিনার মুভি সবই
হত।
এভাবে প্রায় এক মাস হয়ে গেলো।
ও হ্যাঁ বলতে ভুলেই গেছি আমার তো একটা
বৌ যে আছে সেটাও ভুলে যাচ্ছি দিন দিন।
তনু আমার জন্য অপেক্ষা করতো।
আমি মিথ্যা বলতাম।
আমি ইগ্নোর করতাম।
তনু মনে হয় কষ্ট পেতো ..
আমি ঐ সবে খেয়াল ই করতাম না।
নাতাশা আমাকে রাতে কল দিতো আমি
রিসিভ করতাম না।
তনু আমার রাতের কল গুলো খেয়াল করতে
লাগলো।
একই বিছানায় থেকে আমরা হঠাৎ খুব
অপরিচিত হতে থাকলাম।
আমি চেষ্টা করতাম ওকে বুঝতে না দিতে
..আমি তনুর পাশে শুয়ে নাতাশা কে কল্পনা
করতাম।
ছি !! আসলে আমার ই লজ্জা লাগছে।
এগুলো বলতে।
একদিন খুব ঝড় শুরু হলো।
আমি বাসাতেই ছিলাম।
নাতাশা ফার্মগেইট বৃষ্টি তে আটকে
পরেছে এই লিখে আমাকে মেসেজ করলো।
তনু রান্না ঘরে। আমার জন্যই গরুর মাংস আর
খিচুড়ি রান্নায় ব্যস্ত ..
আমি ওকে কি বলে বের হব বুঝতে
পারছিলাম না।
এক কলিগের বাবা মারা গিয়েছে। এখনই
যেতে হবে বলে তনুকে সামাল দিয়ে বের
হয়ে গেলাম।
আমি মূলত কথায় কথায় মিথ্যা বলা শুরু
করলাম।
ফার্মগেইট থেকে নাতাশা কে রিসিভ করে
বাসায় পৌঁছে দিতে গেলাম।
বাসার গেইটের সামনে যেয়ে নাতাশা বলল
-বাসায় আসো। রান্না করি খেয়ে যাবে।
(নাতাশার চুল ভেজা ..হাসির ছোঁয়ায়
কেমন যেনো একটা নেশা ছিলো আমাকে
টানছিলো)
গাড়ি গেরেজে রেখে উঠে গেলাম
নাতাশার ফ্ল্যাটে ..
আমি জানিনা সেদিন আমার কি হয়েছিলো।
কেন আমি এমন হয়ে গিয়েছিলাম। কেনই বা
নাতাশা কে আমি কাছে টেনে নেওয়ার
আগে একটা বার তনুর চেহারা মনে পড়ল না।
নাতাশা আমাকে ভালোবাসা শুরু করেছে।
আমি দুইটা মানুষকে ঠকাচ্ছি। কিন্তু সে সময়
আমার বিন্দু পরিমান আফসোস কাজ
করছিলো না।
নাতাশা আমাকে আসতে দিতে চায় নি।
সেখানেও মিথ্যা বলে আমাকে বের হতে
হয়েছে।
উফ !! মিথ্যা
রাতে বাসায় ফিরে তনুর সাথে স্বাভাবিক
কোন আচরণ করতে পারলাম না। যেন
স্বাভাবিক আচরণের কোন ইচ্ছাই আমার
নাই। আমি ভাবছিলাম নাতাশার কথা।
নাতাশার হাসি ,
নাতাশার ছোঁয়া ,
নাতাশার আদর।
এভাবে আরো এক মাস চলে যেতে লাগলো।
আমি দিনের প্রায় সময়টুকু নাতাশার সাথেই
কাটানো শুরু করলাম।
তনু বুঝতে পারছিলো কিছু একটা ঘটছে
অথবা ঘটতে যাচ্ছে। তনু তেমন কারো সাথে
মেলামেশা করতো না।
সারাদিন ইউটিউব এ রান্না শেখা আর বাবা
মায়ের সাথে মেসেঞ্জারে ভিডিও কল
দেওয়া ছাড়া ওর আর কাজ নাই।
আমার বদলে যাওয়াটা তনুর চোখের নিচের
কালি বেশ ফুটিয়ে তুলছিলো।
আমার বাবা মা রাজশাহী থাকে।
এখানে তার কোন বন্ধুও নেই।
কাউকে যে বলবে অথবা পরামর্শ করবে এমন
কেউ নেই।
কাজের বুয়া পর্যন্ত আমাদের এই দূরত্ব
খেয়াল করলো।
