বাউন্ডুলে

ইমু হঠাৎ কোথা থেকে দৌড়ে এসে আমার হাতে প্রায় ৭ কেজি ওজনের কাতল মাছ ধরিয়ে দিয়ে বললো
-নিধো আই লাভ ইয়ু,
তারপর আমার গাল দুটু টেনে আবার দৌড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেল।ইমুর এই কাজে আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।তার উপর হাতে এত বড় একটা মাছ,এখন আমি এটা দিয়ে কি করবো ?আর আজ পর্যন্ত কি কেহ মাছ দিয়ে প্রেম নিবেদন করেছে কি না তা আমার জানা নেই।কিন্তু আজ আমি পেলাম।ছেলেটার এ পাগলপণা আর ভালো লাগে না,কি আর করা এই বড় মাছটা নিয়ে বাসায় গেলাম।বাসায় যাওয়ার পর শুরু হলো প্রশ্ন- কোথাই পেলি এত বড় মাছ,কত টাকা নিছে,টাকা কই পেলাম এসব প্রশ্নের উওর হিসেবে আমায় এক বস্তা মিথ্যা বলতে হলো।
আসলে আমি কখনো ই ইমু কে কিছু বলতে পারতাম না,যখনি তার উপর রেগে যেতাম ঠিক তখন ই সে আমার সামনে এসে বললে
-নিধো তুই কি রেগে আছিস?জানিস রাগলে তোকে ডিম পারা হাসের মতো দেখায় ,হি হি হি
তার এই হাসি আর আমার নিধি নাম ছেড়ে আদুরে গলায় নিধো নামটা শুনলে আমার সব রাগ পানি হয়ে যেত।আর সে আমায় ভালোবাসে কিনা তা নিয়ে তো আমার সন্দেহের কোন শেষ ই নেই,এই এখন বলবে এক কথা ঠিক কিছুক্ষন পর আরেক কথা।কিন্তু আমি কিনা এতই বোকা যে আমি এই পাগলের প্রেমে ই শেষে পড়লাম।র্ভাসিটির এই ৩ বছরে আমি ইমুর পাগলামি গুলো দেখতে দেখতে আমি সেই পাগলপণাই আটকে গেলাম।এসব ভাবছি আর মা মাছ টা কাটতে কাটতে বললো
-কিরে নিধি তুই এত ভালো মাছ কেনা কবে থেকে শিখলি ?
-আম্মা আর কত বার বললো তুমায়,যে দেখছি পছন্দ হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি ।
-তা বল,মাছ টা কিভাবে রান্না করবো ?
আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল ইমুর মাছের মাথা নিয়ে মুরিগন্ড বেশ পছন্দের ,সে একবার আমার সাথে ক্যান্টিনে বসে আমায় বলেছিল ।তাই মা কে বললাম মাছের মুরিগন্ড করতে ।তারপর সারাদিন চলে গেল ইমুকে অনেক কল দিয়েছি কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ,এটা তার পুড়নো রোগ আমি জানি ।তাই সেদিন আমি আর মাছটা খেলাম না একটু ও।
তারপরের দিন আমি টিফিন বক্সে করে ইমুর জন্য মাছের মুরিগন্ড নিয়ে আসলাম।সারাদিন চলে গেল তাকে পেলাম না।এবার ফোন খোলা থাকলেও ফোনটা রিসিভ হলো না ।রাগে আমার শরীর টা জ্বলে যাচ্ছে এমন কেন ছেলেটা ?তার পরের দিন ও আমি তার জন্য খাবার নিয়ে অপেক্ষা করলাম,কিন্তু কোন কাজ ই হলো না।রাগে,দুঃখে আমি বাসায় এসে টিফিন বক্স টা ছুড়ে ফেলে দিলাম।ঠিক তার ২ দিন পর ইমু একটা বাইক নিয়ে এসে আমার পাশে থামল।আর আমার গাল টা টেনে বললো
-কি মাছ টা একা একা ই খেলি,আমায় একটু ও দিলি না ?
আমি ইমুর কথা শুনে দাঁতের সাথে দাঁত টা চেপে ধরলাম,রাগে আমার শরীর টা লাল হয়ে যাচ্ছে ,এবার হাত পা কাঁপা শুরু করছে আমার রাগে।
-কিরে নিধো মাছ খেয়ে কি গলায় কাটা গেঁথেছে যে কথা বলছিস না ?আর কেমন পেটুক মেয়েরে তুই?
-কুত্তা,হারামি,জানোয়ার,বিলাই মাছ দেওয়ার ৫ দিন পর এসে খবর নেস?হারামি আজ তোরে আমি মেরেই ফেলবো 
যেই না আমি ইমু কে ধাওয়া করতে লাগলাম অমনি সে বাইক নিয়ে ফুরুৎ ।আর যাওয়ার আগে বলতে বলতে যাচ্ছিল
-বেশি রাগ করিস না,দাত ভেঙ্গে যাবে যে।বিয়ের পর মানুষ আমায় বলবে –ওই দেখ দাঁত ভাঙ্গা মেয়ে ইমু বিয়ে করে নিয়ে এসেছে ।দেখ আমি এই লজ্জা সহিতে পারবো না নিধো ।
ইমুর কথা টা শুনে রাগ টা আরো বেড়ে গেল স্টুপিড একটা ।বাসায় এসে সেই রাগ টা বহিঃপ্রকাশ করলাম আমার ছোট ভাই এর উপর।বাসায় এসেই দেখি মোবাইল দিয়ে গেমস খেলছে তাই দিলাম চড়।ভাই টাকে মারার পর তার গালের দিকে তাকিয়ে আমার ই খারাপ লেগে গেল,গালে আঙ্গুলের ছাপ হয়ে গিয়েছে।ভাইয়ের রাগ ভাঙ্গানোর জন্য বাজার থেকে অনেকগুলো চকলেট,আর আইসক্রিম নিয়ে আসলাম,তারপর ভাই বোন মিলে এগুলো খাচ্ছি আর দুজন পালাক্রমে গেইম খেলছি।
পরের দিন হলো কি। 

