বিয়ের শাড়ি
বাবা একটু আসবে?
'
আফজাল সাহেবের কথায় আমি ওনার দিকে তাকালাম।ভদ্রলোক টা এমনিতেই বেশ হাসিখুশি।আমাকে বেশ পছন্দই করে।কিন্তু ওনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে।
'
আফজাল সাহেবের বড় মেয়ের আজ বিয়ে।আজ বিয়ে বলতে,গতকাল বিয়ে হয়ে গেছে,আজ বউভাত। আমাদের পাশের ফ্লাটেই থাকে ওনারা।আমাকে বেশ পছন্দ সহ ভালওবাসে।সেই সুবাদে ওনার মেয়ের বিয়েতে আমার নাম দাওয়াতের লিষ্টের প্রথমেই আছে।তাছাড়া শুধু বিয়ে না,ওনার বাসায় যে কোন অনুষ্ঠানে আমার নিমন্ত্রন থাকবেই।
আমি আফজাল সাহেবের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-কিছু বলবেন?
-আসলে বাবা একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
ওনার কথায় আমিও একটু ভয় পেলাম।বিয়ে বাড়িতে ছোট সমস্যাগুলাও বেশ জটিল হয়ে যায়।আমি বললাম,
-কি সমস্যা?
-মিহি।
আফজাল সাহেবের মুখে মিহির কথা শুনে আমার গলাও শুকিয়ে গেলে।আফজাল সাহেবের ছোট মেয়ে।মেয়েটা যে রাগি।কিন্তু এর আবার কি হলো।আমি কিছু বলার আগেই উনি বললেন,
-আসলে মিহি যেতে চাচ্ছে না।
-কেন?
-কিছু বলছেও না।তুমি একটু দেখবে বাবা।
মিহি মেয়েটা দেখতে মিষ্টি হলেও কেমন যেন বেশ রাগী।মেয়েরা হবে শান্ত,নরম।কিন্ত ু এর দিকে পুরাই উলটো,অশান্ত,গরম ।তবে এই বদরাগী মেয়েটার প্রেমে আমি অনেক আগেই পড়েছি।শুনেছিলাম এই বাসার নিচতলার একটা ছেলে ওকে প্রপোজ করেছিল,তারপর ছেলেটা প্রায় দেড় মাস খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেটেছিল।আপনারাই ভাবুন কি মার টাই না মেরেছিল।এটা শোনার পর থেকে ওকে প্রপোজ করার ইচ্ছেটা আমার উবে গেছে।
"
'
আফজাল সাহেবের কথায় আমি ওনার দিকে তাকালাম।ভদ্রলোক
'
আফজাল সাহেবের বড় মেয়ের আজ বিয়ে।আজ বিয়ে বলতে,গতকাল বিয়ে হয়ে গেছে,আজ বউভাত। আমাদের পাশের ফ্লাটেই থাকে ওনারা।আমাকে বেশ পছন্দ সহ ভালওবাসে।সেই সুবাদে ওনার মেয়ের বিয়েতে আমার নাম দাওয়াতের লিষ্টের প্রথমেই আছে।তাছাড়া শুধু বিয়ে না,ওনার বাসায় যে কোন অনুষ্ঠানে আমার নিমন্ত্রন থাকবেই।
আমি আফজাল সাহেবের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-কিছু বলবেন?
-আসলে বাবা একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
ওনার কথায় আমিও একটু ভয় পেলাম।বিয়ে বাড়িতে ছোট সমস্যাগুলাও বেশ জটিল হয়ে যায়।আমি বললাম,
-কি সমস্যা?
-মিহি।
আফজাল সাহেবের মুখে মিহির কথা শুনে আমার গলাও শুকিয়ে গেলে।আফজাল সাহেবের ছোট মেয়ে।মেয়েটা যে রাগি।কিন্তু এর আবার কি হলো।আমি কিছু বলার আগেই উনি বললেন,
-আসলে মিহি যেতে চাচ্ছে না।
-কেন?
