তোমার অপেক্ষায়
নিহিন মুখটা কালো করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর একটু একটু করে রাগে ফুসতে লাগলো ।কি কারনে সে এমন করছে তা আমি মোটেও জানি না ।অবশ্য জানার জন্য জিজ্ঞাস ও করলাম না,কেননা সে এমনি কিছুক্ষন পর বলা শুরু করবে ।তার রাগি মুখটা দেখে সিগারেট খেতে বেশ লাগে বলে আমি একটা সিগারেট ধরালাম আর লম্বা একটা টান দেওয়ার পর পর ই সে বলতে শুরু করলো ।
- তুমার জন্য আম্মু আমায় সন্দেহ করছে,ওনি মনে করে যে আমি ও সিগারেট খাই ।
- কেনো! আমি আবার কি করলাম ?
- কেন মানে! তুমি বার বার আমার ব্যাগ এ কেন সিকারেট এর প্যাক রাখো হু। তোমার কি পকেট নাই ?
- আছে অবশ্যই ।তুমি খাওনা তাই রাখি ।
- এখন আমি আম্মুর সামনে কিবাবে মুখ দেখাবো?
- মুখ না দেখাতে চাইলে মুখে কাপড় বেধে রাখবা।নয়তো আন্টির পিছন পিছন থাকবে তাহলেই তো হলো ।
- উফ ইমু অসহ্য
- সত্যিই তুমাদের বাড়ির দাড়োয়ান টা অসহ্য!
- হে আল্লাহ আমি কার সাথে কি বলি?
- আমার সাথেই তো বলছো।
- হুহ।(রাগি মুড নিয়ে)
- সিগারেট এর প্যাক টা দিবা??
- নে নে তোর সিগারেট ।সিগারেট নিয়ে আমায় উদ্ধার করো ।
- তুমি কি কোথাও আটকে গেছ যে নাকি উদ্ধার করবো ?
- হে আমার আল্লাহ…………
- আরেহ সিগারেট ১ টা কম কেন? তুমি খেয়েছো নাকি?
- কিহহহ! কি বললা তুমি ?
এবার মেয়েটি আমায় মারতে শুরু করলো।বেশ কিছুক্ষণ মার খেলাম তার।আসলে সুন্দরি মেয়েদের মারে ও এক ধরণের মধুরতা থাকে, আর এই মধু তারাই উপভোগ করতে পারে যাদের একটা প্রেমিকা আছে ।নিহিন মার থামিয়ে আমায় বলতে শুরু করলো ……..
- আচ্ছা তুমি আমায় কবে বিয়ে করবে?
- যখন সময় হবে তখন।
- দেখ মোটেও ফাজলামো করবে না,
- তুমি কি আমার বিয়াই নাকি যে ফাজলামো করবো ?
- উফ ইমু,,সিরিয়াস হও
- সিরিয়াসলি আমি নিধি কে চাই,,
- কি! কি বলছো তুমি ?
- আরে নিধির বাসার ওয়াইফাই এর পাসওয়াড এর জন্য নিধিকে পটাচ্ছি। এটা একটা চরম সিরিয়াস বিষয়।
- আবার মার খাবা?
- উহু মোটেও না।
- শুনো আমাদের বিয়েটা একদম অন্যরকম হবে বুজলা?
- হুম প্রচুর বুজছি
- কি বুজছো
- এই যে আমরা প্রেম করছি তারপর আমাদের গুলুগুলু ১ টা বাচ্চা হবে সে তুমায় মা মা বলে ডাকবে,আর সে যখন বড় হবে তখন আমরা বিয়ে করবো।অনেক বাচ্চাদের শখ থাকে বাপ মায়ের বিয়ে দেখবে তাই এটাই করবো। আমরা আমাদের বাচ্চার শখ অবশ্যই পূরণ করবো ।
- ধুর তুমি জিন্দেগি তে সিরিয়াস হবানা।
- এটা খায় নাকি মাথায় দেয় সোনা ?
- আমার মার খেলে বুঝে যাবা, কি দেব ?
- এই তোমার দাদার দাদির বাসার লোকজন কি ডাকাত ছিল নাকি ? কিছু হলেই মারধর শুরু করো ।লক্ষন মোটেও সুবিধার না তোমার ।
- দাদার দাদির বাসায় বলতে ?উফ ইমু তুমি কোথা থেকে যে এসব কথা নিয়ে আসো আমি বুঝি না ।
- রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আসি ।
- তুমি নিতু কে কি বলেছিলে সেদিন?
- কবে?
- কলেজে
- ওহ ! ওরে হট বলছি এটুকুই তো।
- ছি লজ্জা করে না তুমার? আবার বলতো এটুকু ই তো !
- আজব,এই শীতে সে পাতলা কাপড় পড়ে কলেজে আসে।তাই তাকে বলছিলাম তুমি কি খুব হট! এটায় লজ্জার কি?
