মিষ্টি বউ এর ভালোবাসা!
ব্রীজের উপর অনেকক্ষণ পা ঝুলে বসে আছি।এটা আমার নিত্ত্যদিনের অভ্যাস।কলেজ শেষে ব্রীজে কিছুক্ষণ সময় কাটানো।কিন্তু এখন কলেজ নেই।অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে চাকরী খুজচ্ছি।আজকেও একটা চাকরীর ইন্টারভিউ ছিলো।এর আগেও অনেক গুলো চাকরীর ইন্টারভিউ দিয়েছি লাভ হয়নি।লোকে বলে চাচা,মামা,খালু ছাড়া এখন চাকরী পাওয়া যায় না।এখন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
অন্য দিকে রাহির বাবা রাহির বিয়ে ঠিক করেছে।রাহি আমার প্রেমিকা।রাহি চায় একটা চাকরী খুজে আমাদের বিয়ের কথা তার বাবাকে বলি।কিন্তু এতো অল্প সময়ে চাকরী পাবো কই।মধ্যবৃত্ত ফ্যামিলির ছেলে তাই যেমন তেমন চাকরী তো আর নেয়া যাবেনা।ভালো চাকুরী পেতে হলে ঘুষ দিতে হয়।বাবা সৎ লোক তাই বাবা ও চায়না ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিতে।এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ব্রীজের উপর থেকে নিচে নামবো বলে দাঁড়ালাম সেই সময় একটা মেয়ে চিৎকার করে উঠলো।
:আপনি মরতে যাচ্ছেন কেন?এইভাবে কাপুরুষের মতো কেউ মরে নাকি।প্লিজ ব্রীজের উপর থেকে নেমে আসুন।জীবন অনেক সুন্দর।বুঝার চেষ্টা করুন সুইসাইড সব কিছুর সমাধান নয়।
আমি কিছুক্ষণ হা করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।আমি কেন সুইসাইড করবো আজব।ওহ হো আমি এইভাবে দাঁড়িয়ে আছি বলে হয়তো ভাবছে সুইসাইড করছি।তাই একটু ভাব নিয়ে বললাম
:বেচে থেকে কি লাভ?জিএফ এর বিয়ে হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে।চাকরীর বাবা মাকে খুজে তো পাচ্ছিনা চাকরী পাবো কই।আমি বেচে থেকে কি করবো?(একটু কাদো কাদো গলায় কথা গুলো বললাম)
:আরে আরে বলে কি ছেলে।এই নেমে আসুন।আপনার সাথে কিছু কথা আছে।
নেমে আসলাম
:জ্বী বলুন কি বলবেন?
:জীবনে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাই বলে সুইসাইড করে মুখ লুকিয়ে
পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া উচিৎ নয়।আপনি ভেবে দেখুন তো একবার।আপনার বাবা মা আপনাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে।ওরা তো অনেক আশা নিয়ে আপনাকে বড় করছেন।ওদের কথা ভেবে অনন্ত এইসব আজে বাজে চিন্তা বাদ দিন।
মেয়েটা অনেক সিরিয়াস হয়ে কথা গুলো বলছে সেটা বুঝা যাচ্ছে।তাই সত্যিটা বলা দরকার
:আপনি আসলে ভুল ভাবছেন।আমি সুইসাইড করতে দাড়াইনি এতোক্ষণ বসে ছিলাম বাসায় যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু এর মধ্যে আপনি এসে গেলেন আর এতোক্ষণ ভাষণ শুনালেন।
দেখলাম মেয়েটি চোখ লাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
:এই ছেলে সাহস হয় কি করে এইভাবে মিথ্যে বলার।আমি ভাষণ দিচ্ছি তাইনা।একটা মানুষকে মরতে দেখে তাকে মরতে দিলে ভালো হতো তাইনা?ফাজিল
:মাফ হয়ে গেছে ভুল করে দিন।
:আপনার মাথায় সমস্যা আছে নাকি।উল্টা পাল্টা কি বকছেন।
:দ্যাত আপনি যেভাবে চোখ লাল করে তাকালেন কথা সব গুলিয়ে যাচ্ছে।স্যরি
:হুম ওকে।বাসায় যান।না হয় পাগল ভেবে পাবনার টিকেট ধরিয়ে দিবে।
:আপনি কিন্তু এখন আমাকে অপমান করছেন।
:অপমান করছি তা বুঝতে পেরেছেন এটাই অনেক।পাগল
কি আর বলবো।এই মেয়ের সামনে কিছু মুখ ফুটে বলার সাহস পাচ্ছিনা।এমনিতে আমি অনেক বাচাল।কেন জানিনা কিছু বলতে ভয় লাগছিলো।তাই চুপ চাপ বাসার দিকে রওনা হলাম।ফোনটা বেজে উঠলো
:হুম রাহি বলো
:ওই ছাগল আমার নাম মুখে নিবিনা।ইন্টারভি উ কেমন হইছে?
:ভালোই তো দিয়েছি।প্রতিবার ভালোই দি কিন্তু চাকুরী হয়না এটাই মূল কারণ
:হাজার মানুষের চাকুরী হয় তোর চাকুরী হয়না কেন শুনি?
