বন্ধুদের প্ল্যান

সারা সকাল পাগলের মতো বাইরে একা একা ঘুরে টায়ার্ড হয়ে দুপুরে হোস্টেলে ফিরলাম। পৃথিবীটা মনে হচ্ছে শূন্য। রুমে ঢুকতেই আমার বন্ধুরা চিৎকার করে উঠলো, 
-- সারপ্রাইজ
 চমকে উঠে দুই পা পিছিয়ে গেলাম। 
-- মাইরা ফ্যালাবি নাকি আমারে? কিসের
   সারপ্রাইজ আজ তো আমার বার্থডেও না।
-- আমরা আজ তোর এখানে থাকবো এটাই
   সারপ্রাইজ।
হাত দিয়ে গুনে গুনে বললাম,
-- এক দুই তিন চার তোরা এই চার চারটা
   পুরুষ ক্যামনে আমার এই ছোট্ট রুমে থাকবি?
পেছন থেকে অমি আর নিয়ন এসে বললো,
-- সারপ্রাইজ। সরি একটু লেট করে ফেললাম। 
-- ওহ্। আপনারাই বাকি ছিলেন। আসেন
   আসেন স্বাগতম।
বিছানা থেকে সিফাত উঠে জানালা টা খুললো, রুমটা অন্ধকার হয়ে ছিল এতক্ষণ আমাকে বলল ফ্যান দিতে। হালকা গরম পড়া শুরু হয়েছে কয়েকদিন হলো।
ফ্যানের সুইচ টা অন করেই বললাম,
-- তো আমার শ্রদ্ধেয় গণ্যমান্য পরম প্রিয়
   বন্ধুগণ আজ রাতে আমার রুমে কিসের
   মাহফিল?
-- উফ্ রুমের কি হাল করে রাখছিস? এখানে
   মানুষ থাকে!   (সিফাত) 
-- মতলব টা আগে বল তো তোদের। হঠাৎ
   সবগুলা এখানে হজম হচ্ছে না।
-- দোস্ত শোন আমরা না একটা প্ল্যান করছি
   (আকাশ)
-- কি প্ল্যান? আগেই বলছি এখন কোন ট্যুরে
   যাইতে পারবো না। মন মেজাজ ঠিক নাই। 
-- আজ বৃহস্পতিবার। নিকিতার গায়ে হলুদ।
   (মুহিব)
-- বারবার বলে কি আমার কলিজাটা কেটে ভুনা
   করে খেতে চাস নাকি তোরা? তোদের এইসব
   কথার অত্যাচারে আমি তোদের ফোন
   ইগনোর করতেছি আর তোরা কিনা এখানে
   এসে উপস্থিত! 
কিছুক্ষণ চুপ থেকে অমি বলল,
-- শোন আমরা প্ল্যান করছি আমরা নিকিতাকে
   তুলে আনবো। (অমি)
-- কিহ্? কি বললি?