- হে আল্লাহ এটা কোন পাগলের মেলায় পড়ছি।
- জীবনটা একটা পাগলের হাসপাতাল ,আর আমরা শুধু ডাক্তার মাত্র ,হি হি ।
- ধুর …………
এবার সে চেয়ার থেকে উঠে হেটে হেটে যেতে লাগলো আমিও তার পিছন পিছন যাচ্ছি। হঠাৎ কেন যেন তার গাল টানতে ইচ্ছে করছে।তাই দিলাম ডাক।
- নিহিনি এ নিহিন ,দাড়াও তো ।
- গাল টা এখনো ব্যাথা করছে আজ আর না।
- তুমি কিভাবে জানলে যে গাল টানবো?
- আমি চিনি তো তুমায়।
- আচ্ছা টান দিব না দাড়াও লক্ষিটি ।
গিয়েই তার লাল ফোলা গালে চুমু খেলাম। সে লজ্জায় লাল হয়ে আছে। অসভ্য একটা বলেই দৌড়ে চলে গেল সে। আহ্ এ যেন এক অবশ করা অনুভূতি ,এমন অনুভূতি নিয়ে কার না বাঁচতে ইচ্ছে করে ।
নিহিনকে যেদিন প্রথম দেখেছি তখন ই খুব ভালো লেগে গিয়েছিল । ক্যাম্পাসে হঠাৎ করেই একদিন তার সামনে গিয়ে বললাম
- নাম কি তুমার রমনী?
- নিহিন আক্তার, সবাই শিলা বলে ডাকে ।
- কোন শিলা স্তব্ধীভূত শিলা না পাললিক শিলা?
- আগ্নেয় শিলা।
- জ্বালাবে পোড়াবে ছাড়ক্ষার করবে নিশ্চই?
- কাছে আসতে চাইলে তাই
- আমার মন যে বড্ড শীতল অল্প তাপ পেলে মন্দ নয় যেন !
- দেখে তো লুইচ্চা লম্পট মনে হয়।
-কাছে আসিনি তো ! কাছে আসলো তো আসল পুরুষ মনে হবে।
- ছি কি বলে এসব। অসভ্য একটা ।
- সভ্যতার দিক র্নিদেশন যে এখন ই খোঁজে পেয়েছি ।আগে পেলে হয়তো আচল টেনে মুখ লুকিয়ে সভ্য হয়েই জন্মাতাম ।
- কবি নাকি ?
- নায়িকার খোঁজে বের হয়েছিলাম বলে এখনো কাব্যিক হয়ে উঠতে পারিনি ।
- কবিদের কি নায়িকা থাকতে হয় ?
- হ্যা , তা না হলে যে ছন্দরা দ্বন্দময় হয়ে উঠে। আর বাকি লেখাগুলো নায়িকা না পাবার বেদনায় অসঙ্গায়িত থাকে ।
- বেশ জটিল আপনি ।
- সুখ মূলত জটিলতায় ই মানুষ খোঁজে পায় তাইতো জটিল ও সহজ হয়ে যায় ।
- নাহ্ আমি এসব কিছুই চাই না ।
-- আজ থেকে তুমার নাম বিষ্টিব্লো। এস্টোলজি, নিউরোলজি হিসাবে তুমার নামে বহুত কিছু ব্যবহার করছে হয়তো। বাট আজ থেকে বিষ্টিব্লো তোমার নাম। আকিকা সরূপ সিগারেট টা ধরালাম ,তারমানে নামকরণ সর্ম্পূণ ।
সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল পাগলামিটা।লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম তাকে। সবাই বুজতো তাকে আমি পছন্দ করি। কিন্তু এসব তো আর লুকানো থাকে না ।
একদিন বন্ধু এসে পিঠ চাপড়ে বলতে লাগলো
- তুই কি নিহিন কে ভালোবাসিস?
- কখনো বলছি তোকে?
- তর আচরন এ প্রকাশ পায়।
- আমার আচরন এ তো মনে হয় আমি গাম খাই, আসলে খাই কি?
- এত পেচাস কেন কথা।
- কথা কিবাবে পেচায়?
- ভাই সিরিয়াস হ
- তোর বিষয়ে সিরিয়াস হমু কেন বে ? আই এম নট দিস টাইপ ওকে !!!
- উহ, আল্লাহ তরে কি দিয়ে বানাইছে?
