লাল পাড়ের বৈশাখ
প্রখর রৌদ্রের উত্তাপ মাথায় নিয়ে সকাল থেকে দুপুর অবধি দুটি মাত্র পা দিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অবশেষে মধ্যাহ্ন ভোজন করেন কয়েক টুকরা পাউরুটি ভেজানো চা দিয়ে,আমাদের মোতালেব চাচা।
হ্যাঁ,,গত এক সপ্তাহ যাবত তিনি এই হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরও দুপুরে ভাতের বদলে পাউরুটি আর চা দিয়ে কাজ সারেন কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় শুধুমাত্র ছোট্ট মেয়েটির একটা লাল পাড়ের শাড়ি কিনে দেবেন বলে।
মোতালেব চাচার সাত বছরের মেয়ে নোলক।স্কুলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান।সবাইকে শাড়ি পরে আসতে হবে।ছোট্ট নোলকটিও তাই বাবার কাছে বায়না ধরেছে একটা লাল পাড়ের শাড়ির জন্য।নোলকের বয়স যখন এক বছর তখন ওর মা মারা যায়।সেই তখন থেকেই এত বছর অবধি নোলককে একটু একটু করে বড় করে তুলেছেন।মেয়েকে স্কুলে পৌছে দিয়ে প্রতিদিনের মত আজও রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন মোতালেব চাচা।
ঐ মামা,,,ধানমন্ডি বত্রিশ চলো।
এক জোড়া কপোত কপতি হাত নেড়ে ইশারা করছে।ওদের রিকশায় তুলে চাচা আগাচ্ছিলেন,কিছু দুর যাবার পর জ্যাম নামক সাইলেন্ট কিলারের আবির্ভাব হলো।বেলা গড়িয়ে সাড়ে বারোটা।মাথার উপর রৌদ্রের খরতাপ আর পায়ের নিচে গরম পিচের উত্তাপ।সবমিলিয়ে পরনের ছেড়া শার্টটা ত্যানার মত হয়ে গেছে।
ইস,,,বাবু তুমি তো একদম ঘেমে গেছো।কপোত কপোতিকে লক্ষ করে বলছে।আর কি এক রিকশায় উঠলাম হুডটাও নষ্ট।ঐ মিয়া,,নষ্ট রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামছো কেন হ্যা?ফালতু একটা।
রিকশার হুডটায় গত কয়েকদিন ধরে ঝামেলা।টান দিয়ে উঠালেও বার বার আপনিই পড়ে যায়।যে রিক্সার সামান্য হুডের ঝামেলার জন্য প্রেয়সীর গায়ের রং চটে যাবার অজুহাতে আমরা বিরক্ত হই,সেই একই রিক্সার চালক হুড ছাড়াই রোদে পুড়ে এমনকি বৃষ্টিতেও ভিজে যায় শুধুমাত্র আমাদেরকে পৌছে দেবে বলে।কতটা অসাধারণ আমাদের মানষিকতাগুলো ভাবতেই অবাক লাগে।
মোতালেব চাচা শুধু মুচকি হাসলেন।চাচার জায়গায় যদি আমি থাকতাম,কইসা দুইডা থাপ্পড় বসাইতাম।আর কলারখান ধইরা টান দিয়া নিচে নামাইয়া বলতাম,যা ব্যাটা এই ভরদুপুরে দুইবার প্যাডেল মাইরা দেখা দেখি তোর ভলিউম কতদুর।
জোড়া শালিককে ধানমন্ডি নামিয়ে ফেরার পথে রিকশার উপর একটা আইডি কার্ড পেলেন।কার্ডটা ফেরত দিতে চাচা ব্রাক ইউনিভার্সিটির সামনে দাড়ালেন এবং সেই জোড়া শালিককে একসাথে দেখে চিনতে বিলম্ব হলো না।
আফা,,আপনের কার্ড।
ভ্রু কুচকিয়ে চোখজোড়া ছানাবড়া করে আফা মোতালেব চাচার দিকে তাকালেন।কিছু বখশিসও দিতে চাইলেন।কিন্তু চাচা প্রত্যাখান করে শুধু বললেন,আফা,আমরাও মানুষ।আমাদের বিরিয়ানির দরকার হয় না।ডাল ভাতেই চইলা যায়।
চাচা রিকশা ঘুরাতেই প্রভাবশালী গাড়ির কবলে পড়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হন।পরদিন নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়।চোখ মেলে দেখেন,নোলক দাড়িয়ে আছে লাল পাড়ের শাড়ি পরে।
এই শাড়িটা কেমনে পাইলি মা?