সে তনুকে অনেক আদর করে।
তনুকে নাকি সে পরামর্শ দিলো একটা
বাচ্চা নিয়ে নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
রাতে তনু আমাকে ঘুমাতে যাওয়ার সময়
বলেই ফেলল ---
-ইফতি বিয়ের ১.৫ বছর তো হয়ে গেলো।
আমরা এইবার বাচ্চার প্লান করি।
-(আমার সেদিন নাতাশার সাথে একটু কথা
কাটাকাটি হয়েছে.. ও আমার বাসায়
আসতে চায়.. সেই জন্য
মেজাজটা খুব একটা ভালো নেই..সব রাগ
তুললাম তনুর উপর) ফাইজলামি করো?এখন
বাচ্চা নেওয়ার টাইম হয় নাই। তুমি কয়দিন
ধরে খেয়াল করছি খুব বিরক্তিকর কথা
বার্তা বলছো। বাবার বাড়ি যাও কিছুদিন
ঘুরে আসো।
-(তনু কান্না করে ওদিকে ফিরে শুয়ে
পড়ল ) কালকের টিকেট করে দেও।
আমি খুব হিমসিম খেয়ে যাচ্ছিলাম।
নাতাশা সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের
ব্যাপারে ..
কি করবো আমি?
তনু ওর মায়ের বাড়ি খুলনা চলে গেলো।
কয়দিন ধরে খুব এড়িয়ে চলছি নাতাশাকে।
তনু ফিরার আগে সব ঠিক করতে হবে।
তনুর বাবার বাড়ি যাওয়ার পর তনু আমাকে
ফোন খুব কম দিতো। ও কয়েকজনের মুখে
শুনতে পেরেছে আমি প্রায় অফিসে থেকে
চলে যাই। জানিনা আমার কোন
শুভাকাংখীরা এই উপকার টা করেছে। তনু
খুব ডিপ্রেশন এ চলে গেছে ..আমিও কি
করবো কি করবো ভেবে কাউকে ই ফোন
করতাম না। অফিসের পর একা একা বাসায়
থাকতাম। সিগারেটের পর সিগারেট সঙ্গী
হয়ে গেলো।
ঐদিকে তনুর সাথা যা ঘটলো।
খুলনা ইউনিভার্সিটিতে তনুর অনেক কাজিন
আছে। একদিন তাদের সাথে ঘুরতে যেয়ে
তনুর সাথে পরিচয় হল আবিরের্। আবির খুব
ভালো ছবি আকতো।
বাস আমার বৌ তনুর হাসিকে চিত্রবন্দী
করতে লেগে গেলো আবির.. আর তনু তার
ছবির প্রতি একসময় আবিরের প্রতি দুর্বল
হতে লাগলো।
( তনুই আমাকে পরবর্তীতে এগুলা
জানিয়েছে)
প্রায় ই তনুর ফোন ব্যস্ত থাকতো .জিজ্ঞেস
করলে এড়িয়ে যেত।
তাদের বন্ধুত্ব বাড়তে লাগলো। ফেইসবুকে
তনুর প্রোফাইলে নতুন নতুন ছবি দেখে আমার
কেমন যেন হিংসা হওয়া শুরু করলো।
আগে তনুর হাসি আমার নেশা ছিলো এখন
কেমন যেনো কাটা দেয় বুকে।
আমি ফোন দিলে সে যদি থাকতো পুকুর
ঘাটে আমায় বলতো সে ঘুমাচ্ছে।
আমি এগুলা জানতাম না।
কিন্তু তনুকে যখন বাসায় ফিরতে বললাম তখন
ও আরো কিছুদিন থাকবে বলে আমাকে
জানালো।
এতদিনে মনে হচ্ছিলো তনু হারিয়ে যাচ্ছে।
অথবা আমি স্বেচ্ছায় তাকে হারাচ্ছি।
আমি স্বিদ্ধান্ত নিলাম আমি নাতাশাকে
সব খুলে বলব।এতে যা হওয়ার হবে।
রাত ২.৩০ টা বাজে। তনুকে কল দিলাম।তনু
রিসিভ করলো না।
খুব অস্বস্তি লাগছে।
কেমন যেনো বুঝাতে পারছি না।
গাড়ির চাবিটা নিয়ে বের হয়ে গেলাম
নাতাশার বাসার উদ্দেশ্যে ..