-কিছু বলছেও না।তুমি একটু দেখবে বাবা।
মিহি মেয়েটা দেখতে মিষ্টি হলেও কেমন যেন বেশ রাগী।মেয়েরা হবে শান্ত,নরম।কিন্ত
"
আমি আফজাল সাহেবকে দেখছি বলে মিহির রুমের দিকে গেলাম।মেয়েদের রুম বেশ গোছানোই হয়।মিহির রুমটাও বেশ গোছানো থাকে।বেশ কয়েকবার আসাও হয়েছিল।কিন্তু আজকে মিহির রুম দেখে মনে হচ্ছে আমি ভুলে হয়তো অন্য কারও রুমে ঢুকে পড়েছি।পুরো রুমটাই অগোছালো।একেকটা শাড়ি একেক জায়গায় পড়ে আছে।আমাকে দেখে মিহি রাগি গলায় বললো,
-আপনি এখানে।
-আসলে শুনলাম তুমি নাকি বিয়েতে যাবে না।
-ঠিকই শুনেছেন।
আমি এবার মিহির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-কারনটা কি জানতে পারি?
আমার কথায় মিহির মুখটা একটু মলিন হয়ে গেলো।একটু নরম সুরে বললো,
-দেখুনতো হাতের মেহেদী দেওয়াটা কেমন হয়েছে?
-বেশ ভাল তো।সুন্দর লাগছে।
-কচু লাগছে।একদম বিশ্রি লাগছে।
-এটাই কি কারন?
-না।
-তাহলে?
-আমার একটা শাড়িও পছন্দ হচ্ছে না।
মিহির কথায় আমি একটু অবাকই হলাম।এতগুলা শাড়ি থাকতে একটাও পছন্দ হচ্ছে না।আমি মিহিকে বললাম,
-আচ্ছা একটু ওয়েট করো আসছি।
কথাটি বলেই আমি চলে আসলাম।
"
এটা পছন্দ হয়?
'
মিহির দিকে আমি একটা শাড়ি বাড়িয়ে দিয়ে কথাটি বললাম।মেয়েটা আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে ফেললো।ওর কি শাড়িটা পছন্দ হয়নি।আমি যখনি শাড়িটা নিয়ে বের হতে যাব তখনি মিহি বললো,
-বিয়েতে কেও কালো শাড়ি পড়ে?
-কেন পড়েনা?
-হুম পড়ে।এই যেমন আজ আমি পড়বো।
মিহি কথাটি বলেই আমার হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে বললো,
-তবে আমার একটা শর্ত আছে।
-কি শর্ত।
-আপনার এই পাঞ্জাবিটা পালটে আমার দেওয়া পাঞ্জাবী পড়তে হবে।
মিহির কথায় আমি একটু অবাকই হলাম।ওর দেওয়া পাঞ্জাবী।আমি মিহিকে বললাম,
-আচ্ছা ঠিক আছে,পড়বো।
আমার কথায় মিহির মুখে হাসি ফুটে উঠলো।মেয়েটাকে হাসলে বেশ লাগে।
'
মিহি আমার হাতে একটা কালো পাঞ্জাবী দিয়ে বললো,
-নিন,পড়ে নিন।
-এখানে?
আমার কথায় মিহি মুচকি হেসে বললো,
-কেন আমার সামনে কোন সমস্যা?
-নাহ সমস্যা নেই।
কথাটি বলেই আমি গায়ে থাকা পাঞ্জাবীটা যখনি খুলতে যাব তখনি মিহি বললো,
-হয়েছে আর সাহস দেখাতে হবে না।আপনি চেঞ্জ করুন আমি অন্য রুমে যাচ্ছি।শাড়িটাতো পড়তে হবে।
-কেন,আমার সামনে পড়লে কি সমস্যা?
আমার কথায় মিহি একদম আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।আমি কিছু বলার আগেই মিহি বললো,
-কোন সমস্যা নেই,তবে সেটা বিয়ের পর।
কথাটি বলেই মিহি মুচকি হেসে চলে গেলো।কি বললো মেয়েটা।বিয়ের পর মানে।তার মানে কি মিহিও আমাকে ভালবাসে।নইলে এই পাঞ্জাবীটাই বা কেন পড়তে বললো।
"
দেখোতো কেমন লাগছে?