আমি আমাদের ডির্পাটমেন্টের সামনে বসে আছি আর প্রতিবারের মতো ইমু এবার ও হঠাৎ উদয় হলো।আমায় কোন কিছু না বলেই সে আমার হাতটা ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।

-ইমু কোথায় যাব ?এমন করে টানছিস কেন ,মানুষ কি মনে করবে ?

-আরে আমি আমার বউ রে নিয়ে যাচ্ছি এই ফাকে মানুষ আসলো কই থেকে ?

-আমি তোর বউ হলাম কবে থেকে ?

-বল কবুল,,

-না কবুল কেন বলবো ?

-কি বলবিনা তুই ?

-কবুল বলবো না ।

-আবার বল তো দেখি,,,

-বলছি কবুল বলবো না ।

-হা হা ,অলরেডি তুই ৩ বার কবুল বলে ফেলেছিস।এবার চলো বউ…

ইমুর এ কান্ড দেখে বোকা বনে গেলাম।ছেলেটা এসব কথা কোথা থেকে যে নিয়ে আসে জানিনা ।এর কিছুক্ষন পর জানতে পারলাম আমরা শপিং করতে যাচ্ছি।যেখানে যাবো সেখানে যেতে ৩ ঘন্টা সময় লাগবে।কি আর করা পাগলের সাথে এসেছি।আমি কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম ইমু আমার কাধে ঘুমিয়ে পড়েছে।প্রথম একটু রাগ হলেও পরে ঠিক হয়ে গেছে।সে এক হাতে আমার হাতটা জড়িয়ে ধরে আমার কাধে মাথা রেখে আরামে ঘুম দিচ্ছে।বাসের হেলপার যখন টাকা চাইতে আসলো তখন তাকে ইশারায় বললাম যেন আস্তে কথা বলে।হেলপার টা হেসে বললো

-আফা আন্নে গো কিন্তু সেইরাম মানাইছে,ভাই কিন্তু খুবই সুন্দার……

আমি ওনার কথা শুনে একগাল হেসে দিলাম মনের অজান্তেই ।আমার মনে হচ্ছে ইমু এমন করে ঘুমিয়ে থাকলে আমি তার আরো বেশি কাছে চলে যাবো।তার হাতটা আমার বুকে চেপে বললো-দেখ তো আমার স্পন্দনের শব্দ শুনতে পাও কিনা?নাকি সেই শব্দ টাও তুমি আমার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে গেছ।আমার খুব ইচ্ছা হয় ইমু তোমার সাথে বহুদূর যেতে,সারা রাস্তা আমি তোমার কাধে মাথা রেখে তোমাকেই দেখে যাবো,কখনো বা টুপ করে লোক চক্ষুর আড়ালে তুমার গালে একটা চুমু খেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে তুমার বুকে মাথা লুকাবো।আর তুমি একফালি হেসে আমায় দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলবে পাগলি একটা।