:আমার তো আর চাচা,মামা,খালু কোন অফিসের বস নয় তাই হয়না হয়তো।
:আরে ওইসব কিছুনা তুই যে ছাগল তাই হয়না।
:দেখো কথায় কথায় ছাগল বলবা না।আমি রাহিম।সুন্দর করে রাহিম বলে ডাকতে পারোনা?
:তোর মতো ছাগলকে ছাগল ডাকবোনা তা কি করে হয়।চাকুরী যেদিন খুজে পাবি সেদিন আমার সাথে কথা বলবি বায়
:আরে রাহি শুনো প্লিজ।টুটু টুটু টু
যাহ কেটে দিলো কথাটা শেষ করতেও দিলোনা।কথা শেষ করতে দিবে কেন ও নিজ থেকে কল করে একটা ছাগলের জন্য টাকা খরচ করবে এটা তো ঠিক না।রাহি ঠিকি বলে আমি ছাগল।
:মা শুনো......
:কি হয়েছে?
:বাবাকে একটু বলো রাহির বাবার সাথে কথা বলতে।
:কোন ব্যাপারে?
:মা বুঝেও না বুঝার ভান করোনা তো
:তোর বাবা কোন মুখে রাহির বাবাকে বলবে আমার ছেলে বেকার আপনার মেয়েকে আমার ছেলের বঊ করবো।সেই মুখ তোর বাবার নেই বুঝলি।পারলে তাড়াতাড়ি চাকুরী জোগাড় কর
:চাকুরী চাকুরী আর চাকুরী।জীবনটা শেষ কইরা দিলো উফফ।
রুমে চলে আসলাম।না এইভাবে আর কতো।চাকুরী যে করে হোক জোগাড় করতে হবে।না হয় কোন ভাবে রাহিকে পাওয়া সম্ভব না।যেমন তেমন চাকুরি হলেও হবেনা।
সব বাবা তো চায় মেয়েকে যার হাতে তুলে দিবে সে যেনো সব দিক থেকে সুখি রাখতে পারে।এইসব ভাবতে ভাবতে মাথা ধরে যায়।
রাতে খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাহির সাথে একবার কথা না বললে আমার ঘুম ভালো হয়না।তাই কল দিলাম
কিন্তু একি রাহির ফোন অফ।কি ব্যাপার ওর ফোন তো অফ থাকেনা।কি হলো আবার!
বার বার কল দিচ্ছি কিন্তু না ফোন অফ বলছে।মনটা খারাপ হয়ে গেলো।কি করবো এখন। ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি।
অন্য দিকে রাহির বাবা রাহির বিয়ে ঠিক করেছে।রাহি আমার প্রেমিকা।রাহি চায় একটা চাকরী খুজে আমাদের বিয়ের কথা তার বাবাকে বলি।কিন্তু এতো অল্প সময়ে চাকরী পাবো কই।মধ্যবৃত্ত ফ্যামিলির ছেলে তাই যেমন তেমন চাকরী তো আর নেয়া যাবেনা।ভালো চাকুরী পেতে হলে ঘুষ দিতে হয়।বাবা সৎ লোক তাই বাবা ও চায়না ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিতে।এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ব্রীজের উপর থেকে নিচে নামবো বলে দাঁড়ালাম সেই সময় একটা মেয়ে চিৎকার করে উঠলো।
:আপনি মরতে যাচ্ছেন কেন?এইভাবে কাপুরুষের মতো কেউ মরে নাকি।প্লিজ ব্রীজের উপর থেকে নেমে আসুন।জীবন অনেক সুন্দর।বুঝার চেষ্টা করুন সুইসাইড সব কিছুর সমাধান নয়।
আমি কিছুক্ষণ হা করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।আমি কেন সুইসাইড করবো আজব।ওহ হো আমি এইভাবে দাঁড়িয়ে আছি বলে হয়তো ভাবছে সুইসাইড করছি।তাই একটু ভাব নিয়ে বললাম
:বেচে থেকে কি লাভ?জিএফ এর বিয়ে হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে।চাকরীর বাবা মাকে খুজে তো পাচ্ছিনা চাকরী পাবো কই।আমি বেচে থেকে কি করবো?(একটু কাদো কাদো গলায় কথা গুলো বললাম)
:আরে আরে বলে কি ছেলে।এই নেমে আসুন।আপনার সাথে কিছু কথা আছে।
নেমে আসলাম
:জ্বী বলুন কি বলবেন?