'
পাঞ্জাবীটা পড়ে মিহির রুমেই বসে ছিলাম।তখনি মিহি এসে কথাটি বললো।আমি মিহির দিকে শান্ত চোখেই তাকালাম।কালো শাড়িতে বেশ লাগছে মেয়েটাকে।কিন্তু ও আমাকে তুমি করে বললো!আমি মিহির দিকে তাকিয়ে বললাম,
-বেশ লাগছে।
-তোমাকেও।
-আচ্ছা পাঞ্জাবীটা কার জন্যে এনেছিলে?
মিহি মুচকি হেসে বললো,
-শাড়িটা যার জন্যে এনেছিলে পাঞ্জাবীটাও সে তোমার জন্যে এনেছে।
-আগে দাওনি কেন?
-ভয়ে।
-কিসের ভয়?
-জানা নেই।তবে কোথায় যেন আটকে যেতাম।
-এখন ভয় করছে না?
মিহি এবার আমার পাশে এসে বসে হাতটা শক্ত করে ধরে বললো,
-তোমাতেই আমার সাহস।তুমি শাড়িটা আগে দাওনি কেন?
-যখনি চেয়েছি শাড়িটা দেবো তখনি সেই নিচতলার ছেলেটার কথা মনে পড়েছে।সেই ভয়ে আর দেওয়া হয়নি।
মিহি আমার কথায় বেশ জোরেই হেসে উঠলো।আমি কি হাসির কথা বললাম নাকি।মিহি হাসি থামিয়ে বললো,
-তোমার কেন মনে হলো যে আমি সবার মত তোমার সাথেও এমন করবো?
মিহির কথায় আমি চুপ করে রইলাম।আসলেই তো আমার এমন কেন মনে হলো।আমার সাথে তো অন্য কিছুও ঘটতে পারতো।আমি কিছু বলার আগেই মিহি বললো,
-আপুর বিয়ে তো হয়ে গেলো,আমাদেরটা কবে হচ্ছে?
মিহির কথায় আমি ওর কপালে চুমু একে দিয়ে বললাম,
-আফজাল সাহেবকে আজই জানাবো।
-শ্বশুরমশায়ের নাম ধরে বলতে হয় না।
-এখনও তো হয়নি।
-হবে তো।
মিহির কথায় আমি আর কিছু বললাম না।ওকে বেশ শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম।বেশ লাগছে।মনে হচ্ছে সব শান্তি আজ আমাকে ভর করেছে।থাকুক না কিছুক্ষন এভাবে।সমস্যা কি?
-আপনি এখানে।
-আসলে শুনলাম তুমি নাকি বিয়েতে যাবে না।
-ঠিকই শুনেছেন।
আমি এবার মিহির দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-কারনটা কি জানতে পারি?
আমার কথায় মিহির মুখটা একটু মলিন হয়ে গেলো।একটু নরম সুরে বললো,
-দেখুনতো হাতের মেহেদী দেওয়াটা কেমন হয়েছে?
-বেশ ভাল তো।সুন্দর লাগছে।
-কচু লাগছে।একদম বিশ্রি লাগছে।
-এটাই কি কারন?
-না।
-তাহলে?
-আমার একটা শাড়িও পছন্দ হচ্ছে না।
মিহির কথায় আমি একটু অবাকই হলাম।এতগুলা শাড়ি থাকতে একটাও পছন্দ হচ্ছে না।আমি মিহিকে বললাম,
-আচ্ছা একটু ওয়েট করো আসছি।
কথাটি বলেই আমি চলে আসলাম।
"
এটা পছন্দ হয়?
'
মিহির দিকে আমি একটা শাড়ি বাড়িয়ে দিয়ে কথাটি বললাম।মেয়েটা আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করে ফেললো।ওর কি শাড়িটা পছন্দ হয়নি।আমি যখনি শাড়িটা নিয়ে বের হতে যাব তখনি মিহি বললো,
-বিয়েতে কেও কালো শাড়ি পড়ে?
-কেন পড়েনা?
