সম্পর্কের পবিত্রতা

#ইসলামিকগল্প

#সম্পর্কের পবিত্রতা 
লেখিকাঃ সানজিদা আক্তার

আব্বু- আম্মুর জোড়াজুড়িতে আব্বুর বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে আসি। এখানে আমার খুব অস্বস্থি হচ্ছে।  আব্বু- আম্মু সবার সাথে কথা বলছে।  আমি এক কোণায় দাড়িয়ে আছি। সবাই অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।  আর তাকাবেই না বা কেন?  যেখানে সবাই আধুনিক পোশাক পড়ে বিয়েতে এসেছে আমি অতি সাধারণ একটা কালো বুরখা, কালো হিজাব আর হাতে পায়ে কালো মুজা পড়িহিত। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর আব্বুর ডাক আসলো...

আব্বুঃ সানজিদা আম্মু, একটু এদিকে আসো তো... 

আমিঃ হ্যাঁ আব্বু,কিছু বলবে..

আম্মুঃ তোমার আংকেল তোমাকে কখন থেকে খুজছে,,,  আংকেলের সাথে কথা বল

আমি মাথা নিচু করে আংকেলকে সালাম দিলাম..

আমিঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ.....

আংকেল ( আব্বুর বন্ধু)ঃ ওয়া আলাইকুমুস সালাম,,  আম্মু...  কেমন আছো তুমি?? তোমার আব্বু বলছিলো তুমি নাকি বিয়েতে আসতে চাইছিলে না,,, 

আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আংকেল,,, আপনি কেমন আছেন??  তেমন কিছু না আংকেল এমনি ভালো লাগছিলো না তাই

আংকেলঃ এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি,,, মেয়েটা কিছুক্ষণ পর শশুর বাড়ি চলে যাবে তাই মন একটু খারাপ..

এভাবে কিছুক্ষণ আংকেল-আন্টির সাথে কথা বললাম,,, তারপর খাওয়ার জন্য যখন বললো আমি আম্মুকে বলছিলাম খাবো না কিন্তু আম্মু বললো যদি না খায় তাহলে এটা খারাপ দেখাবে তাই কিছু না পেয়ে খেতে গেলাম,,, বড়দের জন্য আলাদা খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে ছোটদের জন্য আলাদা খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে,,,  আমি বুঝতে পারছিলাম সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।  কিন্তু আমার কিছু করার নেই...খাবার দেওয়া হলো, সবাই খাবার খাওয়ার থেকে বেশি আমার দিকেই ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছে,, আমার সামনে বসে কতগুলো মেয়ে হাসাহাসি করছে আর সেলফি তুলছে... আমি আর কিছু বললাম না...আমি খাওয়া শুরু করলাম.. আমার খাওয়া দেখে সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে কোনো এলিয়েন দেখছে... ওদের এরকম আচরণের কারণ হলো আমি হিজাব এর নিচ দিয়ে খাচ্ছি।।। খাওয়ার সময় কারো কারো কথা আমার কানে আসছিলো,, বলছিলো... 

.......এতই যখন পর্দা করবে তাহলে এরকম অনুষ্ঠানে না আসলেই তো পারতো,,  কতো ঢং.. 

আমি শুধু একটা মুচকি হাসি দিলাম... আমাদের এইসব কেউ লক্ষ্য করছিলো আমি বুঝতে পারি নি। খাওয়ার পর্ব শেষে এবার বাড়ি যাওয়ার পালা,, তখন একটা ছেলে আমার সামনে আসলো। আমি একবার দেখে মাথা নিচু করে ফেললাম আর পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাচ্ছিলাম তখন ছেলেটি বললো

... কিছু মনে করবেন না,,, আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো

আমি মাথা তুলে তাকাতে দেখি ছেলেটির নজর মাটির দিকে। তারপর আমিও নিচের দিকে তাকিয়ে বললাম

আমিঃ জ্বি বলুন

ছেলেটি বললো, 

..... আমি জানি এভাবে আপনার সাথে কথা বলাটা ঠিক হচ্ছে না,,  কিন্তু আমি একটা প্রস্তাব দিতে চায়.. আপনি একটু ভেবে দেখবেন 

আমিঃ কিসের কথা বলছেন আমি ঠিক বুঝতে পারছি না..