:জীবনে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাই বলে সুইসাইড করে মুখ লুকিয়ে
পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া উচিৎ নয়।আপনি ভেবে দেখুন তো একবার।আপনার বাবা মা আপনাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে।ওরা তো অনেক আশা নিয়ে আপনাকে বড় করছেন।ওদের কথা ভেবে অনন্ত এইসব আজে বাজে চিন্তা বাদ দিন।
মেয়েটা অনেক সিরিয়াস হয়ে কথা গুলো বলছে সেটা বুঝা যাচ্ছে।তাই সত্যিটা বলা দরকার
:আপনি আসলে ভুল ভাবছেন।আমি সুইসাইড করতে দাড়াইনি এতোক্ষণ বসে ছিলাম বাসায় যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু এর মধ্যে আপনি এসে গেলেন আর এতোক্ষণ ভাষণ শুনালেন।
দেখলাম মেয়েটি চোখ লাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
:এই ছেলে সাহস হয় কি করে এইভাবে মিথ্যে বলার।আমি ভাষণ দিচ্ছি তাইনা।একটা মানুষকে মরতে দেখে তাকে মরতে দিলে ভালো হতো তাইনা?ফাজিল
:মাফ হয়ে গেছে ভুল করে দিন।
:আপনার মাথায় সমস্যা আছে নাকি।উল্টা পাল্টা কি বকছেন।
:দ্যাত আপনি যেভাবে চোখ লাল করে তাকালেন কথা সব গুলিয়ে যাচ্ছে।স্যরি
:হুম ওকে।বাসায় যান।না হয় পাগল ভেবে পাবনার টিকেট ধরিয়ে দিবে।
:আপনি কিন্তু এখন আমাকে অপমান করছেন।
:অপমান করছি তা বুঝতে পেরেছেন এটাই অনেক।পাগল
কি আর বলবো।এই মেয়ের সামনে কিছু মুখ ফুটে বলার সাহস পাচ্ছিনা।এমনিতে
:হুম রাহি বলো
:ওই ছাগল আমার নাম মুখে নিবিনা।ইন্টারভি
:ভালোই তো দিয়েছি।প্রতিবার
:হাজার মানুষের চাকুরী হয় তোর চাকুরী হয়না কেন শুনি?
:আমার তো আর চাচা,মামা,খালু কোন অফিসের বস নয় তাই হয়না হয়তো।
:আরে ওইসব কিছুনা তুই যে ছাগল তাই হয়না।
:দেখো কথায় কথায় ছাগল বলবা না।আমি রাহিম।সুন্দর করে রাহিম বলে ডাকতে পারোনা?
:তোর মতো ছাগলকে ছাগল ডাকবোনা তা কি করে হয়।চাকুরী যেদিন খুজে পাবি সেদিন আমার সাথে কথা বলবি বায়
:আরে রাহি শুনো প্লিজ।টুটু টুটু টু
যাহ কেটে দিলো কথাটা শেষ করতেও দিলোনা।কথা শেষ করতে দিবে কেন ও নিজ থেকে কল করে একটা ছাগলের জন্য টাকা খরচ করবে এটা তো ঠিক না।রাহি ঠিকি বলে আমি ছাগল।
:মা শুনো......
:কি হয়েছে?
:বাবাকে একটু বলো রাহির বাবার সাথে কথা বলতে।
:কোন ব্যাপারে?
:মা বুঝেও না বুঝার ভান করোনা তো
:তোর বাবা কোন মুখে রাহির বাবাকে বলবে আমার ছেলে বেকার আপনার মেয়েকে আমার ছেলের বঊ করবো।সেই মুখ তোর বাবার নেই বুঝলি।পারলে তাড়াতাড়ি চাকুরী জোগাড় কর
:চাকুরী চাকুরী আর চাকুরী।জীবনটা শেষ কইরা দিলো উফফ।
রুমে চলে আসলাম।না এইভাবে আর কতো।চাকুরী যে করে হোক জোগাড় করতে হবে।না হয় কোন ভাবে রাহিকে পাওয়া সম্ভব না।যেমন তেমন চাকুরি হলেও হবেনা।
সব বাবা তো চায় মেয়েকে যার হাতে তুলে দিবে সে যেনো সব দিক থেকে সুখি রাখতে পারে।এইসব ভাবতে ভাবতে মাথা ধরে যায়।
রাতে খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাহির সাথে একবার কথা না বললে আমার ঘুম ভালো হয়না।তাই কল দিলাম
কিন্তু একি রাহির ফোন অফ।কি ব্যাপার ওর ফোন তো অফ থাকেনা।কি হলো আবার!
বার বার কল দিচ্ছি কিন্তু না ফোন অফ বলছে।মনটা খারাপ হয়ে গেলো।কি করবো এখন। ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেলাম বুঝতে পারিনি।
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম।ইন্টার্ভি উ তো দিয়ে আসলাম নেক্সট আরেকটা আছে সেটা আরো ৩দিন পর।তাই কিছু বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হলাম।তারাও আমার মতো চাকুরী না পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।কিছুক্ ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম বাসার জন্য কিছু বাজার হাতে নিয়ে হাটছি তখন রাহি কল করে বললো
:তোমাকে এই ৩বছর সুযোগ দিয়েছি বাট আর নয়।আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তুমি চাকুরী খুজতে থাকো।বায়
:এই রাহি প্লিজ আমার কথাটা শুনো।এতো দিনের রিলেশন তোমার কি একটুও খারাপ লাগছেনা?
:খারাপ লাগবে কেন?তুমি কি পারবে আমার বাবার মনের মতো হতে তাহলে অবশ্যই তোমাকে বিয়ে করবো
:আমি তো চাকুরী খুজচ্ছি।অনেক চেষ্টা করছি বাট চাকুরী না হলে কি করবো?
:তাহলে কথা বাড়াচ্ছো কেন?এক কথায় বললে পারো আমি যা করছি ঠিক করছি।ভালো থেকো।বায়
:প্লিজ রাহি..........
টু টু টু
কল কেটে দিলো।অনেকবার কল করার চেষ্টা করলাম কিন্তু ফোন অফ।রাহি অন্য কারোর হয়ে যাবে এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে।আনমনে বাসায় আসলাম।বাজারের ব্যাগ রেখে রুমের দিকে যাচ্ছিলাম তখন মা বললো
:বাবু তোর মন খারাপ কেন?