-ওই নামেন নামেন,বাস আর যাইবো না ।

হেলপারের শব্দে আমার ধ্যান ভাঙ্গলো।আমি ইমুকে ডাক দিলাম,সে চোখে খুলে দেখে আমরা চলে এসেছি।আর ঠিক তখন ই সে আমার গালে চুমু খেয়ে বললো

-আমি জানতাম না মেয়েদের কাধে ঘুমালে এত আরাম পাওয়া যায়।আমার এক বন্ধুর কাধে মাথা দিছিলাম ,খালি হাড্ডি আর হাড্ডি ।

আমি কিছু বললাম না তাকে।কারণ জানি তাকে কিছু বলে লাভ ও নেই।যদি বলি চুমু খেয়েছিস কেন তাহলে সে আবার একটা চুমু খেয়ে বলবে,,, মন চেয়েছে তাই ।তাই চাপ খেয়ে গেলাম।আসলে আমি জানিনা ইমু কি সত্যিই আমায় ভালোবাসে নাকি এটাও ফান,কেননা তাকে আমি আজ পযন্ত সিরিয়াস দেখি নি কোন বিষয়ে।সে পরিক্ষার আগের রাত্রে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায়,কলেজে তো আসেই না যদিও আসে তাহলে প্রায় ১ ঘন্টা লেট করে আসবে।স্যাররা কিছু জিঙ্গাস করলে বড় একটা গল্প বানিয়ে ক্লাস শেষ করে দিবে।তাকে কেউ থামাতে চাইলে তার সাথে আরো বেশি মজা নিবে।তাহলে কি করে আমি বুজবো সে আমায় ভালোবাসে ?

-কিরো নিধো এমন কি চিন্তা করছিস এতক্ষন ধরে ?

-না কিছুনা ইমু।তুই কি কিনবি বল তো ?

-আমি কি জানি,তুই ঠিক করে দে ।

-আচ্ছা চল,তুই কেন শুধু শুধু আমায় প্যাড়া দেস বলতো ?

-ভালো লাগে আমার।

-হইছে এবার কাপড় কিন ।

পাক্কা ২ ঘন্টা র্মাকেটে ঘুরে স্যার মাত্র একটা র্শাট পছন্দ করেছে।আমার এবার মেজাজ টা খারাপ হয়ে গেল,একটা ছেলে কিভাবে এমন হতে পারে আমার জানা নেই।তারপর বাধ্য হয়ে সব কাপড় আমাকেই পছন্দ করে দিতে হয়েছে।এমনি টাকা গুলো ও ।

আসার সময় দুজন  গল্প আর দুষ্টুমি করেই সময় টা কেটে গেল।কিন্তু আমার মন বলছিলো,এত তারাতারি কেন সময় টা শেষ হলো আরেকটু বেশি সময় হলে কি হতো ?রাস্তায় জ্যাম থাকতে পারতো না আজ ?এগুলো ভাবছি আর ভেতর ভেতর রাগ হচ্ছে।আমি বাসায় চলে এসেছি আর আজকের দিনটার কথা ভেবে একাই হেসে যাচ্ছি,ভালোবাসার মানুষটার র্স্পশ এখনো শরীরে লেগে আছে।রাত্র অনেক হয়ে গেলেও আমার চোখে ঘুম নেই।আমি আমার আপন চিন্তায় ভেসে যাচ্ছি  দুর দিগন্তে,যেন একফালি চাঁদের আলো আমার চোখে এসে পড়ছে,ঝিঁ ঝিঁ পোকা গুলো কানে কানে বলছে ভালোবাসার সমস্ত রঙের কথা।শীতের চাদর টা মুড়িয়ে নিয়ে পাগলটাকে ভেবে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি তা আমি নিজেও বলতে পারি না ।