এইডা মার শাড়ি।ট্রাংকের ভিতর পাইছি বাজান।এখন কওতো আইজকা আমরা কি খামু?
আইজকা তো পয়লা বৈশাখ।হগোলে তো পান্তা আর ভর্তা খায় মা।
ঐডা তো আমরা রোজই খাই বাজান।আইজকা আমরা বিরিয়ানি খাবো।
মোতালেব চাচার চোখ দিয়ে সুখের অশ্রু বের হচ্ছে।
হ্যাঁ,,গত এক সপ্তাহ যাবত তিনি এই হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরও দুপুরে ভাতের বদলে পাউরুটি আর চা দিয়ে কাজ সারেন কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় শুধুমাত্র ছোট্ট মেয়েটির একটা লাল পাড়ের শাড়ি কিনে দেবেন বলে।
মোতালেব চাচার সাত বছরের মেয়ে নোলক।স্কুলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান।সবাইকে
ঐ মামা,,,ধানমন্ডি
এক জোড়া কপোত কপতি হাত নেড়ে ইশারা করছে।ওদের রিকশায় তুলে চাচা আগাচ্ছিলেন,কিছু
ইস,,,বাবু তুমি তো একদম ঘেমে গেছো।কপোত কপোতিকে লক্ষ করে বলছে।আর কি এক রিকশায় উঠলাম হুডটাও নষ্ট।ঐ মিয়া,,নষ্ট রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামছো কেন হ্যা?ফালতু একটা।
রিকশার হুডটায় গত কয়েকদিন ধরে ঝামেলা।টান দিয়ে উঠালেও বার বার আপনিই পড়ে যায়।যে রিক্সার সামান্য হুডের ঝামেলার জন্য প্রেয়সীর গায়ের রং চটে যাবার অজুহাতে আমরা বিরক্ত হই,সেই একই রিক্সার চালক হুড ছাড়াই রোদে পুড়ে এমনকি বৃষ্টিতেও ভিজে যায় শুধুমাত্র আমাদেরকে পৌছে দেবে বলে।কতটা অসাধারণ আমাদের মানষিকতাগুলো ভাবতেই অবাক লাগে।
মোতালেব চাচা শুধু মুচকি হাসলেন।চাচার জায়গায় যদি আমি থাকতাম,কইসা দুইডা থাপ্পড় বসাইতাম।আর কলারখান ধইরা টান দিয়া নিচে নামাইয়া বলতাম,যা ব্যাটা এই ভরদুপুরে দুইবার প্যাডেল মাইরা দেখা দেখি তোর ভলিউম কতদুর।
জোড়া শালিককে ধানমন্ডি নামিয়ে ফেরার পথে রিকশার উপর একটা আইডি কার্ড পেলেন।কার্ডটা ফেরত দিতে চাচা ব্রাক ইউনিভার্সিটির সামনে দাড়ালেন এবং সেই জোড়া শালিককে একসাথে দেখে চিনতে বিলম্ব হলো না।
আফা,,আপনের কার্ড।
ভ্রু কুচকিয়ে চোখজোড়া ছানাবড়া করে আফা মোতালেব চাচার দিকে তাকালেন।কিছু বখশিসও দিতে চাইলেন।কিন্তু চাচা প্রত্যাখান করে শুধু বললেন,আফা,আমরাও
চাচা রিকশা ঘুরাতেই প্রভাবশালী গাড়ির কবলে পড়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হন।পরদিন নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়।চোখ মেলে দেখেন,নোলক দাড়িয়ে আছে লাল পাড়ের শাড়ি পরে।
এই শাড়িটা কেমনে পাইলি মা?
এইডা মার শাড়ি।ট্রাংকের ভিতর পাইছি বাজান।এখন কওতো আইজকা আমরা কি খামু?
আইজকা তো পয়লা বৈশাখ।হগোলে তো পান্তা আর ভর্তা খায় মা।
ঐডা তো আমরা রোজই খাই বাজান।আইজকা আমরা বিরিয়ানি খাবো।
মোতালেব চাচার চোখ দিয়ে সুখের অশ্রু বের হচ্ছে।
Comments
Post a Comment