এত রাতে নাতাশার বাসায় ঢোকা নিষেধ ..
ওকে ফোন করলাম। ও নেমে আসলো।
ও আসতেই ওর হাত চেপে ধরলাম -
-নাতাশা আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছি।
আমি ম্যারিড। আমার সংসার প্রায় ২বছর।
আমি আমার বৌ কে অনেক ভালবাসি।
আমাকে তুমি মাফ করে দিও।
- (নাতাশা অনেক্ষন শুধু তাকিয়ে রইল)
ইফতি আমার সাথে এমন না করলেও
পারতে.. তুমি জানতে আমি অলরেডি
একবার ব্রোকেন। কোন প্রশ্ন করবো না।
কোন ধোঁকার শিকার যেন তোমাকে না
হতে হয়। চলে যাও ...
আমি ফিরে আসার সময় খেয়াল করলাম
নাতাশা মাটিতে হাটু গেড়ে বসে পরেছে
আর চিতকার করে কাদছে।
খুব মায়া হচ্ছিলো কিন্তু আমি সেদিন
আটকে গেলে আরো খারাপ কিছু হত বলে
ফিরে তাকাই নি।
আমি ঐখান থেকে বের হয়েই খুলনার
উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তনুদের বাড়িতে
যেয়ে তনুকে দেখলাম দাদীর ঘরে শুয়ে
আছে।
আমাকে দেখে তনু খুব অবাক কিন্তু সে যেন
খুশি না...
সেদিন ই রওনা হতে চাইলাম কিন্তু তনু
থাকতে চাইলো। ও বলছিলো ওর শরীর
খারাপ। কদিন পর আসবে। আমি খুব
রিকোয়েস্ট করার পর সে রাজি হলো।
সারা রাস্তা ও আমার সাথে খুব একটা কথা
বলল না।
আমি যতটুকু জিজ্ঞেস করছি ততটুকুই বলছে।
বাসায় এসে ও ফ্রেশ হতে ঢুকে গেলো আর
আমি ওর জন্য ফুল চকলেট আনতে বাইরে
গেলাম।
এসে দেখি তনু শাওয়ার টাওয়াল পরে ছবি
তুলছে।
একটু অবাক হলাম। তনুকে কখনো এমন দেখি
নাই। সে যত যা করতো আমার সামনে করতো।
মোবাইলে পিকচার তোলাটা এই প্রথম
দেখলাম।
আমি তনু কে জড়িয়ে ধরার সময় তনু এড়িয়ে
গেলো..
-জার্নি করে এসেছি। খুব ঘুম পেয়েছে।
ডিনার করে ঘুমিয়ে যাই।
-তোমার জন্য চকলেট এনেছি। ঐ টা খাবে
না।
-না এইবার কয়েকজন বলেছে খুব ফ্যাট হয়ে
গিয়েছি তাই আর চকলেট টকলেট খাবো না
ভাবছি।
-(এ জন্য অন্য কেউ যাকে আমি চিনতে
পারছি না) ঠিকাছে চলো খেয়ে আসি।
-হুম
খুব নীরবতার সাথে খাওয়ার টেবিলে
খাবার শেষে তনু বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে
পরলো।
আমি পারছিলাম না ঘুমাতে।
এপাশ ওপাশ করে রাত পার হয়ে গেলো।
তনু ঘুমাচ্ছে। শান্তিতে খুব শান্তিতে।
এভাবে ওকে বিয়ের শুরুতে ঘুমাতে দেখতাম।
এর মাঝে রোমান্স টা দিন দিন কমে
গিয়েছিলো।
তনু কে ঘুমের মধ্যে মাথায় হাত বুলাতেই ও
লাফিয়ে উঠলো .. কি সর্বনাশ মনে হলো
আমি অপরিচিত কেউ।
সোজা রান্না ঘরে ঢুকে গেলো।
আমি কিছু বলার আগেই তনু বলছে সে খারাপ
স্বপ্ন দেখেছিলো। তাই চমকে গিয়েছিলো।
আমি আর কথা বাড়ালাম না।
অফিস যেয়ে তনুর নাম্বারে কল দিলাম
..কয়েকবার ওয়েটিং ..জিজ্ঞেস করায়
উত্তর দিলো মা এর সাথে কথা বলছিলো।
বিকেলে ভাবলাম তনুকে নিয়ে মুভি দেখতে
যাবো। ফোন দিলাম .. no response..