এভাবে আরো বেশ কিছু দিন পাড় হয়ে গেল,ইমুর দুষ্টুমি গুলো ও দিনকে দিন বেড়ে চলছে।তো একদিন আমাদের সিনিয়র এক ভাই আমায় এসে প্রোপজ করলো,ওনি নাকি প্রথম থেকেই আমায় ভালোবাসে।এটা সেটা বলে আমার হাতে একগুচ্ছ গোলাপ ধরিয়ে দিল।আমি যখন আমার বাম দিকে তাকালাম ঠিক তখন আমি দেখি ইমু আমার দিকে তাকিয়ে।তার মুখটা লাল হয়ে আছে রাগে ,আমি কিছু বলার আগেই ইমু আমাদের সামনে এসে পড়লো।আর আমাদের বড় ভাইকে ডাক দিয়ে বললো

-এই যে ভাইয়া,শুনেন !

-আরে ইমু যে,বলো ।

-ভাইয়া নিধি আমার গার্লফ্রেন্ড,সো প্লিজ ফুল টা নিয়ে নেন ওর হাত থেকে ।

-আচ্ছা সমস্যা নেই,ফুল গুলো থাক না !

-আমি বলছি নিয়ে নিতে ।ও আমার র্গালফ্রেন্ড

-ওহ,আসলে সরি ইমু আমি জানতাম না ।আমি এখন ই নিয়ে নিচ্ছি

ইমুর এমন ব্যবহারে ভাইয়া টা ঘাবড়ে গেল।আমি ও একটু ভয় পেয়ে ই গেছি ,আমি ভাইয়ার হাতে ফুল টা দিয়ে দিলাম আর উনি আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে চলে গেল ।এবার ইমু আমার সামনে এসে আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বলতে লাগলো

-তুই ফুল নিয়েছিস কেন ?খুব পছন্দ তাই না ?

-ইমু দেখ তুমি যা ভাবছো এমন কিছুই না।আমি শুধু ভাইয়ার কাছ থেকে ফুল টা নিয়েছি আর কিছুই না ।আমার হাতটা ছাড়ো ইমু,লাগছে ।প্লিজ ইমু

-তোর মুখ ছিল না?বলতে পারিস নি ?এখন লাগে কেন তোর,আমার বুঝি এতক্ষন লাগে নি ?

-কি বলবো আমি ।

এবার ইমু আমার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।তার থাপ্পড় খেয়ে আমার মাথা ঘুড়ছে।আর সে চিৎকার করে বলতে লাগলো

-এতদিন পর তুই জিঙ্গাস করিস কি বলবি ?কেন তুই জানিস না আমি যে তোরে ভালোবাসি?থাক আর কিছু বলতে হবে না তোর।যামন চায় তাই কর তুই,ফুল কেন ফুলের বাগান নিস তুই।আমি গেলাম

-ইমু শোন ,প্লিজ ইমু …………..

কিন্তু সে আমার কোন কথা না শুনেই বাইকে করে চলে গেল।গালে হাত দিয়ে দেখি আঙ্গুলের ছাপ বসে রয়েছে।আমি আমার উড়না টা মাথায় দিয়ে বাম গাল টা ঢেকে রাখলাম।এখন আমার ভয় হচ্ছে যে ইমু কিছু না করে বসে।তাকে আমি যতটা ভালোবাসি তার চেয়ে বেশি ভয় ও পাই।

আমি বাসায় চলে আসলাম,এর ভেতর ইমুর মোবাইলে অনেক গুলো ফোন দিয়েছি কিন্তু সে ধরে নি।রাগে আমার কান্না আসছে,ভুলটা আমার ই আমি কেন ফুল টা নিলাম,কেন বললাম না আমার পছন্দের কেউ আছে।যাকে ছাড়া আমি নিজেকে কল্পনা ও করতে পারি না।এগুলো ভাবছি আর কান্না করছি।হঠাৎ আমার রুমে আমার ছোট ভাই আসলো,সে আমার কান্না করা দেখে জিঙ্গাস করলো কি হয়েছে?আমি কিছু না বলে চোখের পানিটা মুছলাম।আর মোবাইলটা দেখিয়ে বললাম

-একে চিনিস তুই ?

-ইমু ভাইয়া কে ?আরে চিনবো না কেন সে তো প্রায়ই মাঠে আসে আমাদের।

-তোর সাথে কথা হয় ?