:রাহির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
:মন খারাপ করিস না।আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে।তোর জন্য ভালো কিছু রেখেছেন উনি তাই এমনটা হচ্ছে।আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।
:হুম
মা কথাটা ভুল বলেনি কিন্তু আমি তো রাহিকে আমার করে নিয়েছিলাম তাই একটু কষ্ট লাগছে।খবর পেয়েছি চাকরীটা হয়নি।চাকরীটা হলে অনন্ত ওর বাবাকে বলে বিয়ে টা বন্ধ করতে পারতাম।কিন্তু তাও সম্ভব নয়।বিকেলে ব্রিজের পাশে বসে বসে ভাবছি নদীতে যদি ঝাপ দেয়া যায় তাহলে নির্ঘাত আমি প্রাণ হারাবো।হয়তো ভাগ্য ক্রমে বেচে যাবো তবে মরে গেলে শান্তি পাবো।এই ভেবে উঠে দাড়ালাম।যেই না ঝাপ দিবো পিছন থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠ বেসে আসলো
:মরবেন?ওকে ঝাপ দিন দেখি কেমন সাহস।
পিছন ফিরে দেখি আগের দিনের সেই মেয়েটি।
:আজকে মোটেও মজা করছিনা আমি।মরে গেলে শান্তি পাবো অনেক।চাকরীটা আর হলোনা।রাহির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
:কিন্তু যার জন্য মরতে যাচ্ছেন সে তো দিব্বি ভালো আছে তাইনা?
:হয়তো।
:তাহলে আপনি কেন মরবেন?দেখুন মি: আমি আপনাকে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলি যেটা শুনার পর আপনি বুঝবেন আপনার থেকেও বেশি কষ্টে বেচে আছে কিছু মানুষ।
রাতুলের সাথে পরিচয় একটা বিয়েতে।আমার কাজিনের বিয়ে ছিলো।আমি মেয়ে পক্ষের আর রাতুল ছেলে পক্ষের।অনুষ্ঠান ে ওর সাথে আমার অনেক বার দেখা হয়েছে।ও কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেনি।তারপর ও আমার বান্ধুবির থেকে আমার মোবাইল নাম্বার জোগাড় করে।আমার বান্ধুবি এই ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেনি।আমি তখন ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষে ভর্তি হই।আর রাতুল পড়ালিখা শেষ করে চাকরী করতো।ভালোই ছিলো সব দিকে।কিছুদিন ও আমার সাথে অপরিচিত হয়ে কথা বলে।কিন্তু অপরিচিত হওয়ায় কথা বলতে চাইতাম
না।ও বিভিন্ন প্রশ্ন করতো আর আমি সেই গুলোর উত্তর দিয়ে কল রেখে দিতাম।প্রায় ১৫দিন পর রাতুল নিজের পরিচয় বলে।তখন আমি একটু রিয়েক্ট করি আর ও কিভাবে আমার নাম্বার পেয়েছে তাও বলে। সেদিন রাতুল আমাকে অফার করে রিলেশনে জড়ানোর জন্য।কিন্তু আমি রিলেশন সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী ছিলাম না তাই না করে দি।ও তখন আমাকে বিয়ে করবে বলে।তখন আমি আমার মা বাবার সাথে কথা বলতে বলি।তারপর ওর আম্মুকে দিয়ে আমার ফ্যামিলির সবাইকে রাজী করার আর বিয়েও ফাইনাল হয়।তবে আমার ফ্যামিলির সবাই শুধু কাবিন করে রাখবে বলে রাজি হয়েছে কারণ আমার পড়ালিখা শেষ হয়নি।রাতুল এই নিয়ে কোন আপত্তি করেনি।কাবিন হয়ে গেলো।আগের থেকে রিলেশনটা আরো বেশি গভীর হলো।রাতুল অনেক বেশি ভালোবাসতো সেটা ওর পাগলামি দেখে বুঝতে পারতাম।আমার নাম রূম্পা কিন্তু ও আমার রূপ বলে ডাকতো।সপ্তাহে একদিন দেখা করতে না পারলে পাগল হয়ে যেতো।মাঝে মাঝে নিজেকে ভাগ্যবতী বলে মনে হতো।কিন্তু নিয়তি যে আমার সাথে এইভাবে খেলা করবে সেটা আমার জানা ছিলোনা।
কাবিনের ১বছর ৬মাস পরের কথা★
রাতুল আমার সাথে দেখা করতে কলেজের দিকে আসছিলো।তাও আমাকে না জানিয়ে সারপ্রাইজ দিবে বলে আসছিলো।কিন্তু তখনি একটা এক্সিডেন্টে রাতুল আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়।
অনেক চেষ্টার পরো বাচানো যায়নি রাতুলকে।আমি তখন ইন্টার ফাইনাল দিবো।পরীক্ষার ঠিক ১১দিন আগে রাতুল আমাকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে।সেইবার আর পরীক্ষা দিতে পারিনি।নিজেকে কোন ভাবে বুঝাতে পারছিলাম না।অনেক বার সুইসাইড করবো বলে ঠিক করেছিলাম কিন্তু পারিনি।সাহস পাইনি সুইসাইড করার।আমার শ্বাশুড়ি এখনো আমাকে বঊমা বলে ডাকে।নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে।প্রায় সময় উনি আমাকে বাসায় বেড়াতে নিয়ে যায়।এতো সুখ হয়তো আমার কপালে ছিলোনা তাই বিধাতা আমার থেকে রাতুলকে কেড়ে নিয়েছে।
:তোমাকে এই ৩বছর সুযোগ দিয়েছি বাট আর নয়।আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তুমি চাকুরী খুজতে থাকো।বায়
:এই রাহি প্লিজ আমার কথাটা শুনো।এতো দিনের রিলেশন তোমার কি একটুও খারাপ লাগছেনা?