-- আমরা নিকিতা কে তুলে এনে তোর সাথে
   বিয়ে দিবো। সোজা বাংলা বুঝিস না? (নিলয়)
-- হা হা। তোরা আর আমাকে হাসাস না প্লিজ।
   যা এখন।
-- রাফিদ সিরিয়াস হ। (সিফাত)
-- শোন ক্লিয়ার কথা, পালিয়ে এনে তখনই বিয়ে
   করা যায় যখন দুজনে রাজি থাকে। নিকিতা
   আমাকে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না। ওকে
   যদি দুইটা অপশন দেওয়া হয়, নিকিতা তুমি
   কি রাফিদকে পেতে চাও নাকি বিষ খেতে
   চাও, সে হাসিমুখে বিষ চুজ করবে। এত ঘৃণা
   করে ও আমাকে।
-- ফালতু বকিস না। এটা তো ভুল বুঝাবুঝির
   কারণে। ও তোকে অনেক ভালোবাসে।
   আমাদের এই ভুল বুঝাবুঝি টা ক্লিয়ার
   করতেই হবে (নিয়ন)
-- নিয়ন তুই ও? তুই না এসব ঝামেলাই জড়াতে
   ভয় পাস।
-- ভয় পাই। কিন্তু সারাজীবন তোদের আলাদা
   দেখতে চাইনা।
-- সারাজীবন জেলে থাকতে চাইনা ভাই। এই
   সেমিস্টার হলেই পড়া শেষ করে ঘুমাবো
   আরামে। ওই করুক গা বিয়ে।
-- বেশি কথা বললে তোরও হাত পা বাঁধা লাগবে
   দেখছি। (অমি)
-- দ্যাখ দোস্ত, পুলিশ টুলিশের ঝামেলা হইবো।
-- সেসব দায়িত্ব আমার। আমার চাচ্চু এসপি।
   আমি সামলাই নিবো ঝামেলা হলে। (অমি)
-- কাজটা ঠিক হচ্ছে না আবার বলছি কিন্তু।
-- চুপ কর তো। রান্না কর এখন খুব খিদা
   লাগছে। সন্ধ্যায় বড় মিশনে যেতে হবে। ক্ষুধার্ত
   পেটে আমি বেশিক্ষণ ঠিক থাকতে পারি না।
   (সিফাত)
-- অ্যাহ্ খিদা লাগছে। আমি আছি এক
   টেনশনে। রুমে তেমন কিছু নাই। বিস্কিট খা।
-- তোর এত্ত কাহিনি শুনতে পারুম না। (সিফাত)
ফোনে রেস্টুরেন্টের মেনু চেক করে খাবার অর্ডার করে দিল সিফাত। 
-- যা আজ বিল আমি দিলাম। বিয়ের পর শোধ
   করে দিবি (সিফাত)
-- আর বিয়ে! হাত পা বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি
    কি তাই ভাব। 
-- এত জানের ভয় নিয়ে প্রেম করতে গেছিলি
   ক্যান। আর এখন রাস্তা রাস্তা কান্নাকাটি করে
   বেড়াচ্ছিস। (অমি)
-- শোন ওর বাড়িতো বেশ দুরে। পৌছাতে 
   দুই-আড়াই ঘন্টা লাগবে।
-- রাত আটটাই রওনা দিব। 
কিছুক্ষণের মধ্যে কাচ্চি আর কোক পারসেল চলে এলো। আমার খাটাশ বন্ধুগলো গপাগপ গিলছে আর আমার মুখে দানাপানি ঢুকছে না চিন্তাই। যদি ধরা পড়ি সবাই, নিকিতাকে কিভাবে ফেস করবো, ও তো আমার কথাই শুনতে চাইনা। দুইমাস আগে আমাদের ব্রেকাপ হয়েছে। সেদিন আমাদের ফ্রেন্ডস দের গেট টুগেদার ছিল। নিকিতা আসতে লেট করছে দেখে আমি ওকে এগিয়ে নিতে গেলাম। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 
-- ভাইয়া, আপনার সাথে একটু জরুরি কথা
   ছিল।
-- জ্বী, আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না।
-- বাট আমি আপনাকে চিনি। আসলে
   অনেকদিন থেকেই আপনাকে ফলো করছি।
   একটা কথা বলার ছিল।
-- কি কথা বলেন।
মেয়েটা হঠাৎ আমার হাত ধরে ফেলল,
-- এইযে, কি করছেন টা কি। হাত ছাড়ুন।
এরই মধ্যে একদম মুখ্য সময়ে নিকিতা আমার সামনে এসে হাজির। আমি জোর করে মেয়েটার হাত ছাড়িয়ে দিলাম।

-- জাস্ট একটাই কোশ্চেন করছি রাফিদ। এই
   মেয়েটা কে? (নিকিতা)
-- বিশ্বাস করো আমি উনাকে চিনি না। 
-- চিনো না কিন্তু সে তোমার হাত ধরে ছিল। বাহ্।
আমি মেয়েটার দিকে ইঙ্গিত করে বললাম,
-- এই যে আপনি কিছু বলছেন না কেন? ওকে
   বলুন যে আমি আপনাকে চিনি না। 
-- আপনি মানে? রাফিদ, এই মেয়েটা কে? আর
   তুমি আমার কেউ না মানে? তুমি একটা
   অপরিচিত মেয়ের সামনে আমাকে গার্লফ্রেন্ড
   পরিচয় দিতে লজ্জা পাচ্ছো? (মেয়েটা)
-- হোয়াট? কিসের গার্লফ্রেন্ড। দেখুন আপনি
   নাটক বন্ধ করুন প্লিজ, নিকিতা আমার
   গার্লফ্রেন্ড। বিলিভ মি নিকিতা, আমি উনাকে
   চিনি না।
   আচ্ছা ওয়েট, অমি সিফাত ওরা কাছাকাছি
   আছে ওদেরকে ডাকছি। ডাকলেই সব সামনে
   চলে আসবে আদৌ জীবনে এই মেয়েকে ওরা
   আমার সাথে দেখছে কি না। 
-- আশ্চর্য, তোমার ফেন্ডস্ কিভাবে জানবে?