-হুম পড়ে।এই যেমন আজ আমি পড়বো।
মিহি কথাটি বলেই আমার হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে বললো,
-তবে আমার একটা শর্ত আছে।
-কি শর্ত।
-আপনার এই পাঞ্জাবিটা পালটে আমার দেওয়া পাঞ্জাবী পড়তে হবে।
মিহির কথায় আমি একটু অবাকই হলাম।ওর দেওয়া পাঞ্জাবী।আমি মিহিকে বললাম,
-আচ্ছা ঠিক আছে,পড়বো।
আমার কথায় মিহির মুখে হাসি ফুটে উঠলো।মেয়েটাকে হাসলে বেশ লাগে।
'
মিহি আমার হাতে একটা কালো পাঞ্জাবী দিয়ে বললো,
-নিন,পড়ে নিন।
-এখানে?
আমার কথায় মিহি মুচকি হেসে বললো,
-কেন আমার সামনে কোন সমস্যা?
-নাহ সমস্যা নেই।
কথাটি বলেই আমি গায়ে থাকা পাঞ্জাবীটা যখনি খুলতে যাব তখনি মিহি বললো,
-হয়েছে আর সাহস দেখাতে হবে না।আপনি চেঞ্জ করুন আমি অন্য রুমে যাচ্ছি।শাড়িটাতো
-কেন,আমার সামনে পড়লে কি সমস্যা?
আমার কথায় মিহি একদম আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। ওর নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।আমি কিছু বলার আগেই মিহি বললো,
-কোন সমস্যা নেই,তবে সেটা বিয়ের পর।
কথাটি বলেই মিহি মুচকি হেসে চলে গেলো।কি বললো মেয়েটা।বিয়ের পর মানে।তার মানে কি মিহিও আমাকে ভালবাসে।নইলে এই পাঞ্জাবীটাই বা কেন পড়তে বললো।
"
দেখোতো কেমন লাগছে?
'
পাঞ্জাবীটা পড়ে মিহির রুমেই বসে ছিলাম।তখনি মিহি এসে কথাটি বললো।আমি মিহির দিকে শান্ত চোখেই তাকালাম।কালো শাড়িতে বেশ লাগছে মেয়েটাকে।কিন্তু
-বেশ লাগছে।
-তোমাকেও।
-আচ্ছা পাঞ্জাবীটা কার জন্যে এনেছিলে?
মিহি মুচকি হেসে বললো,
-শাড়িটা যার জন্যে এনেছিলে পাঞ্জাবীটাও সে তোমার জন্যে এনেছে।
-আগে দাওনি কেন?
-ভয়ে।
-কিসের ভয়?
-জানা নেই।তবে কোথায় যেন আটকে যেতাম।
-এখন ভয় করছে না?
মিহি এবার আমার পাশে এসে বসে হাতটা শক্ত করে ধরে বললো,
-তোমাতেই আমার সাহস।তুমি শাড়িটা আগে দাওনি কেন?
-যখনি চেয়েছি শাড়িটা দেবো তখনি সেই নিচতলার ছেলেটার কথা মনে পড়েছে।সেই ভয়ে আর দেওয়া হয়নি।
মিহি আমার কথায় বেশ জোরেই হেসে উঠলো।আমি কি হাসির কথা বললাম নাকি।মিহি হাসি থামিয়ে বললো,
-তোমার কেন মনে হলো যে আমি সবার মত তোমার সাথেও এমন করবো?
মিহির কথায় আমি চুপ করে রইলাম।আসলেই তো আমার এমন কেন মনে হলো।আমার সাথে তো অন্য কিছুও ঘটতে পারতো।আমি কিছু বলার আগেই মিহি বললো,
-আপুর বিয়ে তো হয়ে গেলো,আমাদেরটা কবে হচ্ছে?
মিহির কথায় আমি ওর কপালে চুমু একে দিয়ে বললাম,
-আফজাল সাহেবকে আজই জানাবো।
-শ্বশুরমশায়ের নাম ধরে বলতে হয় না।
-এখনও তো হয়নি।
-হবে তো।
মিহির কথায় আমি আর কিছু বললাম না।ওকে বেশ শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম।বেশ লাগছে।মনে হচ্ছে সব শান্তি আজ আমাকে ভর করেছে।থাকুক না কিছুক্ষন এভাবে।সমস্যা কি?
Comments
Post a Comment