:খারাপ লাগবে কেন?তুমি কি পারবে আমার বাবার মনের মতো হতে তাহলে অবশ্যই তোমাকে বিয়ে করবো
:আমি তো চাকুরী খুজচ্ছি।অনেক চেষ্টা করছি বাট চাকুরী না হলে কি করবো?
:তাহলে কথা বাড়াচ্ছো কেন?এক কথায় বললে পারো আমি যা করছি ঠিক করছি।ভালো থেকো।বায়
:প্লিজ রাহি..........
টু টু টু
কল কেটে দিলো।অনেকবার কল করার চেষ্টা করলাম কিন্তু ফোন অফ।রাহি অন্য কারোর হয়ে যাবে এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে।আনমনে বাসায় আসলাম।বাজারের ব্যাগ রেখে রুমের দিকে যাচ্ছিলাম তখন মা বললো
:বাবু তোর মন খারাপ কেন?
:রাহির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
:মন খারাপ করিস না।আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে।তোর জন্য ভালো কিছু রেখেছেন উনি তাই এমনটা হচ্ছে।আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।
:হুম
মা কথাটা ভুল বলেনি কিন্তু আমি তো রাহিকে আমার করে নিয়েছিলাম তাই একটু কষ্ট লাগছে।খবর পেয়েছি চাকরীটা হয়নি।চাকরীটা হলে অনন্ত ওর বাবাকে বলে বিয়ে টা বন্ধ করতে পারতাম।কিন্তু তাও সম্ভব নয়।বিকেলে ব্রিজের পাশে বসে বসে ভাবছি নদীতে যদি ঝাপ দেয়া যায় তাহলে নির্ঘাত আমি প্রাণ হারাবো।হয়তো ভাগ্য ক্রমে বেচে যাবো তবে মরে গেলে শান্তি পাবো।এই ভেবে উঠে দাড়ালাম।যেই না ঝাপ দিবো পিছন থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠ বেসে আসলো
:মরবেন?ওকে ঝাপ দিন দেখি কেমন সাহস।
পিছন ফিরে দেখি আগের দিনের সেই মেয়েটি।
:আজকে মোটেও মজা করছিনা আমি।মরে গেলে শান্তি পাবো অনেক।চাকরীটা আর হলোনা।রাহির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
:কিন্তু যার জন্য মরতে যাচ্ছেন সে তো দিব্বি ভালো আছে তাইনা?
:হয়তো।
:তাহলে আপনি কেন মরবেন?দেখুন মি: আমি আপনাকে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলি যেটা শুনার পর আপনি বুঝবেন আপনার থেকেও বেশি কষ্টে বেচে আছে কিছু মানুষ।
রাতুলের সাথে পরিচয় একটা বিয়েতে।আমার কাজিনের বিয়ে ছিলো।আমি মেয়ে পক্ষের আর রাতুল ছেলে পক্ষের।অনুষ্ঠান
না।ও বিভিন্ন প্রশ্ন করতো আর আমি সেই গুলোর উত্তর দিয়ে কল রেখে দিতাম।প্রায় ১৫দিন পর রাতুল নিজের পরিচয় বলে।তখন আমি একটু রিয়েক্ট করি আর ও কিভাবে আমার নাম্বার পেয়েছে তাও বলে। সেদিন রাতুল আমাকে অফার করে রিলেশনে জড়ানোর জন্য।কিন্তু আমি রিলেশন সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী ছিলাম না তাই না করে দি।ও তখন আমাকে বিয়ে করবে বলে।তখন আমি আমার মা বাবার সাথে কথা বলতে বলি।তারপর ওর আম্মুকে দিয়ে আমার ফ্যামিলির সবাইকে রাজী করার আর বিয়েও ফাইনাল হয়।তবে আমার ফ্যামিলির সবাই শুধু কাবিন করে রাখবে বলে রাজি হয়েছে কারণ আমার পড়ালিখা শেষ হয়নি।রাতুল এই নিয়ে কোন আপত্তি করেনি।কাবিন হয়ে গেলো।আগের থেকে রিলেশনটা আরো বেশি গভীর হলো।রাতুল অনেক বেশি ভালোবাসতো সেটা ওর পাগলামি দেখে বুঝতে পারতাম।আমার নাম রূম্পা কিন্তু ও আমার রূপ বলে ডাকতো।সপ্তাহে একদিন দেখা করতে না পারলে পাগল হয়ে যেতো।মাঝে মাঝে নিজেকে ভাগ্যবতী বলে মনে হতো।কিন্তু নিয়তি যে আমার সাথে এইভাবে খেলা করবে সেটা আমার জানা ছিলোনা।
কাবিনের ১বছর ৬মাস পরের কথা★
রাতুল আমার সাথে দেখা করতে কলেজের দিকে আসছিলো।তাও আমাকে না জানিয়ে সারপ্রাইজ দিবে বলে আসছিলো।কিন্তু তখনি একটা এক্সিডেন্টে রাতুল আমাদের ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়।