   তুমিই তো আমাদের রিলেশনের কথা কাউকে
   জানাতে নিষেধ করেছো। (মেয়েটা)
মেয়েটা সে পর্যায়ে কান্না শুরু করল। তা দেখে,
-- ইনাফ। তুমি থাকো তোমার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে।
   কনগ্রাচুলেশনস। তোমার মতো ছেলের মুখ
   যেন দ্বিতীয়বার না দেখি আমি। (নিকিতা)

কথাগুলা বলে নিকিতা চলে গেল। পরে হাজারবার বুঝানোর ট্রাই করেছি। একটা বারও আমার কথা শোনে নি। বন্ধুরাও ওকে বোঝাতে পারে নি। 
নিলয়ের ডাকে আবার বর্তমানে ফিরে এলাম।
-- কিরে তুই খাবি নাকি তোর খাবারটাও আমি
   খেয়ে নিবো? (নিলয়)
-- গিল তুই। আমার ক্ষুধা নাই। 
খেতে খেতে অমির ফোনে ফোন এলো,
-- হ্যা, যা যা বলছিলাম সব কেনা শেষ? আচ্ছা
  তাহলে গিয়ে রুম সাজা তোরা। খাবার দাবার
  রেডি কর। আসতেছি রাতে। (অমি)
ফোন রাখতেই জিজ্ঞেস করলাম, 
-- কার সাথে কথা বললি?
-- সোমা আর দীপা কে পাঠিয়েছি বিয়ের শপিং
   করতে। আর আয়োজন হচ্ছে অঙ্কিতার
   বাসায়। (অমি)
-- এরা কারা? কোথাথেকে এলো এরা? লজ্জাই
   মাটি খুঁড়ে ঢুকে যেতে মন চাইতেছে।
-- চুপ শালা। (অমি)
-- অঙ্কিতার বাবা মা কই গেছে?
-- ওদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয় মারা গেছে তার
   শ্রাদ্ধে গেছে। বাসায় শুধু ও আর ওর বড় ভাই
   আছে। ওর বড়ভাই সবটা জানে। প্রবলেম
   হবেনা। (অমি)
-- শেষমেষ বড় ভাইটার কাছেও আমার
   মানসম্মান টা ধুইলি।
-- বিয়ে হলে মানসম্মান ঠিক হয়ে যাবে। (অমি)
-- নিকিতারে বুঝাবো ক্যামনে?
-- সেই প্ল্যান ও আছে। তুই একটা ব্যাগ দে তো।
   (আকাশ)
-- ব্যাগ কি করবি?