বাসার কেয়ার টেকার কে কল দিয়ে শুনলাম
তনু বাইরে গিয়েছে।
তনু কে বাসায় ফিরে জিজ্ঞেস করায় উত্তর
দিলো সে বাসাতেই ছিলো। টিভি
দেখছিলো তাই ফোন খেয়াল করে নি।
তনু মিথ্যা বলছে কিন্তু কেনো এটার তো
কারণ বুঝতে পারছি না। আমি জিজ্ঞেস
করলাম
-তুমি ফোন রিসিভ কর নাই তাই বাবুল
কাকাকে কল করেছিলাম। তিনি বলল তুমি
বাইরে গিয়েছো।
-কই না তো আমি বাসাতেই ছিলাম।
-তনু মিথ্যা বলছো কেন?
-হাহাহাহাহা দেখো তো কি কথা। তুমি
আমাকে বিশ্বাস করছো না?
-তুমি যেন আমার সাথে কেমন ব্যবহার
করছো তনু। আমার ভালো লাগছে না জান।
-তুমি ভুল ভাবছো ইফতি .আমি ঠিক আছি।
তনুকে জড়িয়ে ধরলাম। আদর করে তাকে
কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে আসলাম।
অন্তরঙ্গ একমুহুর্তে তনু হঠাৎ বলে উঠলো ---
-"আই লাভ ইউ আবির"
-(সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে গেলাম.!!!! আবির
কে??? উঠে বসলাম) তনু আবির কে?
-কই আমি তো কোন আবির বলি নি।
-হ্যাঁ তনু তুমি মাত্র বলেছো। বলো আমাকে
কে এই আবির?
-আহ ইফতি তুমি ভুল শুনেছো।
-দেখো তনু আমি অনেক দিন ধরে অবজার্ভ
করেছি। তুমি আমাকে যা তা বুঝাচ্ছো। কে
এই ছেলে?
-আমি এই ব্যাপারে কথা বলতে চাই না।
- কথা বলতে চাই না মানে?( খুব রেগে
গিয়ে তনুর হাত ধরলাম ,তনু হাত ছুটানোর
জন্য ঝাকি দেওয়ায় আমি ওকে থাপ্পর
দিয়ে বসলাম)
অনেক্ষণ সব স্থির ....
-তুমি জানতে চাইছো তো আবির কে?আবির
আমার এলাকার ছেলে। আমি একা ছিলাম।
তোমার অভাবে ভুগছিলাম। ও আমাকে
মেন্টালি সাপোর্ট করেছে। আমি ওকে
ভালবেসে ফেলেছি।
(আমি কি নিজ কানেই শুনছি? মন
চাচ্ছিলো আরও ৪/৫ টা কসিয়ে চড় মারি)
- তনু তুমি কি বলছো এসব? তোমার আব্বা
আম্মার সাথে আমি এই ব্যাপারে কথা
বলবো। তোমাকে ওখানে বেড়াতে
পাঠিয়েছিলাম। নষ্টামি করতে না।
(ফোন হাতে নিলাম ওর বাবাকে কল
দিতে)
হাতে ফোন নিতেই তনু বলল --
-ম্যসেঞ্জারে নাতাশা জাহান তোমাকে
যে অর্ধনগ্ন ছবি গুলো দিয়েছে সে
ব্যাপারেও একটু কথা বলিও।
(আমার বুক ধক করে উঠলো..নাতাশার কথা
তনু কি করে জানে?আমার কপাল বেয়ে ঘাম
ঝড়ছে)
-কোন নাতাশা? কে নাতাশা জাহান?
-নাতাশা জাহান যে তোমাকে ঐ রাতে
মেসেজ দিয়েছিল তার আর তোমার অর্ধনগ্ন
ছবি। লিখেছিলো দেখো আমার শরীরে
আদরের দাগ গুলো ফুটে উঠেছে। যে রাতে
আমি আমার সংসার এ নতুন অতিথি আনার
আবেদন করেছিলাম।যে রাতে তুমি
ঘুমিয়েছো আর আমি সারারাত কেদেছি
অঝোরে ..