অনেক চেষ্টার পরো বাচানো যায়নি রাতুলকে।আমি তখন ইন্টার ফাইনাল দিবো।পরীক্ষার ঠিক ১১দিন আগে রাতুল আমাকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে।সেইবার আর পরীক্ষা দিতে পারিনি।নিজেকে কোন ভাবে বুঝাতে পারছিলাম না।অনেক বার সুইসাইড করবো বলে ঠিক করেছিলাম কিন্তু পারিনি।সাহস পাইনি সুইসাইড করার।আমার শ্বাশুড়ি এখনো আমাকে বঊমা বলে ডাকে।নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে।প্রায় সময় উনি আমাকে বাসায় বেড়াতে নিয়ে যায়।এতো সুখ হয়তো আমার কপালে ছিলোনা তাই বিধাতা আমার থেকে রাতুলকে কেড়ে নিয়েছে।
লক্ষ্য করলাম মেয়েটির গলা ভারী হয়ে যাচ্ছে।আসলে তো মেয়েটি প্রিয়জনকে এইভাবে হারিয়েছে আর আমার প্রিয়জন ইচ্ছে করে আমাকে ছেড়ে গেছে।রাহি চাইলেও আমার মতো বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে পারতো।কিন্তু সে তো তা করেনি।সে চেয়েছে আমার একটা ভালো চাকরী।যাতে সে বিয়ের পর সুখে দিন কাটাতে পারে।ভালোবাসা তার কাছে কোন ফেক্ট না।আমি আসলে অনেক বোকা।
রূম্পা:এখন বুঝতে পেরেছেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি।
:হুম আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে রাহিকে আমি এতো বেশি ভালোবেসেছি যে ওকে ছেড়ে থাকতে হবে সেটা কখনো ভাবিনি।তাই.....
:রাহির থেকেও বেশি ভালোবাসেন আপনি আপনার মা বাবাকে।তাদের কথা ভাবছেন না কেন?
:আমি সত্যি খুব সরি।আমি ভুল করছিলাম।
:ভালো থাকবেন।আমি এখন আসি।অনেক লেইট হয়ে গেছে।মা অপেক্ষা করছে আমার জন্য।
:যদি কিছু মনে না করো একটা প্রশ্ন করি?
:হুম বলুন
:তুমি কি জব করো?
:হুম আমি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করি।আপনি কি কোন ভাবে আমার কাছে হেল্প চাচ্ছেন?
:যদি তুমি হেল্প করো আর কি...
:ওকে এই নিন আমার নাম্বার।যোগাযোগ করবেন।
:ওকে ধন্যবাদ
:হুম বায়
রূম্পার কথা গুলো বার বার মনে পড়ছে।ওর কথা গুলো ভাবতে ভাবতে নিজের দুঃখটা ভুলে গেলাম।ভুলে গেলাম রাহির বিয়ের কথাটাও।বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে রাহিকে কল করতে চাইলাম কিন্তু তা না করে রূম্পাকে কল করলাম।সাথে সাথে কল ধরে
:হ্যালো আসসালামুআলাইকুম ।কে বলছেন?
:আমি রাহিম।ওই যে বিকালে তুমি নাম্বার দিয়েছিলে।
:ওহ হো আপনি।আসলে আমি মাত্র ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে এসেছি তাই চাকরীর ব্যাপারে তেমন খোজ নেয়া হয়নি।আপনি কালকে ফ্রী আছেন?
:হুম বেকার মানুষ তাই অল টাইম ফ্রী
:ওকে সকাল ১১টায় আমার অফিসে আসবেন।আমি মেসেজ করে এড্রেস পাঠিয়ে দিচ্ছি।মনে থাকবে তো?
:হুম হুম মনে থাকবে।ধন্যবাদ
:এতো ধন্যবাদ দেয়ার কিছুই নেই।
:ওকে গুড নাইট
:গুড নাইট
রূম্পা:এখন বুঝতে পেরেছেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি।
:হুম আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে রাহিকে আমি এতো বেশি ভালোবেসেছি যে ওকে ছেড়ে থাকতে হবে সেটা কখনো ভাবিনি।তাই.....
:রাহির থেকেও বেশি ভালোবাসেন আপনি আপনার মা বাবাকে।তাদের কথা ভাবছেন না কেন?
:আমি সত্যি খুব সরি।আমি ভুল করছিলাম।
:ভালো থাকবেন।আমি এখন আসি।অনেক লেইট হয়ে গেছে।মা অপেক্ষা করছে আমার জন্য।
:যদি কিছু মনে না করো একটা প্রশ্ন করি?
:হুম বলুন
:তুমি কি জব করো?
:হুম আমি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করি।আপনি কি কোন ভাবে আমার কাছে হেল্প চাচ্ছেন?
:যদি তুমি হেল্প করো আর কি...