-- কিছু জরুরি জিনিস রাখবো। মিশনে যাচ্ছি
   খালি হাতে তো যাওয়া যায় না। (আকাশ)
সকল পরামর্শ শেষে সন্ধ্যায় আল্লাহর নাম নিয়ে জান হাতে বেরিয়ে পড়লাম। ভাবতে পারছিনা আমরা কোনো মেয়েকে তুলে আনতে যাচ্ছি। নিকিতার বাড়ির লোকেশন পাঠিয়েছে কেয়া। সে নিকিতার বিয়ের ইভেন্টে আছে। একটা মাইক্রো রিজার্ভ করে বেরিয়ে পড়লাম। বেশ চিল করতে করতে যাচ্ছে আমার বন্ধুরা। গান করছে সবাই মিলে। আর এদিকে আজরাইল আমার জান টেনে ছিড়ে নিয়ে যাবে যাবে ভাব। নিকিতার বাড়িটা একটু গ্রামসাইডে। বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে গাড়িটা দাঁড় করালাম কারণ ভেতরের রাস্তাটা সরু, গাড়ি ঢুকা মুশকিল। নিলয় আর নিয়নকে রেখে আসলাম গাড়িতে। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হেটে হেটে আমরা পাঁচজন এগোচ্ছি। হঠাৎ একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে দৌড়ে আসতেই আমি চমকে গেলাম। আওয়াজ করার আগেই অমি আমার মুখ চেপে ধরল। পৌছাতে রাত্রি সাড়ে দশটা বেজে গেল।
বাড়ির লোকেশনে পৌছে দেখলাম ইভেন্ট শেষ। একটা বাড়ির একপাশে দুইজন লুকিয়ে পড়লাম। বাকি দুইজন ঝোপে। গ্রামে এতরাতে সচরাচর বাইরে মানুষ থাকে না। তবুও মনে মনে দোয়া পড়ছি। আকাশ নিকিতার বাড়ির সামনের নারিকেল গাছটাই উঠলো। বেশ অবাক হচ্ছি, গাছের সাথে মেয়ে পালিয়ে আনার সম্পর্ক কি। অমি চুপচাপ গিয়ে নিকিতাদের বাড়ির মেইন সুইচটা অফ করল। ব্যাগ থেকে প্লাস বের করে আকাশ গাছ থেকে কারেন্টের তারটা কেটে দিল। ব্যাস পুরো বাড়ি অন্ধকার। কিছুক্ষণের মধ্যেই কেয়া নিকিতাকে নিয়ে বেলকুনিতে বেরিয়ে এলো। চুম্বক দিয়ে কিভাবে যেন করে মুহিব দরজার তালাটা খুলে ফেলল। নিকিতা দেখি অজ্ঞান। কেয়া ওর ভর সামলাতে পারছে না দেখে আমি ওকে কোলে তুলে হাটতে শুরু করলাম। অন্যসময় হলে ব্যাপারটা বেশ রোমান্টিক কিন্তু এখন আমি খুব হাঁপিয়ে গেছি। রাস্তাটা যেন ফুরাতেই চাচ্ছে না। অবশেষে এসে আমরা গাড়িতে উঠলাম। এতক্ষণ ভয়ে কেউ কারো সাথে কথা বলি নি। এবার হাফ ছেড়ে জিজ্ঞেস করলাম, 
-- নিকিতা অজ্ঞান কেন? কিভাবে এটা হলো।
-- তো তুই কি ভাবছিস ও সজ্ঞানে আমার ডাকে
   সাড়া দিয়ে তোর কাছে ছুটে আসতো? আমি
   জুসের মধ্যে ওধুধ মিশাইছি। (কেয়া)
-- কেউ দেখেনি? ওর কিছু হবে না তো?
-- আরেহ না। নরমাল ওষুধ। আর আমিই শুধু
   ওর রুমে ছিলাম। কেউ ছিলনা। (কেয়া)
-- চুপ কর তোরা এখন দয়া করে। (নিলয়)
-- মামা আপনারা এইডা কি করলেন? আমার
   আবার কেস কাচারি হইবো না তো?