-- খাটি মাটি দিয়ে। কেন তোর সন্দেহ আছে ? থাকলে থাকতে পারে তাতে আমায় তেমন কিছুই আসে যায় না ।
- ধুর হ্লা ……. তুই শালা একটা পেইন ।
- আচ্ছা কোন পেইন ? পেইন তো অনেক রকম হয় ,অনেক প্রকার হয় ।তারমধ্যে আমি কোনটা ?জানলে ভালো হতো ,পেইন এর সাথে কিলার যুক্ত করে পেইন কিলার হয়ে যেতাম তারপর বেশ টাকা কামানো যেত অবশ্য । সেই টাকা দিয়ে তুই আর আমি সিগারেট খাবো আর নিহিন কে বিয়ে করবো ।
- ভাই আমারে মাফ কর প্লিজ ।
- আচ্ছা করলাম কিন্তু কোন বিষয়ের জন্য করবো সেটা একটু ক্লিয়ার করলে ভালো হতো ।কেননা গত মাসে তুই আমার কাছ থেকে ১৫ টাকা নিয়েছিলি সিগারেট খাবার জন্য ।কথা ছিল টাকা ফিরিয়ে দিবি কিন্তু এখনো তো দেস নি ? না আবার স্যারের মেয়ের কাছে আমার কথা বলে যে……………..
- ভাই দয়া করে তুই চুপ থাক প্লিজ ।
এতটুকু বলে বন্ধু আমার মুখে হাত চেপে রাখলো ।আমি নিহিনের জন্য বেশ পাগলপনা শুরু করেছিলাম।কখনো বা তার বইয়ে কাঠগোলাপ রেখে আসতাম কখনো বা হুট করে গিয়ে তার গাল টেনে দৌড় দিতাম ।আস্তে আস্তে আমার এই পাগলামি গুলো তার কাছে ভালোলাগায় পরিণত হলো। অল্প অল্প কথা হতো। কিন্তু অল্প কথার মাঝে প্রেমটা যেন বৃহৎ সাগরের মতো ছিল আমাদের।
তারপর একদিন হঠাৎ করে গিয়েই তার দুগাল টেনে বলেছিলাম এই গুলুগুলু গাল টানার অধিকার টা দিবে সারাজীবন এর জন্য? সত্যি বলছি খুব আস্তে টানবো কখনো বা লাল এই ফোলা গালে চুমু একে আরো একটু ভালোবাসা পাবার আশায় আবার না হয় অসভ্য ই হবো ।
সে অল্প অবাক হলেও সম্মতি দিয়েছিল। তখন থেকেই ছুটছে লাগামহীন এই ভালোবাসা। আমি বুঝে গিয়েছিলাম এ মেয়েটাকে ছাড়া আমার মোটেও চলবে না ।
সেদিন থেকে আর এই বাউন্ডুলের মদ, গাজা,সিগারেট এ পোষায় নি। সেদিন থেকে আসক্ত হয়েছি এই পাগলির লাল ঠোটের নেশায়। তার গুলুগুলু গালের নেশায় উম্মাদ মৌমাছির মতো ছুটে গেছি তার দিকে প্রাণের এই নেশা ধরাতে। আমার আর গল্পের প্রেমিকার খোঁজে এখানে সেখানে হারাতে হয় নি ,আমার কবিতার ছন্দগুলো আর দ্বন্দময় হয় নি ।আমি পেয়েছিলাম আমার নির্দিষ্ট সেই অপেক্ষমান নায়িটাকে ।
,
ফোনের শব্দে অতীত থেকে ফিরলাম।স্কিনে বিষ্টিব্লো নাম টা বেসে উঠলো। রিসিভ করার সাথে সাথেই চিৎকার দিয়ে উঠলো সে। আর অঝর ধারায় বলতে লাগলো ভালোবাসি তুমায় এতগুলো ভালেবাসি। এত বড় সারপ্রাইজ পাব আমি ভাবিনি ইমু। সত্যই আমি আজ অনেক খুশি। খুশিতে হয়তে তার চোখ দিয়ে কিছু পানি ও গড়িয়ে পড়লো। আমি জানি সে এখন কান্না করবে প্রচুর কান্না করবে ।সব কান্না তো সমাপ্তি ঘটে না কিছু কান্নায় হয়তো নতুন করে শুরু হয় ।
ফোনটা কান থেকে নামিয়ে কল টা কেটে দিয়ে বাড়ির দিকে হাটা শুরু করলাম। বিয়ের কেনাকাটা করতে হবে তো। মা ও কল দিচ্ছে বাড়ি থেকে। পাগলীটাকে সারাজীবন এর জন্য গাল টানার সুজুকটা করেই নিলাম ।হঠাৎ করেই কেন জানি দুটি লাইন আউড়াতে ইচ্ছে করছে “
” আমি তোমাকে চাই
খুব করে চাই শিশিরের উষ্ণতার ছোয়ায়
পূর্ণচন্দ্রের রূপে তোমায় কাছে পেতে চাই
সত্যি করে বলছি আমি আমার সমস্তপদ জুড়ে
শুধু তোমায় চাই”।
গল্প – তোমার অপেক্ষায়
বাউন্ডুলে
Comments
Post a Comment