-হ্যা হয়,ওহহ আরেক টা কথা ভাইয়া ওইদিন একটা গিফ্ট বক্স আমায় দিয়ে বলছিল তোমাকে দিতে,কিন্তু আমার তো মনেই ছিল না।দাড়াও নিয়ে আসছি ।

বলেই ভাইটা তার রুম থেকে একটা বক্স নিয়ে আসলো।আমি বক্স টা হাতে নিয়ে বললাম

-যা তুই দেখ তো ইমু মাঠে আছে কিনা।থাকলে আমায় জানাবি।

ছোট টা দৌড়ে চলে গেল।আমি বক্স টা খুলে দেখি একটা সবুজ রঙের শাড়ি সাথে একটা চিরকুট

 নিধি আমি মনে হয় তোমায় সত্যিই অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি,তোমার সাথে হাজারো স্বপ্ন জড়িয়ে আছে আমার।তুমার গাল ধরে পারমানেন্ট  ভাবে টানার সুজুক টা চাই,তোমার হাতে হাত রেখে আমি সামনে এগুতে চাই।আমি জানিনা আমার জন্য তুমার ফিল টা কি।যাই হোক তুমি শুধু আমার,একান্তই আমার।তোমার পাশে আমি কল্পনায় ও অন্য কাউকে মিলাতে পারি না,আমার দম বন্ধ হয়ে  আসে।চিঠিতে তুমি করে বললেও আমি তুই করেই বলবো।আমাদের যখন বিয়ে হয়ে ঠিক তখন ও আমি বাসর রাতে তুমার গাল টা টেনে বলবো

-কি সালাম করবি না আমায়  নাকি এটাও বলে দিতে হবে ?

ঠিক এমন করেই তুমায় ডেকে যাবো সারাজিবন।সকালে ঘুম থেকে উঠে তুমি যখন রান্না ঘরে রান্না করবে আমি তোমায় পেছন থেকে জড়িয়ে তোমার ঘাড়ে একটা চুমু একে বলবো

-এখনো রান্না করিস নি, আমি কি খাবো আমার যে ক্ষুধা পেয়েছে ।

আর ঠিক তখন তুমি আমার ঠোটে একটা চুমু একে বলবে

-কি জনাব!এবার পেট ভরেছে ?

আসলে আমি কি লিখছি তা আমি জানিনা,আমি এটাই জানি তুই শুধু আমার।আর তোর জন্য এই শাড়িটা।ভালো করে পড়িস যেন আবার কোমড় না দেখা যায় কেমন ?আর শালা সাহেব বললো তুই নাকি ওকে মারিস খুব ?আমার শালাটারে মারবি না,খুব সুইট আমার শালা টা ।যদি শুনি ওরে মারতে তাহলে তোর খবর আছে।

আর কি বলবো তা বুজতে পারছি না।তাই এখানেই সমাপ্ত ।

চিঠি টা পড়ে এবার কান্না টা যেন বেড়ে গেল আমার।একটু রাগ হচ্ছে ছোট ভাইটার উপর,সে যদি এটা ঠিক সময় আমায় দিত তাহলে আজ এমন টা হতো না।আমি ফোলা ফোলা চোখে শাড়িটা পড়ে নিলাম,এর ভেতর এক বন্ধুর কাছে খবর পেয়েছি ইমু পাশের এলাকায় এক বন্ধুর বাসায়।আমি রিকসা করে সেই লোকেশনে চলে গেলাম।রাস্তা টা আজ বড্ড লম্বা মনে হচ্ছে,পথ যেন শেষ ই হয়না।৩৫ মিনিট পর আমি পৌছে গেলাম,দড়জায় টোকা দিতেই রাফি দড়জা খুলে দিল ।আর আস্তে আস্তে বললে লাগলো

-এখন ও কিন্তু ইমু খুব রেগে আছে ।

-ও এখানে কি করে ?

-হুইস্কি নিয়ে আসছে, আর ওইটাই খাচ্ছে ।

-আজ ওর খবর আছে,,

আমি দড়জা টা পাশের রুমের খুলতেই দেখি ইমু বসে আছে আর কি খাচ্ছে এগুলো।সে আমাকে দেখেই বলতে লাগলো

-এখানে এসেছিস কেন ?