   (গাড়িচালক)
-- না মামা। কিচ্ছু হবেনা। চালান আপনি। (অমি)
আমরা এসে অঙ্কিতাদের বাড়ি পৌছালাম। রাত দুইটা বাজে। গেটের সামনে হাজির অঙ্কিতার বড় ভাই নিশান। আমাদের দেখে একটু হাসলো। ভেতরে গিয়ে দেখলাম পুরো বাড়িটা সাজিয়েছে আমার গুনধর বান্ধবী দীপা, সোমা আর অঙ্কিতা। আমাদের আসতে দেখেই বলল, 
-- ওয়েলকাম।
-- ওই পানি দে । হাঁপাই গেছি টেনশনে।
   (আকাশ ও মুহিব)
নিকিতাকে অঙ্কিতার রুমে শুইয়ে দিলাম। চোখেমুখে জল ছিটাইতেই লাফ দিয়ে উঠলো। 
-- আমি এখানে কেন? তোরা এখানে কেন?
-- দোস্ত তোর আর রাফিদের বিয়ে একটু পর।
   (দীপা)
-- কিহ্! আমি মরে যাবো তাও ওরে বিয়ে করবো
   না। কেয়া তুই আমার সাথে এটা করতে
   পারলি। আর দীপা তোর নানী নাকি খুব
   অসুখ বিয়েতে আসতে পারবি না। অঙ্কিতা
   তুই নাকি ট্যুরে? সোমা তোর নাকি করোনা
   হইছে? এত্ত বড় ধোকা ! 
-- কিহ্ করোনা (অমি ও মুহিব)
-- আরেহ্ না। ওইটা মিথ্যা বলছিলাম। (সোমা)
নিকিতা রাগে গজগজিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল তখন অঙ্কিতা বলল, 
-- যেয়ে লাভ নাই। বাইরে থেকে তালা দিয়ে
   ভাইয়া বন্ধুর বাসায় চলে গেছে। সকালে
   আসবে। (অঙ্কিতা)
-- তোরা আমার সাথে এটা কেন করলি? কাল
   আমার বিয়ে। বাবা লজ্জাই মুখ দেখাতে
   পারবে না। (নিকিতা)
-- প্লিজ একটা বার আমার কথাটা শোনো   
   (আমি)
-- (নিকিতা চুপ করে থাকলো)
-- এমনে কাজ হবে না। নিয়ন, ওই মেয়েরে ডাক!
   (অমি)
-- কোন মেয়ে? (নিকিতা)
-- ওয়েট কর দেখতে পাবি। (অমি)
কপালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় আমাদের ব্রেকাপকারিনী সেই মেয়ে সামনে আসলো। এটা যে প্ল্যানে ছিল আমিই জানতাম না। 
-- নাও বোন আমার, এখন গড়গড় করে সত্যিটা
   বলো নাহলে তোমার বয়ফ্রেন্ডরে ফোন দিচ্ছি।
   নিজের ব্রেকাপ তখন ক্যামনে সামলাও
   দেখবো। (অমি)
-- আমার নাম মিলি। আসলে আমার কাজিন
   মাহিন নিকিতা আপুকে খুব পছন্দ করে তাই
   আমি আপনাদের ব্রেকআপ করানোর জন্য
   ওই নাটকটা করেছিলাম। কিন্তু জানতাম না যে
   নিকিতা এত তাড়াতাড়ি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবে।
   আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ আমার বয়ফ্রেন্ড
   কে কিছু বলবেন না। 
-- এই মেয়ে সত্যি করে বলো, আমার বন্ধুরা
   তোমার ওপর প্রেশার ক্রিয়েট করছে না তো?