মনে পরেছে ইফতি?
-আমি জানিনা কে পাঠিয়েছে। ফটোশপ
হতে পারে।
-তার চ্যাট আইকোন কিসিং ইমো। আর আমি
সে সময় তোমায় মেসেজ দিলে উত্তর আসতো
মেসেঞ্জারে একটা আস্তো বুড়ো আঙ্গুল।
উফ !!!!!
কত কষ্টে সে রাত পার করেছি আমি
জানো?
গত দুদিন আমি মিথ্যা বলার পর তোমার
অনুভূতি কি ছিলো ইফতি? আজ নিজে
মিথ্যা বলছো অনর্গল ..
-(এবার আর মিথ্যা বলার সাহস পাচ্ছিলাম
না) আমাকে মাফ করে দেও তনু। it was an
accident
-আমাকে তুমি মাফ করে দেও ইফতি।
আবিরের বিষয়টাও এক্সিডেন্ট .
-প্লিজ তনু এসব বলো না।তুমি আমাকে তখনই
বলতে।
-নাহ আমি তখন বললে তুমি আজ বুঝতে
পারতে না আমি তখন কি কষ্টটা পেয়েছি।
-তনু প্লিজ বলো সব তুমি বানিয়ে বলছো।
এমন কোন কিছুই না।
-না ইফতি এটাই সত্য।
-না তনু এগুলা সব মিথ্যা। আমি এগুলা মেনে
নিতে পারছি না। প্লিজ তুমি আমাকে মাফ
করে দেও। আমরা সব নতুন করে শুরু করবো।
-তুমিও একবার বলো ইফতি আমি যা দেখেছি
ভুল দেখেছি। আমরা আবার নতুন করে সব শুরু
করবো।আমি আবিরের সাথে স্রেফ একবার
শুধু আমাদের অজান্তে ওর ঘরে.. (কিছু বলে
উঠার আগে আমি তনুকে আবার চড় মারলাম)
হাহাহাহা আজ মেয়ে বলে চড় খাচ্ছি ইফতি।
তাহলে যেদিন তোমার মোবাইলে প্রথম
আরেকটা মেয়ের ওমন ছবি দেখেছি সেদিন
তোমাকে ঘুমের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে
মারা উচিৎ ছিলো.. তুমি ভুল করে মাফ
চাইছো আমি মাফ করে দিবো এই আশায়।
সেই ভুল আমি করলে আমার কোন মাফ নাই।
বাহ!! কি দারুন বিচার ..তাই না?
আমি চলে যাচ্ছি আবির. ওহ সরি ইফতি।
আমাকে থামিয়ো না তাহলে আজীবন একটা
জিন্দা লাশের সাথে তোমার সংসার করতে
হবে।
যা তুমি নিজে সইতে পারবে না তা আমার
কাছে কি করে আশা করো?উওর আমাকে
না তুমি তোমাকে কে দিতে থাকো।
তনু আমার চোখের সামনে দিয়ে বের হয়ে
গেলো। আমি আটকানোর সাহস পাচ্ছিলাম
না।
কি বলে আটাকাতাম?
ও তো ভুল বলে নি।
তনু চলে যাওয়ার কিছুদিন পর আমাকে
ডিভোর্স লেটার পাঠালো। খোঁজ নিয়ে
জানতে পারলাম আবির নামে কেউ আসলে
নেই। এটা হয়ত আমাকে তনু তার কষ্ট
বুঝানোর জন্য গল্প বানিয়ে বলেছিলো।হয়ত
বা সত্যিই এই নামে না হোক অন্য নামে
কেউ আছে অথবা কেউই নাই।
নিজের একটা ভুলের জন্য হারিয়ে ফেলেছি
আমার হাসিমুখের বৌ কে।।
তনু আর কখনো যোগাযোগ করেনি।
নাতাশা ও করে নি।
আমি তনুর কষ্টটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাই। একা হয়ে গেলাম আমি।
শুধু একটু লোভ করতে যেয়ে আমার "বৌ" টাকে হারিয়ে ফেললাম।
Comments
Post a Comment