:ওকে এই নিন আমার নাম্বার।যোগাযোগ
:ওকে ধন্যবাদ
:হুম বায়
রূম্পার কথা গুলো বার বার মনে পড়ছে।ওর কথা গুলো ভাবতে ভাবতে নিজের দুঃখটা ভুলে গেলাম।ভুলে গেলাম রাহির বিয়ের কথাটাও।বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে রাহিকে কল করতে চাইলাম কিন্তু তা না করে রূম্পাকে কল করলাম।সাথে সাথে কল ধরে
:হ্যালো আসসালামুআলাইকুম
:আমি রাহিম।ওই যে বিকালে তুমি নাম্বার দিয়েছিলে।
:ওহ হো আপনি।আসলে আমি মাত্র ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে এসেছি তাই চাকরীর ব্যাপারে তেমন খোজ নেয়া হয়নি।আপনি কালকে ফ্রী আছেন?
:হুম বেকার মানুষ তাই অল টাইম ফ্রী
:ওকে সকাল ১১টায় আমার অফিসে আসবেন।আমি মেসেজ করে এড্রেস পাঠিয়ে দিচ্ছি।মনে থাকবে তো?
:হুম হুম মনে থাকবে।ধন্যবাদ
:এতো ধন্যবাদ দেয়ার কিছুই নেই।
:ওকে গুড নাইট
:গুড নাইট
সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।মাকে রূম্পার কথা বলেছি।আর ও যে আমাকে অফিসে যেতে বলেছে সেটাও বললাম।১১টা বাজার ঠিক ১০মিনিট আগে ওর অফিসে গিয়ে হাজির হলাম।ও আমাকে বসতে বলে একটু কাজ করলো তারপর
:বাহ আপনি তো খুব ফার্স্ট।আই লাইক ইট।ওয়েট আমি আমার বসের সাথে কথা বলে নি।
রূম্পা আমার কথা তার বসকে জানালো।বস আমাকে দেখা করতে বললো।আমি গেলাম বসের অফিসে।কি জানি কপালে কি আছে।আমার সম্পর্কে সব কিছু জেনে উনি খুব খুশি হলেন আর বললেন ২দিন পর দেখা করতে।
অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় আসলাম।
রূম্পা আমার কথা তার বসকে জানালো।বস আমাকে দেখা করতে বললো।আমি গেলাম বসের অফিসে।কি জানি কপালে কি আছে।আমার সম্পর্কে সব কিছু জেনে উনি খুব খুশি হলেন আর বললেন ২দিন পর দেখা করতে।
অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় আসলাম।
২দিন পর...
আমি ঠিক ১০টায় অফিসে গেলাম।প্রথমে রূম্পার সাথে দেখা করে বসের অফিসে গেলাম।
বস:আমাদের কোম্পানীটা নতুন।তাই তোমার মতো দক্ষ এবং পরিশ্রমী একজন লোক খুজচ্ছিলাম।আমি তোমার সম্পর্কে সবটা জেনেছি। তোমার রেজাল্ট ও খুব ভালো।আর এটাও জানি যে তুমি সময়ের মূল্য দিতে জানো।সময়ের কাজ সময়ে করো।তাই আমি তোমাকে আমার P.A. পদে নিয়োগ দিলাম।
তুমি কালকে চাকুরীতে জয়েন করো।
আমি এই কথা শুনে খুব অবাক হলাম।এবং বসকে ধন্যবাদ দিয়ে রূম্পার কাছে গেলাম।রূম্পা এই খবর পেয়ে খুশি হলো
:সত্যি বলছেন!বাহ এখন তো আপনি আমার বস হয়ে গেলেন।
:কি বলছো এইসব।তোমার জন্যই তো চাকুরীটা হলো।
:সে যাই হোক।মিষ্টি খাওয়াবেন কখন?
:চলো আজকে খাওয়াবো
:ওকে ডান।আমার একটু কাজ আছে।ওয়েট করতে পারবেন?
:হুম ওকে তুমি কাজ শেষ করো আমি ক্যান্টিনে ওয়েট করছি।
অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর রূম্পা এলো।ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম।আর কিছু খাওয়া দাওয়া আর সাথে মিষ্টি মুখ করে বাসায় রওনা দিলাম ২জনে।একটা রিক্সা নিয়ে ওকে ওর বাসায় পৌঁছে দিলাম আর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।মাকে চাকুরীর ব্যাপারে বললাম।মা খুব খুশি হয়েছে বাবাও খুশি হয়েছে।
পরের দিন চাকুরীতে জয়েন করলাম।কাজের ফাকে ফাকে রূম্পার সাথে কথা হতো।আর অফিসের অনেক কলিগ ছিলো যাদের সাথে খুব ভাব হয়ে গিয়েছিলো।তবে রূম্পার সাথে একটু বেশি ভাব ছিলো।আমার সব কথা ওকে শেয়ার করতাম রূম্পাও সব কথা শেয়ার করতো।ওকে আস্তে আস্তে পছন্দ করতে শুরু করি।আর রূম্পাও আমাকে লাইক করতো সেটা ওর ব্যবহারে বুঝতে পারতাম।তাই আমি সাহস করে ওকে বিয়ের কথা জানাই।রূম্পা আমাকে বলে ওর বাবা মাকে এই ব্যাপারে জানানোর জন্য।২পরিবার এক হয়ে আমাদের বিয়ে ঠিক করে সাথে রাতুলের মাও ছিলো।ফাইনালি ধুমধাম করে বিয়েটা হয়ে যায়।
৫বছর পর.......
আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।আমাদের একটা ছোট্ট বাবু সোনা আছে।তার বয়স ৩বছর।আমরা এখনো একসাথে চাকুরী করি।তবে রূম্পা খুব সচেতন তাই ঘরে বাইরে খুব ভালো ভাবে সামলাতে পারে।আজ পর্যন্ত ওর সাথে আমার কোন ঝামেলা হয়নি।আমরা নিজেদের খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারি তাই ঝামেলা হয়না।আজকে কিছু কলিগ আর বন্ধুদের দাওয়াত করেছি আমাদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে।আমি আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলছিলাম আর রূম্পাকে একটু একটু আড় চোখে দেখছিলাম।মেয়েটা কে এখন আরো বেশি সুন্দর লাগে।হালকা সাজে ওকে দারুণ লাগে।রূম্পা বুঝতে পেরেছে আমি ওকে আড় চোখে দেখছি তাই আমার পাশে এসে বললো
:এইভাবে কি দেখছো?প্রেমে পড়ে যাবে তো
:আমি তো প্রতিদিন তোমার প্রেমে পড়ি প্রিয়তমা
:হুহ ঢং
:উহু ঢং নয় সত্যি
বঊটা লজ্জায় লাল হয়ে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো।আর আমি বিধাতাকে হাজার হাজার ধন্যবাদ দিয়ে শুকরিয়া আদায় করছি।আর ভাবছি ডিয়ার এক্স আমাকে ছেড়ে না গেলে এতো ভালো বঊ পেতাম না।মায়ের কথা ঠিক ছিলো।আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।ধন্যবাদ ডিয়ার এক্স
😍
আমি ঠিক ১০টায় অফিসে গেলাম।প্রথমে রূম্পার সাথে দেখা করে বসের অফিসে গেলাম।
বস:আমাদের কোম্পানীটা নতুন।তাই তোমার মতো দক্ষ এবং পরিশ্রমী একজন লোক খুজচ্ছিলাম।আমি তোমার সম্পর্কে সবটা জেনেছি। তোমার রেজাল্ট ও খুব ভালো।আর এটাও জানি যে তুমি সময়ের মূল্য দিতে জানো।সময়ের কাজ সময়ে করো।তাই আমি তোমাকে আমার P.A. পদে নিয়োগ দিলাম।
তুমি কালকে চাকুরীতে জয়েন করো।
আমি এই কথা শুনে খুব অবাক হলাম।এবং বসকে ধন্যবাদ দিয়ে রূম্পার কাছে গেলাম।রূম্পা এই খবর পেয়ে খুশি হলো
:সত্যি বলছেন!বাহ এখন তো আপনি আমার বস হয়ে গেলেন।
:কি বলছো এইসব।তোমার জন্যই তো চাকুরীটা হলো।
:সে যাই হোক।মিষ্টি খাওয়াবেন কখন?
:চলো আজকে খাওয়াবো
:ওকে ডান।আমার একটু কাজ আছে।ওয়েট করতে পারবেন?
:হুম ওকে তুমি কাজ শেষ করো আমি ক্যান্টিনে ওয়েট করছি।
অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর রূম্পা এলো।ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম।আর কিছু খাওয়া দাওয়া আর সাথে মিষ্টি মুখ করে বাসায় রওনা দিলাম ২জনে।একটা রিক্সা নিয়ে ওকে ওর বাসায় পৌঁছে দিলাম আর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।মাকে চাকুরীর ব্যাপারে বললাম।মা খুব খুশি হয়েছে বাবাও খুশি হয়েছে।
পরের দিন চাকুরীতে জয়েন করলাম।কাজের ফাকে ফাকে রূম্পার সাথে কথা হতো।আর অফিসের অনেক কলিগ ছিলো যাদের সাথে খুব ভাব হয়ে গিয়েছিলো।তবে রূম্পার সাথে একটু বেশি ভাব ছিলো।আমার সব কথা ওকে শেয়ার করতাম রূম্পাও সব কথা শেয়ার করতো।ওকে আস্তে আস্তে পছন্দ করতে শুরু করি।আর রূম্পাও আমাকে লাইক করতো সেটা ওর ব্যবহারে বুঝতে পারতাম।তাই আমি সাহস করে ওকে বিয়ের কথা জানাই।রূম্পা আমাকে বলে ওর বাবা মাকে এই ব্যাপারে জানানোর জন্য।২পরিবার এক হয়ে আমাদের বিয়ে ঠিক করে সাথে রাতুলের মাও ছিলো।ফাইনালি ধুমধাম করে বিয়েটা হয়ে যায়।
৫বছর পর.......
আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী।আমাদের
:এইভাবে কি দেখছো?প্রেমে পড়ে যাবে তো
:আমি তো প্রতিদিন তোমার প্রেমে পড়ি প্রিয়তমা
:হুহ ঢং
:উহু ঢং নয় সত্যি
বঊটা লজ্জায় লাল হয়ে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো।আর আমি বিধাতাকে হাজার হাজার ধন্যবাদ দিয়ে শুকরিয়া আদায় করছি।আর ভাবছি ডিয়ার এক্স আমাকে ছেড়ে না গেলে এতো ভালো বঊ পেতাম না।মায়ের কথা ঠিক ছিলো।আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।ধন্যবাদ ডিয়ার এক্স
Comments
Post a Comment