   (নিকিতা)
-- না আপু। আমি তো রাফিদ চিনতামই না। 
  উনিও টোটালি চিনে না আমাকে। এই দেখুন 
  আমার কাজিনের সাথে কনভারসেশন। আমি
  খুবই লজ্জিত। তবে আজ সবটা ঠিক হচ্ছে 
  দেখে নিজেরও বেশ রিলিফ লাগছে। 
-- আচ্ছা, মাহিনরে সাইজ করছি পরে। আর
   শোন নিকিতা, একটা সম্পর্কে বিশ্বাস থাকা
   দরকার। থার্ড পার্টির কথায় লাফায়ে উঠতে
   হয় না। (মুহিব)
-- তোর জন্য নারিকেল গাছ থেকে নামতে গিয়ে
   পা ছিলে কি অবস্থা, দ্যাখ (আকাশ)
-- নারিকেল গাছে মানে? (নিকিতা) 
-- কারেন্টের তার কাটলাম তোর বাড়ির।
   (আকাশ)
বাকিরা হেসে উঠলো। নিকিতা এবার আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
-- সরি। আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম। তাই
   রাগের মাথায় বিয়ে করতে চলে গেছিলাম।
-- আর তোমার এই ভুলের কারণে সারাজীবনের
   জন্য আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলতাম।
আমাদের কথায় ছেদ ফেলে হাতে কয়েকটা শপিং ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে সোমা বলল,
-- ওই তোদের মাফ সাফ পরে করিস। রেডি হয়ে
   আই তাড়াতাড়ি। কাজি সাহেব ওয়েট করছে। 
অতঃপর নিকিতার সাথে আমার শুভ বিবাহ্ সম্পন্ন হলো। সকাল সকাল বন্ধুদের নিয়ে নিকিতার বাসায় পৌছালাম। আমার বন্ধুরা ওর বাবাকে সবটা বুঝিয়ে বলল। শুনে ওর বাবা নিকিতাকে বলল,
-- তোমাকে তো কখনও বিয়ের জন্য জোর
   করিনি আমি। তুমি আমাকে বললেই পারতা
   যে তোমার পছন্দের কেউ আছে। এতো
   কঠোর বাবা ও তো আমি নই তুমি জানো।
-- বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা
   করে দাও। রাফিদ অনেক ভালো ছেলে। আমি
   ওর সাথে সুখি হবো। 
নিকিতার বাবা আমাকে বলল, 
-- তাহলে এখন তোমার বাবা মাকে জানাও।
-- আংকেল আমার মা নেই। বাবাকে
   জানিয়েছি। আমার বাবা খুব ভালো মানুষ।
   উনি শুনে খুশিই হয়েছেন। বাবা দুপুরে পৌছে
   যাবে।
-- তাহলে আমরা আয়োজন শুরু করি।
   (নিকিতার মা)
-- জ্বি আন্টি অনেক আয়োজন করুন। আমরা
   অনেক কষ্ট করেছি এই পাগল পাগলিরে
   মিলাইতে। (সিফাত)
সবাই একযোগে হেসে উঠল। একটা রুমে আমরা সবাই বসে আছি। মেয়েরা অন্য রুমে। 
-- আজ তোরা না থাকলে যে কি হতো ! আমার
   জন্য তোরা বিপদে পড়তে পারতিস। 
-- জেলে বসেও চিল হইতো সবাই মিলে। (নিয়ন)
-- সিরিয়াসলি, কি বলে যে ধন্যবাদ দিব তোদের।
-- ধন্যবাদ লাগতো না। প্রত্যেক মাসে মাসে ট্রিট
   দিবি। (সিফাত)
-- উহু, আমি তো প্রেসিডেন্ট, খালি ট্রিট দিতেই
   থাকবো।
-- এইতো বের হইছে তোর আসল রূপ। এইটাই
   ঠিক আছে। বন্ধুদের ধন্যবাদ লাগে না। (অমি)
পরম আবেগে সব কইটাকে জড়িয়ে ধরলাম।
(সমাপ্তি)
গল্প: বন্ধুদের প্ল্যান

লেখনীতে: নূর-এ সাবা জান্নাত

Comments

Popular posts from this blog

বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক সারের কাজ।

বিয়ে ছাড়াই বউ!

ভালোবাসার শেষ ইচ্ছা