ছেলেটিঃ আমি আপনাকে বিবাহ করতে চাই...

ছেলেটির কথা শুনে আমি অবাক হয়ে ছেলেটির দিকে তাকালাম।।  কিন্তু ছেলেটির নজর এখনো মাটির দিকে। একবারের জন্যও আমার দিকে তাকায়নি।।  যেই বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে।  আমার কোনো জবাব না পেয়ে ছেলেটি আবারো বলতে লাগলো,, 

... আমাদের  মুসলিমদের বিবাহের জন্য ছেলে-মেয়ের সম্মতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ..  একটা মেয়ের পছন্দকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একটা মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ দেয়া হারাম..। আমি চাইলেই প্রথমে আপনার আব্বু-আম্মুর কাছে প্রস্তাব পাঠাতে পারতাম। কিন্তু তাতে আপনাকে অগ্রাহ্য করা হতো।  আমি আপনার মত জানতে চায়।  আপনার যদি এই প্রস্তাব হ্যাঁ জবাব হয় তাহলেই আপনার আব্বু -আম্মুর কাছে প্রস্তাব পাঠাবো..  তা না হলে নয়

আমি ওনার এইসব কথাগুলো শুনে সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়েছি... ছেলেটি অত্যন্ত ধার্মিক..  একদম আমার মনের মতো...  কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমি বললাম..

আমিঃ আপনি আমার আব্বু -আম্মুর সাথে কথা বলুন..

এটা বলে ওখানে আর দাড়ালাম না..৷ আমাকে না দেখেই যে আমার ইচ্ছে অনিচ্ছার কথা চিন্তা করতে পারে সে নিশ্চয় আমাকে খুব ভালো রাখবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।।। আমাদের বিয়ে ঠিক করা হয়।।  এক মাস পর বিয়ে।  দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো।  বিয়েটা ঘোরুয়াভাবেই হচ্ছে.. কারণ যে বিয়ে যত কম খরচ হয় সে বিয়েতে তত বেশি আল্লাহ বরকত দেন...  দুজনের সম্মতিতেই এভাবে বিয়েটা হচ্ছে।  এই এক মাসের মধ্যে আমাদের মধ্যে কোনো রকম কথা হয় নি...  অবশেষে বিয়েটা সম্পন্ন হলো।  আমি বসে আছি বাসর ঘরে...  কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী ঘরে আসলেন.. আমি সালাম দিলাম.. কেননা আমাদের ইসলাম ধর্মে মেয়েদের ঘরের রাণী বলা হয়... সেখানে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা জায়েয নয়...  আমার স্বামী সালামের উত্তর দিলে...তারপর আমার হাতে দুটি জিনিস দিয়ে বললেন..

.... এগুলো আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য বিবাহের উপহার

আমিঃ এগুলো কি?

... খুলে দেখো

আমি উপহার গুলো দেখে কান্না থামিয়ে রাখতে পারলাম না,,  এটা দুঃখের কান্না নয় সুখের কান্না,,  কেননা আমার স্বামী আমাকে বিয়ের প্রথম রাতে একটা জায়নামাজ আর কোরআন শরীফ উপহার দিয়েছে... এগুলো দেখে আমি ওনাকে কোনো প্রশ্ন করলাম না যেগুলো করবো বলে ভেবেছিলাম...  নিজের নিকাব টা খুলে দিলাম।  এই প্রথম আমার স্বামী আমাকে দেখলেন।  আমার হাতে তুলে দিলেন দেনমোহরের  টাকা। আমি নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না।  খুব ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি। আল্লাহর কাছে অফুরন্ত শুকরিয়া জানাচ্ছি।  আমি আলতো করে ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম... ওনি আমার কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিলো....এভাবেই কাটতে লাগলো আমাদের দিন...

(আমি কেমন লিখেছি জানি না। গুছিয়ে লিখতে পারি নি।  ভুল হলে ক্ষমাকরবেন।  আর গল্পটা কেমন হলো জানাবেন)
      (Collected )

Comments