-মেরেছো কেন ?

-বোতল দেখছিস এটা,এবার এটা পেটে ঢুকিয়ে দিবো।যা এখান থেকে ।

-আমি তোমাকে ভালোবাসি ইমু,,,,

-আমি তো ফুল দিতে পারিনা কাউকে….

-Sorry  ইমু,আর চিঠিটা আমি আজ ই পেয়েছি।ভাই টা দিতে ভুলে গেছিল।

বলেই আমি ইমু কে জড়িয়ে ধরলাম।সে আমাকে ছাড়াতে চেষ্টা  করলেও আমায় ছাড়াতে পারলো না।আমার সুখ-দুঃখের কান্না টা এখন প্রবাহিত হতে লাগলো।আমি কান্না করতে করতে ইমুর র্শাট টা ভিজিয়ে দিয়েছি।সে আমার গালে হাত রাখতেই চমকে গেল,সে আমার গাল টা একটু সামনে আনতেই দেখতে পেল তার আঙ্গুলের ছাপ বসে রয়েছে।আমি ইমুর চোখের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম তার ছলছল চোখ,আসলে ছেলেটা রাগলে একদম পাগল হয়ে যায়।আমি বুজতে পারছি ইমু খুব কষ্ট পাচ্ছে আমাকে ব্যাথা দিয়ে।কিছু বললেই যেন ছেলেটা কেদে দিবে।এবার আমি আমার বাম গালটা তার ঠোট বরাবর ঘষতে লাগলাম,মাথা টা এদিক সেদিক করলেই আমার গালে ইমুর ঠোটের র্স্পশ পড়ছে,তার গভীর নিশ্বাস আমার গালে এসে পড়ছে।সে আমার গালে একটা চুমু একে বললো

-আমি আর কখনো তোমাকে  মারবো না। I’m sorry…………..

-me toooooo,,,

-I LOVE you 

- এগুলো পরে ,আগে বলো এগুলো কি খাচ্ছ।সিগারেট খাও সেটা মানা করি না,এটা কি ।

-আর খাবো না পাক্কা,,,

-ইচ্ছা করছিল তোমার ঠোটে একটা চুমু খেতে,কিন্তু যা খেয়েছো কি বিশ্রি গন্ধ।

-আমি এখন ই আসছি

বলেই ইমু ওয়াসরুমে ঢুকে গেল,তার কুচকুলির শব্দ আমি শুনতে পারছি।রাফি এটা দেখে হাসছে, আর বলতে লাগলো

-এখন থেকে তাহলে এই পাগলটারে দেইখা রাখিস।সে তোর সব কথা শুনবে,খারাপ অভ্যাস গুলো এমন করেই ছাড়িয়ে নিস ওর কাছ থেকে।দেখিস সে তোকে অনেক হ্যাপি রাখবে।বাট তোর সামনে কোন ৩য় পক্ষ যেন না আসে এটা মাথায় রাখিস ।

-আচ্ছা দোস্ত

ইমু ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে রাফিকে বলতে লাগলো 

–দোস্ত তোর মাইথওয়াস টা শেষ করে ফেলেছি রে,,,

-আমি আবার কিনে নেব,তুই এখন নিধির সাথে যা।দেখ মেয়েটার গালের কি হাল করেছিস মেরে।

-আচ্ছা,,,,,,,,,,,,,,,

এখন প্রায় রাত্র ৯ টা বাজে হয়তো।আমি ইমুর বাইকের সামনে বামকাত হয়ে বসে রয়েছি আর সে আমার পেছনে বসে বাইক চালাচ্ছে।রাস্তায় মানুষ কম তা না হলে অনেকেই অনেক কথা বলতো আমাদের।ইমুর দু হাতের ফাঁকে আমি বন্ধি হয়ে আছি আর হাজারো কথা বলে চলছি,সে খুব মন দিয়ে আমার কথা টা শুনছে আর আস্তে আস্তে বাইক চালাচ্ছে ,কখনো কখনো আবার আমার গালে চুমু খাওয়ার নাম করে গালটা কামড়ে ধরছে।আমিও এক ফালি হাসি উপহার দিয়ে তার বুকে মাথা রেখে আপন মনেই বলে উঠলাম “পাগল একটা “

@বাউন্ডুলে

Comments